আমেরিকা , শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ , ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হ্যামট্রাম্যাক কাউন্সিলর হাসানকে প্রবেশন ও সমাজসেবার সাজা ডেট্রয়েটে বাণিজ্যিক সম্পত্তির দামে বড় পতন পন্টিয়াকে অ্যাপার্টমেন্টে গুলিবর্ষণ;  নিহত একজন, আহত আরেকজন প্রথম দিনেই সাড়া ফেলল গর্ডি হাও ব্রিজের সাইকেল ও পথচারী পথ হুইটমোর লেকে ই. কোলাই বৃদ্ধি, বন্ধ ঘোষণা করা হলো সৈকত সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮, আহত ১৩ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্টের জেরে পদ হারানো এনসিপি নেতা তানভীর গ্রেপ্তার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, পাশে ছিলেন ড. ইউনূস জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা পেয়েছি, পুনর্গঠনে সময় লাগবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বিরত থাকতে বলল সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডারের বৈঠক ওক পার্কে গোলাগুলিতে নিহত ২, আহত ২ শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য নিয়ে ভারতকে ঢাকার বার্তা মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে দুইজনের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভবত প্রথম ঢাকায় চীনা সাইবার গ্যাংয়ের আস্তানা, নারীসহ গ্রেফতার ৪ ‘বেল ক্যানসেল করতে পারব আশা করছি’, বেনজীর ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশিগানে ওয়ার্ক জোন দুর্ঘটনায় দুই সড়ককর্মীর মৃত্যু, চালক অভিযুক্ত স্টেলান্টিসের সেন্টার লাইন স্থাপনায় দুর্ঘটনায় ইউএডব্লিউ সদস্য নিহত রেডফোর্ড টাউনশিপে পরিকল্পিত হামলায় এক ব্যক্তি নিহত
কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস আজ

৫২ বছরেও মেলেনি ১২৭ শহীদের স্বীকৃতি 

  • আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৩ ০২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৩ ০২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
৫২ বছরেও মেলেনি ১২৭ শহীদের স্বীকৃতি 
লাখাই, (হবিগঞ্জ) ১৮ সেপ্টেম্বর : আজ ভয়াল ১৮ সেপ্টেম্বর, লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। হবিগঞ্জ জেলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা এটি। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় ১২৭ জন নিরীহ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের অন্তর্গত হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রাম কৃষ্ণপুর। ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা, যেখানে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে এবং বর্ষা মৌসুমে নৌকায় চলাচল করতে হয়।
১৯৭১ সালে দেশব্যাপী নারকীয় গণহত্যা চললে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রাণভয়ে আশ্রয় নেয় প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই গ্রামটিতে। কিন্তু এই খবর স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় অষ্টগ্রামের পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে।
১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে অমাবস্যার অন্ধকারের ন্যায় কালো ছায়া নেমে আসে হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামটিতে। চারদিক থেকে পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা ঘিরে ফেলে গ্রামটিকে। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ক্যাম্প থেকে ২টি স্পিডবোটে করে ১০-১৫ জন পাক সৈন্য সেখানে আসে। তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার মোড়াকরি গ্রামের লিয়াকত আলী, খেলু মিয়া, বাদশা মিয়া, কিশোরগঞ্জের আলবদর আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলী (আমি আলবদর বলছি বইয়ের লেখক) লাল খাঁ, নাসিরনগর থানাধীন ফান্দাউকের আহাদ মিয়া, সন্তোষপুরের মোর্শেদ কামাল ওরফে শিশু মিয়াসহ প্রায় ৪০-৫০ জন রাজাকার, আলবদর। তাদের সহযোগিতায় নিরীহ ১৩১ জন হিন্দু ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে স্থানীয় কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে। ১২৭ জন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে মারা যান।
এদের মধ্যে হরিদাস রায়, প্রমোদ রায়, নবদ্বীপ রায় ও মন্টু রায় বুলেটের আঘাতে জর্জরিত হয়েও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তারা সারাজীবনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েন। গ্রামে আক্রমনের খবর পেয়ে যারা পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন তারাই প্রাণে বেঁচেছিলেন।
ওইদিন নারীদের উপর নেমে এসেছিল অকথ্য নির্যাতন। রাজাকার আলবদররা পুরো গ্রামে লুটপাটের তা-ব চালায়। পরে রাজাকারদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে গ্রাম আগুন ধরিয়ে দে জ্বালিয়ে দেয় পাকিস্তানি সৈন্যরা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ তান্ডবে পুরো গ্রাম কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়। রাজাকারদের ভয়ে একসঙ্গে ১২৭ জন লোকের সৎকারের ব্যবস্থা না করতে পেরে বলভদ্র নদীতে মৃতদেহগুলো ভাসিয়ে দেয়া হয়। কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জন শহিদের নাম সম্বলিত স্মৃতিফলক আজও সেই ভয়াল স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। বর্তমানে এখানে সরকারিভাবে বধ্যভূমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তিনজন শহীদের ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।
২০১০ সালে সালের ৪ মার্চ বেঁচে যাওয়া হরিদাস রায় হবিগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিস্কৃত) ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার লিয়াকত আলীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা দায়ের করেন। ২০১০ সালের ১২ আগস্ট মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা হিসেবে সিলেট বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গৃহীত হয়। মামলার রায়ে রাজাকার লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে আনিত ৭টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু লিয়াকত আলী দেশের বাইরে পালিয়ে যায়।
শহিদ পরিবারের সন্তানসহ সকল জনগনের দাবি, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক এবং ১২৭ শহীদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হোক । তাহলেই লাখাই তথা কৃষ্ণপুরবাসী কলঙ্কমুক্ত হবে এবং শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাউথ জার্সিতে ১৫ আগস্ট বর্ণাঢ্য কৃষ্ণলীলা

সাউথ জার্সিতে ১৫ আগস্ট বর্ণাঢ্য কৃষ্ণলীলা