আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিশিগানের সবচেয়ে নিরাপদ শহর রচেস্টার হিলস : কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ওয়াটারফোর্ডে বাসচালকের সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা মিশিগানে গিফট কার্ড জালিয়াতি, অভিযুক্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যক্তি স্টার্লিং হাইটসে অ্যাম্বুলেন্স-এসইউভি সংঘর্ষে রোগীর মৃত্যু, আহত ২ মিশিগানে শীতের ঘণ্টা বাজছে, বদলে যাচ্ছে দিন-রাতের হিসাব আগাম ভোটের প্রথম দিনেই ডেট্রয়েটে নতুন রেকর্ড সাউথফিল্ডে ভাইকে গুলি করে হত্যা, অভিযুক্ত ছোট ভাই মিশিগানে ভোটের প্রচারে ট্রাম্পের নিশানায় ডেমোক্র্যাটরা দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, WMU-তে ফ্রাটারনিটির কার্যক্রম স্থগিত মিশিগানে ট্রাম্পের সমাবেশে  হাজারো মানুষের ভিড় ‘বাতাসে পরিবর্তনের আভাস’  মিশিগানে বললেন ওবামা ফার্মিংটনে আজ ‘থ্রিলার’ নাচে মাতবেন ৮০ জন মিশিগানজুড়ে সশরীরে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু মিশিগানে শিল্প ভবনে বিস্ফোরণে নিহত ১ মিশিগানে ৬ লাখ ডলারের বিটকয়েন কেলেঙ্কারি, অভিযুক্ত ইলিনয়ের ব্যক্তি অ্যান আরবারে ট্রেনের সঙ্গে এসইউভির সংঘর্ষ, তদন্ত শুরু মিশিগানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ম্যারাথন দৌড়বিদ গ্রেস নোলান ডেট্রয়েটে অপহৃত নারী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ টলেডোতে রাসায়নিক ছড়িয়ে  পড়ায় সতর্কতা জারি প্যালিসেডস পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

প্রবাসে প্রাণের উৎসব : শিব মন্দিরের বনভোজন

  • আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০১:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০১:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন
প্রবাসে প্রাণের উৎসব : শিব মন্দিরের বনভোজন
ওয়ারেন, ১৪ জুলাই : নগরীর মিলার পার্কে গতকাল রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত হলো শিব মন্দির ‘টেম্পল অব জয়’-এর বার্ষিক বনভোজন। এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিনটি পরিণত হয় প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের উৎসবে। মিশিগানের বিভিন্ন শহর থেকে শত শত প্রবাসী পরিবার-পরিজনসহ অংশ নেন এই মিলনমেলায়।
দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কজুড়ে ছিল আড্ডা, খেলাধুলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র‌্যাফেল ড্রসহ নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। সারাদিনের উৎসবজুড়ে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, হাসিমাখা মুখ আর মিলেমিশে থাকার এক মানবিক অভিব্যক্তি।

বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। শিশু ও কিশোরদের জন্য দৌড় প্রতিযোগিতা, মহিলাদের জন্য হাড়িভাঙা ও মিউজিক্যাল পিলো গেম, আর পুরুষ-মহিলাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ছিল রশি টানাটানি। ছেলেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফুটবল ম্যাচ ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শনীয়।
বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জমজমাট বারবিকিউ পার্টি। দুপুরের আগে থেকেই পার্কের এক প্রান্তে ধোঁয়া উঠতে শুরু করে সুস্বাদু গ্রিল আইটেমের। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই উপভোগ করেন মাংসের সুগন্ধে ভরপুর বারবিকিউ। এই পর্বের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন অয়ন চক্রবর্তী, যিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বে অন্যান্য বন্ধুরা সম্মিলিতভাবে অতিথিদের যথাসময়ে পরিবেশন করেন গরম গরম বারবিকিউ, যা অংশগ্রহণকারীদের দারুণভাবে তৃপ্ত করে। 

দুপুরে বনভোজনে আগত অতিথিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় সুসজ্জিত ও সুস্বাদু সব খাবার। ছিল তরমুজ, আইসক্রীমসহ কোমল পানীয়, গরম দুপুরে যা এনে দেয় এক অনন্য প্রশান্তি ও তৃপ্তি। সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীরা একের পর এক সুরেলা পরিবেশনায় মুগ্ধ করে তোলেন উপস্থিত দর্শকদের। গানে অংশ নেন পৃথা দেব, চিনু মৃধা, সুস্মিতা চৌধুরী, হারান কান্তি সেন, প্রিয়া সেন ও শর্মি চক্রবর্তী। তাদের কণ্ঠে মিলার পার্ক যেন হয়ে ওঠে এক খোলা মঞ্চ।

দিনের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণ ও র‌্যাফেল ড্র। মোট ১৭টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল একটি ৭০ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন, যা জিতে নেন হ্যামট্রাম্যাক শহরের বাসিন্দা হারান কান্তি সেন। এই পুরস্কার স্পন্সর করেন ‘টেম্পল অব জয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা এবং চিনু মৃধা। র‌্যাফেল ড্র ইভেন্টটি ছিল টানটান উত্তেজনা ও আনন্দে পরিপূর্ণ। মুহূর্তে মুহূর্তে বাড়তে থাকে সাসপেন্স—কার হাতে যাবে কোন পুরস্কার! চিৎকার, চেঁচামেচি, হাততালি আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হতেই কেউ লাফিয়ে ওঠেন, কেউ আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। পুরস্কার হাতে নিয়ে বিজয়ীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। হাসি আর আবেগে ভরে ওঠে তাদের মুখাবয়ব। প্রাণের এই পর্ব ছিল যেন পুরো অনুষ্ঠানের মুকুটমণি। র‌্যাফেল টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু ও অরূপ পুরকায়স্থ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড. দেবাশীষ মৃধা ও চিনু মৃধা অতিথিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং সফল আয়োজনের জন্য সকল স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তব্য রাখেন অমুল্য চৌধুরী, বিপ্লব চৌধুরী, অজিত দাশ, মৃদুল চৌধুরী, রিয়েলটর হিমেল দাশ ও অরবিন্দু চৌধুরী সহ আরও অনেকে।
সারাদিনের প্রাণবন্ত এই আয়োজন শেষে অতিথিরা মুখে হাসি আর হৃদয়ে আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সৌরভ চৌধুরী।
এই বনভোজন শুধু একটি সামাজিক আয়োজন নয়, এটি ছিল প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য এক মানসিক পুনর্মিলনের অনন্য সুযোগ, যেখানে মাটি ও মানুষের ঘ্রাণ যেন নতুন করে ছুঁয়ে যায় হৃদয়কে। ভবিষ্যতেও এই আয়োজনে বাঙালিয়ানার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক আরও বহুদূর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিশিগানে শনিবার হ্যালোইন 

মিশিগানে শনিবার হ্যালোইন