ওয়ারেন, ৩ মার্চ: আজ দোল পূর্ণিমা। বাঙালির রঙের উৎসব, প্রেম ও মিলনের আনন্দঘন দিন। হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় পর্ব হলেও এই উৎসব কেবল বাঙালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বজুড়ে নানা সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এক সার্বজনীন আনন্দে পরিণত হয়েছে। বসন্তের প্রধান উৎসব হোলি এবং দোল। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসন্ত আসে ভিন্নতার রঙে, আর সেই বৈচিত্র্যেই বসন্ত উৎসবের প্রকৃত আনন্দ নিহিত।
দোল ও হোলি একই উৎসবের দুই রূপ হলেও উদযাপনের দিন সব অঞ্চলে এক নয়। অনেক স্থানে দোল পূর্ণিমার দিন আবির খেলা হয়, আর পরদিন হোলি পালিত হয়। আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও পঞ্জিকার হিসাবের পার্থক্যের কারণে এই ভিন্নতা দেখা যায়। চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী পূর্ণিমা ও তিথির হিসাব অঞ্চলভেদে আলাদা হওয়ায় দিনভেদে উৎসব উদযাপিত হয়।
বৈষ্ণব মত অনুযায়ী, দোল পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণ আবির নিয়ে শ্রীরাধা ও গোপীদের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দোল খেলার প্রথার সূচনা।
এই দিনেই আবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি। তাই গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের কাছে এটি ‘গৌর পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। পাশাপাশি দোল উৎসবের ব্যাপক প্রচার ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দোলযাত্রার মূল দর্শন হলো ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবতার বন্ধন। রঙের উৎসবে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ আবির কেবল বাহ্যিক রঙ নয়—এগুলো প্রতীকী অর্থে মানুষের ভিন্নতা ও বিভেদকে মুছে দিয়ে আনন্দের স্রোতে এক করে দেয়। সমাজে যেখানে মত, পথ ও বিশ্বাসের পার্থক্য থাকে, দোলযাত্রা সেখানে স্মরণ করিয়ে দেয় আনন্দ, ভালোবাসা ও সহমর্মিতাই শেষ কথা। দোল পূর্ণিমা তাই কেবল রঙ খেলার দিন নয়; এটি মানবিক বন্ধনের উৎসব আনন্দ, মিলন ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহনকারী এক চিরন্তন আয়োজন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বসন্ত উৎসবকে মনে করতেন ঘর থেকে বাইরে আসার উৎসব। মানুষে মানুষে মিলনের এক অনন্য আয়োজন। তাঁর দৃষ্টিতে, ফাগুনের রঙ কেবল বাহ্যিক আবির নয়; তা মানুষের অন্তরকে রাঙিয়ে তোলে, জীবনে আনে নতুন প্রাণ ও প্রেরণা। সেই অর্থেই দোলের উৎসব, হোলির উৎসব রঙের আবরণে মোড়ানো এক গভীর মানবিক ও আধ্যাত্মিক আহ্বান।
এদিকে দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে মিশিগানে মিলছে নানান রঙের আবির। অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরও দোলযাত্রা ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে স্থানীয় মন্দির ও বাসাবাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অংশ হিসেবে পূজা, কীর্তন, গীতা পাঠ, আবির প্রদান ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন রয়েছে।
দোলযাত্রা ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে আগামী ৮ মার্চ রোববার সকাল ১০টায় পুজা, ১১টায় কীর্তন, ১২টায় গীতা পাঠ, সাড়ে ১২টায় আবীর প্রদান, ২টায় প্রসাদ বিতরণ, ৩টায় উদযাপিত হবে রঙের উৎসব হোলি।
রাধাকৃষ্ণ টেম্পলে গতকাল সোমবার দোল পূর্নিমা উদযাপিত হয়েছে। এছাড়া আগামী রোববার ৮ মার্চ সারাদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উৎসব উদযাপন করবে।
রঙের উৎসব দোলযাত্রা উপলক্ষে শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে আজ ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পুজা, ১১ টায় পুষ্পাঞ্জলি, সাড়ে ১১টায় আবীর প্রদান এবং শনিবার ৭ মার্চ বিকাল ৪টায় শুরু হবে হোলি সেলিব্রেশন।
এছাড়া গত শনিবার মিশিগান কালিবাড়িতে পূজা, হোম-যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে দোল উৎসব তথা দোল পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। পূজা-অর্চনার পর সবাই আবির খেলায় মেতে ওঠেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :