ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সংসদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত গণভোটের ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা তিনি নাকচ করেছেন।
ইসি বলেন, “এবারের নির্বাচনী পরিবেশ বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যে সব শঙ্কা ছিল, তা সবার সহযোগিতায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং তা জাতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে। ফলাফল সংগ্রহের জন্য এবার আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে তথ্য আদান-প্রদান আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হবে। তবে পাহাড়ী বা দুর্গম এলাকার কিছু কেন্দ্রে যাতায়াত সমস্যার কারণে ফলাফল আসতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে যা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন কমিশনার।
নির্বাচনের দিন প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং আনসারসহ সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে এবং প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর মাঠ পর্যায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে।
বিদ্যুৎ সুবিধাসম্পন্ন কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষ ফ্যাক্ট-ফাইডিং সেল গঠন করেছে, যা সার্বক্ষণিক অনলাইনে নজরদারি করবে এবং অপপ্রচার দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে, যাতে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ইসি আশাবাদী, সব ব্যবস্থাপনা যথাযথ থাকায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :