আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিশিগানে জ্বালানির দামে বড় উল্লম্ফন ওয়াটারফোর্ডে গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত, গ্রেপ্তার ২ অনলাইন জুয়ার ফাঁদে মিশিগান পন্টিয়াকে গুলিতে ৩ বছরের শিশু নিহত যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি উৎপাদন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইউএডব্লিউ প্রেসিডেন্ট ভিন্নমত থাকবে, দেশের স্বার্থে ঐকমত্যও থাকতে হবে : রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি  মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ‘ফ্লক’ ক্যামেরা নিয়ে মেট্রো ডেট্রয়েটে বাড়ছে মতভেদ মিশিগানে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ১১ জন ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু ১২ নভেম্বর বাইডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্গমন বিধি বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন দুর্গোৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে : রাষ্ট্রপতি ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ রচেস্টারে স্কুল ক্যাম্পাসে ই-বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ওয়াটারফোর্ডে নারীর সামনে অশ্লীল আচরণ, স্টার্লিং হাইটসের ব্যক্তি গ্রেপ্তার মিশিগানে কবে নামবে প্রথম তুষার? জানুন সম্ভাব্য তারিখ মিশিগানে দেখা মিলেছে বিরল ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ এমএসইউর সাবেক চিকিৎসক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার
চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য বাড়ছে রেফারেল

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে মিশিগান

  • আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ১১:০১:১২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ১১:০১:১২ অপরাহ্ন
অনলাইন জুয়ার ফাঁদে মিশিগান
মিশিগানে প্রায় ছয় বছর ধরে অনলাইন গেমিং পরিষেবা বৈধ। এসব বৈধ পরিষেবার মধ্যে ‘ফ্যানডিউল’ (FanDuel) স্পোর্টস বেটিং অন্যতম। অঙ্গরাজ্যের নথিপত্র অনুযায়ী, অনলাইন বা স্পোর্টস গেমিং-সংক্রান্ত জুয়া খেলার সমস্যা ও আসক্তির কারণে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করা ব্যক্তির সংখ্যা এই ধরনের গেমিং বৈধ হওয়ার পর থেকে প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে/Photo : Andy Morrison, The Detroit News

ল্যান্সিং, ১৬ সেপ্টেম্বর : মিশিগানে ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া ও অনলাইন স্পোর্টস বেটিং বৈধ হওয়ার পর থেকে এ-সংক্রান্ত আসক্তি ও সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে চিকিৎসার জন্য রেফার করা ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকই ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া নিয়ে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।
২০২১ অর্থবছরে মিশিগানে বৈধভাবে ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া ও অনলাইন স্পোর্টস বেটিং চালু হয়। ওই বছর জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যা বিষয়ক হটলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য রেফার করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। একই সময়ে স্লট মেশিন-সংক্রান্ত সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের হার ছিল সর্বোচ্চ—প্রায় ৩৬ শতাংশ।
পরবর্তী বছরগুলোতে ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া নিয়ে সমস্যায় থাকা মানুষের অনুপাত ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে এ হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়ার কারণে সমস্যায় পড়া মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের ‘সাবস্ট্যান্স ইউজ, গ্যাম্বলিং অ্যান্ড এপিডেমিওলজি’ বিভাগের পরিচালক অ্যাঞ্জেলা স্মিথ-বাটারউইক বলেন, “হ্যাঁ, আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছিলাম এবং এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগও ছিল।”
স্মিথ-বাটারউইক বলেন, “অনলাইন জুয়ার সুযোগ এমন অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করছে, যাদের ক্যাসিনোতে যাওয়ার কোনো আগ্রহই নেই। কিন্তু যখন জুয়া হাতের মুঠোয় থাকে এবং কোনো বন্ধু এতে যুক্ত থাকে, তখন নিজেও এতে জড়িয়ে পড়া খুব সহজ হয়ে যায়।”
মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অন প্রবলেম গ্যাম্বলিংয়ের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক মার্লিন ওয়ার্নার বলেন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনলাইন জুয়া বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তও সামনে আসছে। মিশিগানের পরিসংখ্যানও এমন পর্যবেক্ষণ ও ধারণাকে সমর্থন করছে যে, জুয়ার এই নতুন পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল অনলাইন জুয়ার পরিবেশে এসব তথ্য ও প্রবণতা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন ওয়ার্নার। বৈধ অনলাইন জুয়ার ক্রমবিকাশ, অবৈধ জুয়ার অব্যাহত উপস্থিতি এবং ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ বা ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজির বিস্তারের কারণে বিভিন্ন প্রবণতা নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ওয়ার্নার বলেন, “গেমগুলোর ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। যারা এ খাত নিয়ে কাজ করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা—আমার মনে হয় না, তারা সবাই ‘আই-গ্যাম্বলিং’ (অনলাইন জুয়া) সম্পর্কে এতটা জানেন যে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। আমরা মূলত প্রচলিত ক্যাসিনো বা স্পোর্টসবুকের অভিজ্ঞতাকে কোনোভাবে অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি।”
‘ন্যাশনাল সার্ভে অন গ্যাম্বলিং অ্যাটিটিউডস অ্যান্ড গ্যাম্বলিং এক্সপেরিয়েন্সেস’-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে সব ধরনের জুয়াড়ির মধ্যে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যা বা আসক্তির হার (problematic play) বেড়েছিল। তবে ২০২৪ সাল নাগাদ তা আবার তুলনামূলক স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমস্যাপূর্ণ জুয়া খেলার আচরণের কথা স্বীকার করা জুয়াড়ির হার ২০১৮ সালে ছিল ৭ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ২০২৪ সালে কমে ৮ শতাংশে নেমে আসে।
ওয়ার্নার বলেন, জুয়ার নতুন কোনো পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রেও শুরুতে এ ধরনের আকস্মিক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তা স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে। তবে অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ এ ক্ষেত্রে অনেকগুলো পরিবর্তনশীল বিষয় বা ‘ভেরিয়েবল’ কাজ করছে।
এদিকে মিশিগানে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসার জন্য রেফার করা ব্যক্তিদের সমস্যার ধরন ও শ্রেণিবিভাগ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (Department of Health and Human Services)। এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যে জুয়া খেলার প্রবণতা ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, মিশিগানে কারা এবং কত ঘনঘন জুয়া খেলছেন এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে চলতি শরতে রাজ্যজুড়ে জুয়া খেলার প্রবণতা নিয়ে একটি জরিপ শুরু করার পরিকল্পনা করছে বিভাগটি। ২০১৩ সালের পর এটিই হবে এ ধরনের প্রথম রাজ্যব্যাপী জরিপ।
জরিপের মাধ্যমে বিভিন্ন জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে বয়স সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রবণতায় দেখা গেছে, অনলাইন জুয়া তরুণদের তুলনামূলকভাবে বেশি আকৃষ্ট করছে। তাই জরিপে বয়সের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে বিভাগটি।
স্মিথ-বাটারউইক বলেন, “জনগোষ্ঠীর এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগে ক্যাসিনোগুলোতে মূলত বয়স্কদেরই বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন তরুণদের একটি বড় অংশও এতে যুক্ত হচ্ছে। এই তরুণরা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অথচ তারা এমন একটি জুয়া ব্যবস্থার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সহজলভ্য মনে হয়।”

