আমেরিকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে ডিয়ারবর্নের নারী অভিযুক্ত শান্তি, মানবতা ও ন্যায়বিচারের বিশ্ব চান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান মিশিগানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ডিটিইর ২০ বছরের পরিকল্পনা ব্যাটল ক্রিকের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বন্দুক থেকে গুলি ল্যান্সিংয়ে বাস স্টেশনে বোমা হামলার মিথ্যা হুমকি, ইলিনয়ের নারীকে সাজা দুর্ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা বন্ধ, আবার খুলল ম্যাকিনাক ব্রিজ ৫ ধাপ পিছিয়ে ইউ-এম, তবু ‘বেস্ট ভ্যালু’তে মিশিগানে সেরা মিশিগানে ICE-এর থামানোর চেষ্টা, পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ম্যাকম্ব কাউন্টিতে প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার যেখানে শেষ হয়েছিল জীবন, সেখানেই জেগে রইল জ্যাকোয়ার স্মৃতি বিদ্যুৎ ফিরলেও MSU-তে  কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ শরতের শুরুতেই শীতল মিশিগান, সপ্তাহজুড়ে কম তাপমাত্রা নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেট্রয়েটে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সন্দেহভাজন আটক ৩৫ সফরসঙ্গী নিয়ে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার আই-৬৯৬ সংস্কারে অগ্রগতি, বছরের শেষে খুলছে লাহসার–আই-৭৫ অংশ পন্টিয়াকে পারিবারিক বিরোধে গুলিতে নিহত ১, আহত ১ হেফাজতে

