আমেরিকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা পেয়েছি, পুনর্গঠনে সময় লাগবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বিরত থাকতে বলল সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডারের বৈঠক ওক পার্কে গোলাগুলিতে নিহত ২, আহত ২ শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য নিয়ে ভারতকে ঢাকার বার্তা মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে দুইজনের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভবত প্রথম ঢাকায় চীনা সাইবার গ্যাংয়ের আস্তানা, নারীসহ গ্রেফতার ৪ ‘বেল ক্যানসেল করতে পারব আশা করছি’, বেনজীর ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশিগানে ওয়ার্ক জোন দুর্ঘটনায় দুই সড়ককর্মীর মৃত্যু, চালক অভিযুক্ত স্টেলান্টিসের সেন্টার লাইন স্থাপনায় দুর্ঘটনায় ইউএডব্লিউ সদস্য নিহত রেডফোর্ড টাউনশিপে পরিকল্পিত হামলায় এক ব্যক্তি নিহত জগন্নাথ ভক্ত মিশিগানের বর্ণাঢ্য রথযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান : ফখরুল পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কা, দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ  করেছে যুক্তরাষ্ট্র : মাহ্দী আমিন বাংলাদেশ সফর শেষে ইতিবাচক বার্তা দিলেন মার্কিন বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক ঢাকায় সার্জিও গোর-দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক ধর্মীয় বিভাজনের সব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে : মির্জা ফখরুল

বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প

  • আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন
বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প
প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার নেই। তাঁকে কখনও সামনে থেকে দেখি নি, কিন্তু খবরের কাগজে তাঁর নাম দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অসাধারণভাবে লিখতেন তিনি। সাংবাদিকদের আইকন। আমি তাঁর লেখা পড়তে পড়তেই নিজেও লেখালিখির জগতে প্রবেশ করেছি, সাংবাদিকতার পথ ধরেছি। মনে হতো, তাঁর সাথে আমার আদর্শিক একাত্মতা আছে।
ঘুণে ধরা সমাজের চোখে আঙুল তুলে তিনি কলম চালাতেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সমাজের প্রতিই অভিমান করে পানিতে ঝাঁপ দিলেন। তাঁর জীবনের শেষ লেখা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আজ ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ড. ইউনুস একসময় বলেছিলেন: আপনারা সত্য লিখুন। অথচ আজকের বাস্তবতা হলো কেউ আর সত্য লিখতে পারে না। আগের সরকারে অন্তত কিছুটা লিখবার সুযোগ ছিল, এখন অঘোষিতভাবে প্রেস নিয়ন্ত্রিত। 
শেখ হাসিনার আমলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনেক সাংবাদিক ১০, ২০, এমনকি ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু বিভুরঞ্জনের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা আজ ওয়াশিংটনে মোটা বেতনের চাকরিতে, ইকবাল সোবহানদের হাতে বিপুল অর্থ, অথচ বিভুরঞ্জন সরকারের জীবন চলছিল না। বিভুরঞ্জন সরকার চেষ্টা করেছেন বারবার, কিন্তু সহযোগিতা পাননি।
আজকের মিডিয়া হাউসগুলো শিল্পপতিদের হাতে বন্দি। তারা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর খবরে আসে না। ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল আছে দেশে, কিন্তু কোনোটিই জনগণের পাশে দাঁড়ায় না। ছাপার কাগজগুলোও একই রকম। এক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এসেছিল আরেক ফ্যাসিস্ট শাসন, আগের চেয়ে পাঁচ গুণ ভয়ঙ্কর।
আমার প্রিয় সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার আর নেই। মিডিয়া পাড়ায় আজ শোকের ছায়া। শত শত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছেন, কিন্তু তিনি পারেননি। বয়স, অর্থকষ্ট আর সামাজিক বৈষম্যের কারণে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি খুঁজে নিলেন চিরশান্তির আশ্রয়।