অনলাইন জুয়ার ব্যাপক প্রসার, বাড়ছে রাজস্ব
২০১৯ সালে তৎকালীন রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আইনসভা এবং ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে মিশিগানে অনলাইন স্পোর্টস বেটিং (খেলাধুলায় বাজি ধরা) এবং ইন্টারনেট গেমিং বৈধতা পায়। ২০২১ সালের আগে এসব সুবিধা মিশিগানের জুয়া ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি কার্যকরভাবে যুক্ত হয়নি। তবে এরপরই নতুন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বিশেষ করে ইন্টারনেট ক্যাসিনো গেমিং থেকে মিশিগানের আয় পাঁচ বছর বয়সী এই বাজারকে ঘিরে করা আগের সব পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে অনলাইন গেমিং থেকে রাজ্যের মোট আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালে এ খাতে মিশিগান জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ তিনটি রাজ্যের মধ্যে স্থান করে নেয়।
রাজ্যের নথিপত্র অনুযায়ী, ইন্টারনেট স্পোর্টস বেটিং শিল্পটিও তুলনামূলক ছোট পরিসরে হলেও প্রায় প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে এ খাতের মোট আয় ৬৭১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
অনলাইন জুয়ার জনপ্রিয়তায় এই উল্লম্ফন এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ডেট্রয়েটের তিনটি প্রথাগত বা স্থাপনা-ভিত্তিক ক্যাসিনোর সম্মিলিত আয় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।
রাজ্যের নথিপত্রে আরও দেখা যায়, ইন্টারনেট গেমিং বৈধ হওয়ার পর এবং অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সহায়তা, পরামর্শ বা চিকিৎসার জন্য রেফারেলের সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছিল। তবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এ ধরনের রেফারেলের সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
২০২১ অর্থবছরে, রাজ্য কর্তৃপক্ষের ‘সমস্যাপূর্ণ জুয়া’ (problem gambling) বিষয়ক হটলাইনের মাধ্যমে ৩৯৮ জনকে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ ব্যক্তি ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া—যার মধ্যে অনলাইন গেমিং ও অনলাইন স্পোর্টস বেটিং অন্তর্ভুক্ত—সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।
চিকিৎসার জন্য সুপারিশকৃত মানুষের সংখ্যা ২০২২ অর্থবছরে ৫০৮ জনে পৌঁছালেও ২০২৩ অর্থবছরে তা কমে ৪৮১ জনে দাঁড়ায়। পরবর্তী দুই অর্থবছরে এ সংখ্যা আরও কমে যথাক্রমে ৪৬৮ ও ৪৩২ জনে নেমে আসে। তবে এ সময়ে ইন্টারনেটভিত্তিক জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যায় থাকা মানুষের অনুপাত ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২ অর্থবছরে এ হার ছিল ২৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৩৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৫১ শতাংশ এবং ২০২৫ অর্থবছরে ৫০ শতাংশ।
স্পোর্টস বেটিং অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট জো ম্যালোনির মতে, জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যায় সহায়তা নিতে মানুষের আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো জুয়াকে বৈধতা দেওয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিরাপদে জুয়া খেলার পদ্ধতি ও সহায়তা পাওয়ার নির্দেশনা যুক্ত হওয়ায় সমস্যার ক্ষেত্রে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি এখন সামাজিকভাবে আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
ম্যালেনি বলেন, “সমস্যাপূর্ণ জুয়া ও দায়িত্বশীল জুয়া খেলা নিয়ে সহায়তা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। মিশিগানের উদাহরণ ধরলে, গত তিন, চার বা পাঁচ বছরে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মানুষকে এ বিষয়ে জানাতে অসাধারণ কাজ করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, সমস্যাপূর্ণ বা আসক্তিজনিত জুয়ার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সহজলভ্য ও সাংস্কৃতিকভাবে উপযোগী সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে।”
একই সময়ে, ইন্টারনেট গেমিং ও অনলাইন স্পোর্টস বেটিং থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের সরিয়ে নেওয়া বা ‘সেল্ফ-এক্সক্লুড’ করার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গেমিং কন্ট্রোল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইন গেমিং থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রত্যাহারের জন্য মিশিগানের ‘রেসপন্সিবল গেমিং ডেটাবেসে’ নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ৭৮ জন। ২০২২ সালের শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৩ জনে। ২০২৩ সালের শেষে তা ৬৯১, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১,১৫৬ এবং ২০২৫ সালের শেষে ১,৬৪৪ জনে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, অনলাইন স্পোর্টস বেটিং থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ২০২১ সালের শেষে ছিল ৭৪ জন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে ৩১১ জন, ২০২৩ সালের শেষে ৬৪৪ জন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১,০৯৩ জন এবং ২০২৫ সালের শেষে ১,৫৫০ জনে দাঁড়ায়।
অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনলাইন গেমিং ও স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই সরাসরি নিজেদের এসব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার বা ‘সেল্ফ-এক্সক্লুড’ করার ব্যবস্থা নিতে পারেন।

