আমেরিকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে আল-সায়েদের বাজিমাত জেমসকে হারিয়ে মিশিগানের গভর্নর বেনসন ডেট্রয়েটে বাড়ির ভেতর গুলিতে দুই বছরের শিশু গুরুতর আহত আই-৯৬ মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, নিহত ১ হ্যামট্রাম্যাকের মেয়রের চেয়ারে বসছেন মুহিত, ৮ নভেম্বর শপথ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে এগিয়ে এল-সায়েদ, পিছিয়ে রজার্স আজ মিশিগানে ভোট,  ভাগ্য পরীক্ষায় দুই দল ট্রাম্পের আরব আমেরিকান বিষয়ক দূত ও উপদেষ্টা হলেন আমের গালিব নভেম্বরের শুরুতে উষ্ণ মিশিগান, সপ্তাহান্তে কমবে তাপমাত্রা রচেস্টার হিলসে ম্যাসাজের সময় নারীকে নিপীড়নের অভিযোগ লজ ফ্রিওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনায় তিন নারী নিহত মিশিগানে বেকারত্ব ভাতার সেবায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, চালু ৯ নভেম্বর হ্যালোউইনের রাতে ডেট্রয়েটে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ ৫ বছরের শিশু জনসমর্থন নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন মিশিগানের গভর্নর হুইটমার আজ শেষ হচ্ছে ডেলাইট সেভিং  টাইম, ঘড়ির কাঁটা পেছাবে এক ঘণ্টা আজ হ্যালোইন উৎসবে মাতবে মেট্রো ডেট্রয়েট, প্রস্তুত বিভিন্ন শহর আদালতের রায়ে হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র পদে মুহিতের জয়  ম্যাডিসন হাইটসে হ্যালোউইন দোকানে গুলি, নিহত ১ অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন ডেট্রয়েটের আর্চবিশপ মিশিগানে কয়লা ছাই থেকে সিমেন্ট তৈরির উদ্যোগ

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে এগিয়ে এল-সায়েদ, পিছিয়ে রজার্স

  • আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১২:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১২:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে এগিয়ে এল-সায়েদ, পিছিয়ে রজার্স
ডেট্রয়েট, ৪ নভেম্বর : মিশিগানের ইউএস সিনেট আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, এল-সায়েদ পেয়েছেন ৫৩ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট। তখন পর্যন্ত মোট ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায় নানা বিতর্ক ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। লিবার্টেরিয়ান পার্টির প্রার্থী লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন প্রায় ১ শতাংশ ভোট।
সিনেটে পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রচেষ্টায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭। এই নির্বাচনী লড়াই জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর মেরুকরণেরও প্রতিফলন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যান আরবারের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী আব্দুল এল-সায়েদ ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মার্কিন রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব এবং সাধারণ পরিবারের ওপর ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বা সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট লেক টাউনশিপের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স সাত মেয়াদে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দাম কমানো, রাজ্যে উৎপাদনশিল্প ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।
দুই প্রার্থীই মিশিগানের সেই সিনেট আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ২০১৫ সাল থেকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের দখলে ছিল। ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের বাসিন্দা পিটার্স তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে যে ফলাফলই আসুক না কেন, তা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করতে পারে। আব্দুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম এবং ১৯৬৯ সালের পর উচ্চকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ডেমোক্র্যাটিক চিকিৎসক।
এল-সায়েদের বিজয় মিশিগানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও প্রগতিশীল ধারার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে তাঁর সমর্থকদের যুক্তিকে আরও জোরালো করবে।
ধর্মীয় পরিচয় কিংবা আরবি নামের কারণে এল-সায়েদ ভোটারদের সমর্থন পাবেন না—এমন ধারণারও বিরোধিতা করেছেন তিনি।
নির্বাচনের আগের রাতে ডেট্রয়েটের ম্যাজেস্টিক থিয়েটারে আয়োজিত এক জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে এল-সায়েদ বলেন, “তারা যখন বলে যে আমি জিততে পারব না, তখন আসলে তারা আমার কথা বলছে না, তারা আপনাদের কথা বলছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মিশিগানকে চিনি। আমি জানি, এই অঙ্গরাজ্যের মানুষ কতটা উদারমনা, মুক্তচিন্তার অধিকারী, আন্তরিক এবং অদম্য।”
রজার্স নির্বাচিত হলে গত ৫০ বছরের মধ্যে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়া দ্বিতীয় রিপাবলিকান হবেন তিনি। এর আগে ১৯৯৪ সালে রিপাবলিকান স্পেন্সার আব্রাহাম সিনেট আসনে জয়ী হয়েছিলেন। পরে ২০০০ সালের নির্বাচনে তিনি ল্যান্সিংয়ের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেবি স্টাবেনোর কাছে পরাজিত হন। দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে প্রায় ১৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান রজার্স।
নির্বাচনের আগের দিন রচেস্টার হিলসে রিপাবলিকান দলের অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক জনসভায় রজার্স বলেন, “এটি বাম বা ডানপন্থার রাজনীতির চেয়েও বড় বিষয়। এটি আসলে আমেরিকার পরিচয় এবং আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন আমেরিকা রেখে যাব, তা নিয়ে প্রশ্ন।”
মিশিগানের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নানা নাটকীয় ও বিতর্কিত মোড় নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, যেখানে একটি ভুয়া জনমত জরিপকে কেন্দ্র করে এক প্রার্থী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইরান যুদ্ধ এবং কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এল-সায়েদের মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের কথিত সম্পর্ক নিয়েও নানা সমালোচনা ও আক্রমণ চালানো হয়।
নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ১ নভেম্বর, এল-সায়েদের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বার্মিংহাম থেকে চার মেয়াদে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হেলি স্টিভেন্স অঙ্গরাজ্যজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন। তিনি ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পরই সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
স্টিভেন্স অভিযোগ করেন, ইসরায়েলবিরোধী একটি বহিরাগত বিজ্ঞাপনের নিন্দা জানানোর দাবি তোলার পর এল-সায়েদ তাঁকে নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় আর স্বাগত জানাননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একে দলত্যাগই বলতে পারেন। দেখুন, আমি কেবল সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলছি, ঠিক আছে?”
ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে তীব্র মতপার্থক্যের জেরে দুই সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বীর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা মঙ্গলবার রজার্স ও এল-সায়েদের মধ্যকার মূল নির্বাচনী লড়াই থেকে কিছুটা মনোযোগ সরিয়ে নেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানে এরই মধ্যে ২০ লাখের বেশি ভোটার ভোট দেওয়ায় ঘটনাটি রজার্সের পক্ষে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার জন্য সম্ভবত অনেক দেরিতে ঘটেছে।
রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘হারবার স্ট্র্যাটেজিস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন সেলেক বলেন, “এটি সত্যিই অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মিশিগানে আগে এমন ঘটনা কখনো দেখা যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি মাইক রজার্সের জন্য বড় একটি উপহার। তবে এমন সময়ে এসেছে, যখন নতুন বছর প্রায় দোরগোড়ায়—অর্থাৎ অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
ডেট্রয়েটে বাড়ির ভেতর গুলিতে দুই বছরের শিশু গুরুতর আহত

ডেট্রয়েটে বাড়ির ভেতর গুলিতে দুই বছরের শিশু গুরুতর আহত