প্রাণের টানে গাজীর গান গেয়ে চলছেন লাখাইয়ের রফিক শাহ

  • আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৩ ০৩:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৩ ০৩:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
প্রাণের টানে গাজীর গান গেয়ে চলছেন লাখাইয়ের রফিক শাহ
লাখাই, (হবিগঞ্জ) ২১ আগস্ট : শহুরে গান আর ইন্টারনেটকেন্দ্রিক সংস্কৃতির দাপটে অনেক কিছুর মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে গাজীর গান বা গীতও। তবে দেশের অনেক স্থানে এই গানের ধারা প্রাণের টানে ধরে রেখেছেন কিছু শিল্পী। লোকজ সংস্কৃতির অংশ এ-ই লোকগাঁথা গেয়ে  লাখাইয়ের রফিক  শাহের (৭৮) জীবন চলে। উপজেলার করাব গ্রামের  মৃত রইছ আলীর ছেলে তিনি। দীর্ঘ ৬০ বছর যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে গাজী কালুর গান শুনিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। 
উপজেলার স্বজনগ্রামে গিয়ে দেখা যায়  হাতে ডুগডুগি বাজিয়ে সুরেলা কন্ঠে বাড়ি বাড়ি গিয়ে  গাজী কালুর মাহাত্ম্য বর্ণনা করছেন রফিক শাহ। মানুষ সাধ্যমতো চাল, ডাল, টাকা পয়সা দিচ্ছেন। পাশাপাশি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছেন বাস্তবিক জীবনের পটভূমিতে গাওয়া এ-ই লৌকিক উপাখ্যান। 
এ-ই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রফিক শাহ জানান, আধুনিক যুগের ছেলেমেয়েরা এই গানগুলো না শুনলেও বয়স্করা এগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে।  কেউ কেউ খুশি হয়ে ১০/২০ টাকা দেয় । আল্লাহর রহমতে ভালোই চলছে জীবন। সুমিত্রা রায় নামে একজন জানান, উনাদের কাছ থেকে তাবিজ নিয়েছিলাম ছোট বাচ্চার প্রস্রাবের সমস্যা দূর করার জন্য। সমস্যা দূর  হয়েছে। 
এখনো অনেকে গাজীর নামে মানত করে। নিরাপদ থাকা, সন্তান লাভ, প্রকৃতির বালা-মুসিবত থেকে ফসল রক্ষা, মামলা মোকদ্দমায় জয়লাভ, রোগ থেকে আরোগ্য লাভ, এমনকি কন্যাসন্তানের সময়মতো সুপাত্রে বিয়ে না হওয়া ইত্যাদি সমস্যা উত্তরণের জন্য গাজী পীরের শরণাপন্ন হয়। গাজী পীরকে মনে করা হয় অলৌকিক শক্তির অধিকারী অসাম্প্রদায়িক জিন্দাপীর। অলৌকিক শক্তির কারণেই সুন্দরবনের বাঘ ও কুমির গাজীর কথা নাকি শোনে। গাজীভক্তদের বিশ্বাস, গাজী পীরের নামে দানসহ গাজীর দোয়া মানুষ যে কোনো অশুভ শক্তিকে বশ করতে পারে।
শাহ গাজী, কালু ও চম্পাবতীর পরিচয় নিয়ে আছে নানা ইতিহাস। জনশ্রুতি আছে বৈরাগ নগরের শাসক দরবেশ শাহ সিকান্দারের ছেলে শাহ গাজী। কালু ছিলেন শাহ সিকান্দারের পোষ্যপুত্র। আর চম্পাবতী ছিলেন সাপাই নগরের সামান্ত রাজা রামচন্দ্র ওরফে মুকুট রাজার মেয়ে। 
প্রথম দেখাতেই শাহ গাজী আর চম্পাবতী একে অন্যের প্রেমে পড়ে যায়। ভুলে যান নিজেদের জাত, ধর্ম, স্থান, কাল। তাদের মিলনের মাঝে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি। ছাপাই নগরের বলিহর বাওরের তমাল গাছ তলায় গাজী নিয়মিত অপেক্ষা করতেন চম্পাবতীর জন্য। তার সার্বক্ষণিক  সঙ্গী ছিলেন কালু। 
গাজীর প্রকৃত নাম গাজী মিয়া বা বড়খান গাজী। তার পিতার মৃত্যু হয় ১৩১৩ সালে। সেসময় তিনি ছিলেন ত্রিবেনী ও সপ্তগ্রাম অঞ্চলের শাসনকর্তা। বাল্যকালেই ফকির-দরবেশের সাহচর্যে আধ্যাত্মিক সাধনায় উন্নতি লাভ করেন গাজী। পিতার কাছে শাসন ক্ষমতা নিতেও অস্বীকার করেন তিনি। ইসলাম প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ বঙ্গের যশোর-খুলনা অঞ্চলে। ধর্ম প্রচারে বাধা প্রাপ্ত হয়ে রাজা মুকুট রায়ের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয় তার। তখনই হয়ত তার চম্পাবতীর সঙ্গে দেখা হয়।
অবশেষে গাজী অনুসারীদের নিয়ে বহু খণ্ড যুদ্ধের পর উদ্ধার করে চম্পাবতীকে। এরপর তারা বারোবাজার ফিরে এসেছিলেন। তবে গাজীর বাবা শাহ সিকান্দার বিষয়টা একেবারেই মেনে নেননি। মুকুট রাজা ছিলেন তারই প্রতিবেশী শাসক। হিন্দু সমাজের অসন্তুষ্টির কারণে তিনি গাজীকে বাড়িতেই উঠতে দেননি। বিতাড়িতও করেন সমাজ থেকে। তবে এখানে এসে গাজী পীর লোকজ দেবতা হিসেবে পূজিত হন। 
হিন্দু-মুসলমান অধ্যুষিত সুন্দরবনের সবাই তাকে স্মরণ করে। যে কেউ সুন্দরবনে ঢোকার আগে হাতজোড় করে বনবিবির পাশাপাশি গাজীর নামে দোহাই দিয়ে ঢোকে। সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়গুলোতে সাদা বর্ণের মুখে দাড়িসহ কোথাও জামা-পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ মূর্তি, কোথাও লুঙ্গি পরা ঘাড়ে গামছাসহ মূর্তি পূজিত হয়। এই পূজার নিরামিষ নৈবেদ্য হলো বাতাসা, পাটালি, আতপচালের শিরণি ইত্যাদি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ
যৌন পাচারের অভিযোগে ইঙ্কস্টারের যুবক গ্রেপ্তার, কিশোরী উদ্ধার

যৌন পাচারের অভিযোগে ইঙ্কস্টারের যুবক গ্রেপ্তার, কিশোরী উদ্ধার