জুয়া প্রতিরোধে বাড়ছে সেবা
 ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা কোন ধরনের জুয়ায় জড়িত ছিলেন, সে-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে একটি তৃতীয় পক্ষ। অঙ্গরাজ্যের হয়ে তারা সমস্যা-বিষয়ক হটলাইন পরিচালনা করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা সহায়তার জন্য পরামর্শ ও রেফারেল প্রদান করে। সাধারণত হটলাইনে ফোন করা ব্যক্তিরাই তাদের সমস্যার কারণ বা জুয়ার ধরন সম্পর্কে তথ্য দেন। কখনো কখনো ফোন গ্রহণকারীরাও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।
স্মিথ-বাটারউইক জানান, এসব তথ্য শুধু উপযুক্ত চিকিৎসা বা সহায়তা নির্ধারণেই নয়, কোন ধরনের জুয়া মানুষকে সমস্যাপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—সে বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহকারী তৃতীয় পক্ষটি এখন হটলাইনে যোগাযোগকারীদের বয়সসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
এদিকে, ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো মিশিগানে জুয়া খেলার প্রবণতা নিয়ে একটি নতুন জরিপ এ শরতে শুরু হতে যাচ্ছে। জরিপের মাধ্যমে মিশিগানে কারা জুয়া খেলছেন, কত ঘন ঘন খেলছেন এবং কোন মাধ্যমে জুয়ায় অংশ নিচ্ছেন—এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে
স্মিথ-বাটারউইক জানান, অতিরিক্ত তথ্যের অপেক্ষা থাকলেও অনলাইন গেমিং ও ইন্টারনেটভিত্তিক স্পোর্টস বেটিং বৈধ হওয়ার পর থেকেই মিশিগানে এ-সংক্রান্ত সহায়তা ও সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “এর ফলে আমাদের সেবার পরিধি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।”
অঙ্গরাজ্যটি জুয়া প্রতিরোধে প্রচারণামূলক কার্যক্রমেও পরিবর্তন এনেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জুয়া প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
পাশাপাশি, পরীক্ষামূলকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগান ও আপার পেনিনসুলা এলাকায় আবাসিক চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে। এর আগে আবাসিক চিকিৎসার জন্য রোগীদের লুইজিয়ানায় পাঠানো হতো।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
ওয়াটারফোর্ডে গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত, গ্রেপ্তার ২

ওয়াটারফোর্ডে গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত, গ্রেপ্তার ২