হ্যামট্রাম্যাক, ৮ ফেব্রুয়ারি : মিশিগানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে টাউন হল বৈঠক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি। বৈঠকে ওয়াশিংটন ডিসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ডেট্রয়েটে একটি স্থায়ী বাংলাদেশি কনসুলেট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মার্কিন সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকার কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের সঙ্গে প্রবাসীদের নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি–আমেরিকানদের মূলধারার মার্কিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার রাতে হ্যামট্রাম্যাক সিটির গেট অব কলম্বাসে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসির উদ্যোগে এই টাউন হল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কমিউনিটির সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মিশিগানের ডেট্রয়েটে স্থায়ী বাংলাদেশি কনসুলেট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে সব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন, যা ইতোমধ্যে চাওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর তালিকার এক নম্বরে রয়েছে আমেরিকা। প্রবাসীদের এই অনন্য অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আমেরিকার কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার তাগিদ দেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি–আমেরিকানদের মূলধারার মার্কিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করাকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে মিশিগানে কনসুলেট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হ্যামট্রাম্যাক সিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি প্রোক্লেমেশন প্রদান করা হয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হ্যামট্রাম্যাক সিটির বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিল সদস্যরা রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামের হাতে এই প্রোক্লেমেশন তুলে দেন।
বৈঠকে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মো. সালাহউদ্দিন মাহমুদের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ও মো. আরিফুর রহমান।
বৈঠকের শেষ পর্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা কমিউনিটির সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

তোফায়েল রেজা সোহেল :