একসময় আমরা শুনতাম, সাগর-রুনিকে সরকার হত্যা করেছে। পরে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হলো, তাদের মৃত্যু নাকি ব্যক্তিগত জীবনের কারণে। বছর ঘুরে বছর গেছে, সত্য আড়ালেই রয়ে গেছে। অথচ তাদের মেয়েকে গতকাল সরকার প্লট দিয়েছে, সব হিসাবই গোলমেলে। এদিকে, মনির হায়দারের মতো সেকেন্ড-গ্রেড সাংবাদিক হয়ে গেছেন সিনিয়র সচিব, কেউ বা রাষ্ট্রদূত। দালালদের জয়জয়কার এই অপয়া সমাজে।
আর বিভুরঞ্জন সরকার? তিনি চূড়ান্ত অপমান, দুঃখ আর অভিমানের কাছে হার মানলেন। পানির নিচেই হয়তো পেলেন সেই শান্তি, যা মাটির পৃথিবী তাঁকে দিতে পারেনি।বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প
প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার নেই। তাঁকে কখনও সামনে থেকে দেখি নি, কিন্তু খবরের কাগজে তাঁর নাম দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অসাধারণভাবে লিখতেন তিনি। সাংবাদিকদের আইকন। আমি তাঁর লেখা পড়তে পড়তেই নিজেও লেখালিখির জগতে প্রবেশ করেছি, সাংবাদিকতার পথ ধরেছি। মনে হতো, তাঁর সাথে আমার আদর্শিক একাত্মতা আছে।
ঘুণে ধরা সমাজের চোখে আঙুল তুলে তিনি কলম চালাতেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সমাজের প্রতিই অভিমান করে পানিতে ঝাঁপ দিলেন। তাঁর জীবনের শেষ লেখা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আজ ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ড. ইউনুস একসময় বলেছিলেন: আপনারা সত্য লিখুন। অথচ আজকের বাস্তবতা হলো কেউ আর সত্য লিখতে পারে না। আগের সরকারে অন্তত কিছুটা লিখবার সুযোগ ছিল, এখন অঘোষিতভাবে প্রেস নিয়ন্ত্রিত। 
শেখ হাসিনার আমলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনেক সাংবাদিক ১০, ২০, এমনকি ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু বিভুরঞ্জনের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা আজ ওয়াশিংটনে মোটা বেতনের চাকরিতে, ইকবাল সোবহানদের হাতে বিপুল অর্থ, অথচ বিভুরঞ্জন সরকারের জীবন চলছিল না। বিভুরঞ্জন সরকার চেষ্টা করেছেন বারবার, কিন্তু সহযোগিতা পাননি।
আজকের মিডিয়া হাউসগুলো শিল্পপতিদের হাতে বন্দি। তারা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর খবরে আসে না। ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল আছে দেশে, কিন্তু কোনোটিই জনগণের পাশে দাঁড়ায় না। ছাপার কাগজগুলোও একই রকম। এক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এসেছিল আরেক ফ্যাসিস্ট শাসন, আগের চেয়ে পাঁচ গুণ ভয়ঙ্কর।
আমার প্রিয় সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার আর নেই। মিডিয়া পাড়ায় আজ শোকের ছায়া। শত শত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছেন, কিন্তু তিনি পারেননি। বয়স, অর্থকষ্ট আর সামাজিক বৈষম্যের কারণে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি খুঁজে নিলেন চিরশান্তির আশ্রয়।
একসময় আমরা শুনতাম, সাগর-রুনিকে সরকার হত্যা করেছে। পরে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হলো, তাদের মৃত্যু নাকি ব্যক্তিগত জীবনের কারণে। বছর ঘুরে বছর গেছে, সত্য আড়ালেই রয়ে গেছে। অথচ তাদের মেয়েকে গতকাল সরকার প্লট দিয়েছে, সব হিসাবই গোলমেলে। এদিকে, মনির হায়দারের মতো সেকেন্ড-গ্রেড সাংবাদিক হয়ে গেছেন সিনিয়র সচিব, কেউ বা রাষ্ট্রদূত। দালালদের জয়জয়কার এই অপয়া সমাজে।
আর বিভুরঞ্জন সরকার? তিনি চূড়ান্ত অপমান, দুঃখ আর অভিমানের কাছে হার মানলেন। পানির নিচেই হয়তো পেলেন সেই শান্তি, যা মাটির পৃথিবী তাঁকে দিতে পারেনি।
লেখক :
সাংবাদিক ও  কলামিস্ট 
ফ্লোরিডা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির