আমেরিকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিনেট থেকে এবার ববলহেডে এল-সায়েদ ডেট্রয়েটে ফের গুলিবর্ষণ,  প্রাণ গেল একজনের আরবি নাম, প্রগতিশীল রাজনীতি সব বাধা পেরিয়ে এল-সায়েদের জয় মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক  বিজয় : নির্বাচনে বইল ‘নীল ঢেউ’ ডেট্রয়েটে বড়দিনের উৎসবের প্রস্তুতি, ২০ নভেম্বর জমকালো ট্রি লাইটিং ইতিহাসের পাতায় আল-সায়েদ, গর্বিত মিশিগানের ভোটাররা মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে আল-সায়েদের বাজিমাত জেমসকে হারিয়ে মিশিগানের গভর্নর বেনসন ডেট্রয়েটে বাড়ির ভেতর গুলিতে দুই বছরের শিশু গুরুতর আহত আই-৯৬ মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, নিহত ১ হ্যামট্রাম্যাকের মেয়রের চেয়ারে বসছেন মুহিত, ৮ নভেম্বর শপথ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে এগিয়ে এল-সায়েদ, পিছিয়ে রজার্স আজ মিশিগানে ভোট,  ভাগ্য পরীক্ষায় দুই দল ট্রাম্পের আরব আমেরিকান বিষয়ক দূত ও উপদেষ্টা হলেন আমের গালিব নভেম্বরের শুরুতে উষ্ণ মিশিগান, সপ্তাহান্তে কমবে তাপমাত্রা রচেস্টার হিলসে ম্যাসাজের সময় নারীকে নিপীড়নের অভিযোগ লজ ফ্রিওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনায় তিন নারী নিহত মিশিগানে বেকারত্ব ভাতার সেবায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, চালু ৯ নভেম্বর হ্যালোউইনের রাতে ডেট্রয়েটে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ ৫ বছরের শিশু জনসমর্থন নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন মিশিগানের গভর্নর হুইটমার

ওয়ারেন লকআপে কোর্টনি কেরের মৃত্যু : প্রশ্ন ও আক্ষেপের ছায়া

  • আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ১২:২২:০৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৫ ১২:২২:০৫ অপরাহ্ন
ওয়ারেন লকআপে কোর্টনি কেরের মৃত্যু : প্রশ্ন ও আক্ষেপের ছায়া
Kourtni Kerr Family Photo, Macomb Daily

(সূত্র: ম্যাকম্ব ডেইলি, প্রকাশ: দ্য ডেট্রয়েট নিউজ)
ওয়ারেন (মিশিগান), ২৬ আগস্ট : মিশিগানের ম্যাকম্ব কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকাকালীন ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের লকআপে ৩১ বছর বয়সী কোর্টনি কেরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গত ১৮ আগস্ট ঘটে যাওয়া এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের মনে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন ও আক্ষেপের ছায়া
কেরের পরিবার বলছে, তার মৃত্যু হতে পারে মাদক সংকট, অতিরিক্ত মাত্রায় হেরোইন গ্রহণ, অথবা পূর্বের আঘাতজনিত জটিলতায়। কোর্টনির মা বারবারা কের অভিযোগ করেন, “সে আমার মেয়ে ছিল। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে তার সুরক্ষার দায়িত্ব তাদেরই ছিল।” 

কী ঘটেছিল 
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কোর্টনি তার এক পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে উডওয়ার্ড অ্যাভিনিউ ও স্টেট ফেয়ার স্ট্রিট এলাকায় হাঁটছিলেন। তারা কাছের একটি গ্যাস স্টেশন থেকে পানীয় কিনতে যাচ্ছিলেন। তখনই কর্তৃপক্ষ তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, এবং সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়। ওয়ারেন পুলিশ জানিয়েছে, মিশিগান স্টেট পুলিশই কোর্টনিকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাকে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগে হস্তান্তর করে।

পুলিশের বর্ণনা
ওয়ারেন পুলিশ জানিয়েছে, কোর্টনি ও তার এক পুরুষ সঙ্গীকে গ্রেপ্তারের পর লকআপে রাখা হয়। তাকে মহিলা সেলে এককভাবে রাখা হয়েছিল এবং নিয়মিত চেকের সময় প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় দ্রুত ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে জানানো হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ কোর্টনির মাদকের ইতিহাসের কথাও নিশ্চিত করেছে।
পরিবারের ভিন্ন দাবি
তবে কোর্টনির পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি ৪৫ মিনিট ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। অন্য বন্দীদের বরাতে তারা জানান, কোর্টনি ক্রমাগত ‘আমাকে সাহায্য করুন’ বলে চিৎকার করেছেন, এরপর হঠাৎ চুপ হয়ে যান। কিন্তু পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পরিবার আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে দুই নারী তাকে মারধর করেছিলেন, যা হয়তো মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

ঝঞ্ঝাটময় জীবন
কোর্টনি কের ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন, কিন্তু কৈশোরে মাদকের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। অক্সিকোডন থেকে শুরু করে হেরোইন, ক্র্যাক কোকেন—সবই তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। একাধিকবার কারাগার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে যেতে হয়। আর্থিক সংকটে তিনি যৌনপেশায়ও জড়ান। পরিবার জানায়, কয়েক বছর আগে তিনি এক মাদকাসক্ত কন্যার জন্ম দেন, যাকে পরবর্তীতে দত্তক দেওয়া হয়।

কোনো শেষকৃত্য নয়
কের পরিবারের ছোট পরিসর ও কোর্টনির বন্ধু মহলের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত হওয়ায় শেষকৃত্যের কোনো আয়োজন করা হবে না। তার মা বারবারা কের জানিয়েছেন, মরদেহ দাহ করা হবে এবং মেয়ের ছাই একটি নেকলেসে রেখে নিজের কাছে রাখবেন।

মায়ের ক্ষোভ ও অসহায়তা
বারবারা কের জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি ঘুমাতে পারছেন না। এখনো তার মনে প্রশ্ন—সেদিন রাতে পুলিশ যদি কিছু বুঝতে পারত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তবে তিনি এটাও মনে করেন, পুলিশ হয়তো সেই রাতেও তার মেয়ের মৃত্যু কেবল বিলম্বিত করতে পারত।
তিনি বলেন, “ঈশ্বরের ভূমিকায় অভিনয় পুলিশের কাজ নয়। আমার মেয়ের ইতিহাসের কারণে তারা তার চিকিৎসা সেবা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।” যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভাগীয় প্রোটোকল মেনেই কোর্টনিকে কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তরের আগে লকআপে রেখেছিল।

তথ্য পাওয়ার অপেক্ষা
বারবারা কের আরও জানিয়েছেন, তিনি তথ্য স্বাধীনতা আইনের (FOIA) মাধ্যমে কোর্টনির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও জেল সেলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করবেন।

তদন্ত অব্যাহত
ওয়ারেন পুলিশ বলছে, এ মৃত্যু নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত তথ্য থাকলে যে কেউ গোয়েন্দা ডেভিড ভিলেরটের সঙ্গে (৫৮৬-৫৭৪-৪৮১৭) যোগাযোগ করতে পারবেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
২০২৭ সালের গ্রীষ্মে খুলবে না ট্রয় অ্যাকুয়াটিক সেন্টার

২০২৭ সালের গ্রীষ্মে খুলবে না ট্রয় অ্যাকুয়াটিক সেন্টার