হ্যামট্রাম্যাক, ২২ সেপ্টেম্বর : মেধা, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে সঙ্গী করে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন হ্যামট্রাম্যাক সিটির চার মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা হলেন-অনন্যা চন্দ জেসি, নিবেদিতা রায় রিয়া, কুয়াশা পাল ও মৌমিতা রায়। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাই স্কুল থেকে চার পয়েন্টের বেশি জিপিএ অর্জন করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল হ্যামট্রাম্যাকের এই চার শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তাদের পরিবারকেই নয়, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিকেও গর্বিত করেছে। কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষার প্রতি গভীর নিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্পষ্ট লক্ষ্যই তাদের প্রত্যেকের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
মৌলভীবাজার জেলার অধিবাসী বিশ্বেসর চন্দ ও শেলী শীলের কন্যা অনন্যা চন্দ জেসি ৪.৩১ জিপিএ অর্জন করে ভর্তি হয়েছেন Harvard University-এ। ভবিষ্যতে নিউরোসায়েন্স (Neuroscience) নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান অনন্যা। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার এই অর্জন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
হবিগঞ্জ জেলার অধিবাসী রাখী রঞ্জন রায় ও নীলিমা রায়ের কন্যা নিবেদিতা রায় রিয়া ভর্তি হয়েছেন মিশিগানের প্রাচীন ও খ্যাতনামা University of Michigan-এ। প্রিমেড নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তার।
সুনামগঞ্জ জেলার অধিবাসী মানবেশ রায়ের কন্যা মৌমিতা রায়ও ভর্তি হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল জগতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান তিনি।
সিলেট জেলার অধিবাসী সুজিত পাল ও চৈতি পালের কন্যা কুয়াশা পাল একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নতুন কিছু করার প্রত্যয় রয়েছে তার।
চার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের এই নতুন অধ্যায় তাদের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি একটি বৃহত্তর সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। তাদের অর্জনও ভবিষ্যতে জ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজে অবদান রাখার পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ ও অগ্রযাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
চার তরুণীর এই অর্জনের পেছনে রয়েছে তাদের বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা। সন্তানদের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে ধারণ করে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন অভিভাবকেরা। বাবা-মায়ের সেই স্বপ্ন আজ জায়গা করে নিয়েছে হার্ভার্ড ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মতো বিশ্বখ্যাত শিক্ষাঙ্গনে।
হ্যামট্রাম্যাকের এই চার কন্যার সাফল্য তাই শুধু চারটি পরিবারের আনন্দের সংবাদ নয়; এটি পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের জন্য গর্ব ও আশার এক উজ্জ্বল গল্প। তাদের এই অর্জন প্রমাণ করে, মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রবাসের নতুন প্রজন্মও বিশ্বশিক্ষার অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। এই চার কন্যার সাফল্য হয়ে উঠুক আরও অসংখ্য স্বপ্নবান তরুণ-তরুণীর পথচলার অনুপ্রেরণা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :