সিউয়ান সং/Oakland County Sheriff's Office
ওকল্যান্ড কাউন্টি, ২৮ অক্টোবর : বড় ধরনের গিফট কার্ড জালিয়াতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ‘নো-কনটেস্ট’ আবেদন জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তি।
মিশিগান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, সিউয়ান সং গত ২১ অক্টোবর ওকল্যান্ড কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এ আবেদন জানান। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মিশিগানের আইনে ‘নো-কনটেস্ট’ আবেদনের অর্থ হলো, আসামি অভিযোগের বিষয়ে দোষ স্বীকার করছেন না, তবে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছেন না। এ ধরনের আবেদন সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দোষ স্বীকারের মতোই বিবেচিত হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার আলহামব্রার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী সিউয়ান সংয়ের সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জালিয়াতিপূর্ণ আর্থিক লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত উপকরণ নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।
সংয়ের আইনজীবী জর্ডান গোল্ডবার্গ বুধবার জানিয়েছেন, এ মামলা নিয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
মামলার প্রেক্ষাপট
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ খুচরা অপরাধ চক্রের সদস্য ছিলেন। চক্রটি হোয়াইট লেক, ওয়াটারফোর্ড, অবার্ন হিলস, সাউথগেট, অ্যালেন পার্ক ও টেলর এলাকার ‘মেইজার’ (Meijer) স্টোরগুলোতে কারসাজি করা গিফট কার্ড ছড়িয়ে দিয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, মিশিগান স্টেট পুলিশ এবং মিশিগান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ‘ফোকাসড অর্গানাইজড রিটেইল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট’ (FORCE) টিম যৌথভাবে মামলাটির তদন্ত করেছে। ২০২৩ সালে গঠিত FORCE টিম মূলত খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য চুরি, পুনরায় প্যাকেটজাত এবং মুনাফার জন্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কাজ করে। চলতি বছরের মার্চ মাসে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা সিউয়ান সংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, সংয়ের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগে যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে, তা সাধারণত খুচরা দোকান থেকে নতুন গিফট কার্ড চুরির মাধ্যমে শুরু হয়।
তাতে অর্থ জমা করা উচিত।"
অপরাধীরা উপহার কার্ডের ওপর কারসাজি করে সেগুলোর গোপন রিডেম্পশন নম্বর বের করে নিত। এরপর নম্বরগুলো লিখে রেখে আঠা দিয়ে আবার ঢেকে দিত। সবশেষে, যে দোকান থেকে কার্ডগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই সেগুলো ফিরিয়ে রাখত।
তদন্তকারীদের মতে, এরপর প্রতারকরা কম্পিউটারের মাধ্যমে নজর রাখত, কখন কারচুপি করা কার্ডগুলো সক্রিয় করা হচ্ছে। কোনো ক্রেতা কার্ডে অর্থ জমা করলেই সেই অর্থ অন্য একটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়ে যেত। ফলে, উপহার হিসেবে দেওয়ার বা ব্যবহারের আগেই কার্ডগুলোর অর্থ হাতিয়ে নিত প্রতারকরা।
মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের ‘ফোর্স’ (FORCE) টিম, মিশিগান স্টেট পুলিশ এবং ইউএস পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই সহযোগিতার ফলেই একটি বড় প্রতারক চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং দণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, উপহার কার্ড কেনার সময় ক্রেতাদের সেগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। কার্ডে কোনো ধরনের কারসাজি বা পরিবর্তনের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাতে অর্থ জমা করা উচিত।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :