ফার্মিংটন হিলসের মিডলবেল্টের অদূরে গ্র্যান্ড রিভার সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। ছবিটি ১৯ মার্চ ধারণ করা হয়। ফার্মিংটন ও ফার্মিংটন হিলস দুই শহরই বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানজুড়ে বিস্তৃত এই করিডরের নিজ নিজ অংশের পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে পারস্পরিক সংযোগ ও ধারাবাহিকতা জোরদারে কাজ করছে/Photo : David Guralnick, The Detroit News
ফার্মিংটন, ২১ মাট : ফার্মিংটন এবং ফার্মিংটন হিলসের কর্মকর্তারা উভয় শহরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোরকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। শহরের এক নেতা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই করিডোর এতটাই পরিবর্তিত ও উন্নত হবে যে বাসিন্দারা একসময় এটিকে চিনতেই পারবেন না।
উভয় শহরই গ্র্যান্ড রিভার অ্যাভিনিউ-এর উন্নয়নে নানা কৌশল গ্রহণ করছে। এই সড়কটি ডেট্রয়েটের ডাউনটাউন থেকে শুরু হয়ে গ্র্যান্ড র্যাপিডস পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ডাউনটাউন ফার্মিংটনের প্রধান বাণিজ্যিক পথ এবং ফার্মিংটন হিলসের মধ্য দিয়েও অতিক্রম করেছে। কর্মকর্তারা এখানে আরও বাণিজ্যিক উন্নয়ন আনতে চান, পাশাপাশি এটিকে পথচারীবান্ধব করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গিবস প্ল্যানিং গ্রুপের ২০২৫ সালের একটি বাজার সমীক্ষায় দেখা গেছে, করিডোরটির ফার্মিংটন হিলস অংশে এক বছরে রেস্তোরাঁ ও খুচরা খাতে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় হয়। এই সমীক্ষা যা ফার্মিংটন হিলসের মেয়র থেরেসা রিচ চলতি মাসের শুরুতে তাঁর ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ ভাষণে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, করিডোরটিতে আরও ২০টি নতুন রেস্তোরাঁ বা খুচরা ব্যবসা এবং ৪০০ থেকে ৫০০টি নতুন আবাসন ইউনিটের চাহিদা রয়েছে।
ফার্মিংটন হিলসের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিচালক ক্রিস্টিয়া ব্রকওয়ে বলেছেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় জনঘনত্ব, ভোক্তার চাহিদা এবং যান চলাচল রয়েছে, যা এই ধরনের বিনিয়োগকে টিকিয়ে রাখতে পারে।”
এক দশকেরও বেশি আগে গঠিত গ্র্যান্ড রিভার করিডোর ইমপ্রুভমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে ফার্মিংটন ডাউনটাউনের পূর্বাংশে গ্র্যান্ড রিভার অ্যাভিনিউ পুনরুজ্জীবিত করতে উভয় শহর ইতোমধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি প্রকল্প ও প্রণোদনার মাধ্যমে এলাকায় নতুন ব্যবসা, আবাসন এবং উন্নত ল্যান্ডস্কেপিং নিশ্চিত করা।
করিডোর বরাবর ফার্মিংটন হিলসের উন্নয়ন জেলাটি অর্চার্ড লেক রোড থেকে এইট মাইল রোড পর্যন্ত বিস্তৃত; আর ফার্মিংটনের অংশটি মেফিল্ড থেকে হথর্ন স্ট্রিট পর্যন্ত। এই এলাকাগুলো শহরগুলোর ট্যাক্স ইনক্রিমেন্ট ফাইন্যান্স ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সম্পত্তি কর বৃদ্ধির অর্থ উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।
ব্রকওয়ে জানান, ব্যবসা ও ডেভেলপারদের জন্য শহরটির পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট’ অনুদান এবং ২০০ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ব্রাউনফিল্ড ইমপ্রুভমেন্ট’ অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই অর্থ ভবন ভাঙা বা পুরোনো ভবন সংস্কারে সহায়ক হতে পারে।
জনসাধারণের উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও পথচারীবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাব ফার্মিংটন হিলস সিটি কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পগুলোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে অর্জিত রাজস্ব থেকেই মেটানো হবে।
এছাড়া, শহর কর্তৃপক্ষ করিডোরজুড়ে ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র অঙ্কনে উৎসাহ দিতে প্রণোদনা চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
ব্রকওয়ে বলেন, “এই এলাকাটিকে সর্বদা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা এবং এর প্রতি বিশেষ মনোযোগ বজায় রাখা আমাদের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। এখানে নতুন শিল্পকর্ম বা উন্মুক্ত স্থান যুক্ত করার পাশাপাশি আমরা সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করব। যাতে পরিবেশ একঘেয়ে না লাগে এবং আধুনিকায়নের কোনো অংশই অবহেলিত না থাকে।”
শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ ভাষণে রিচ বলেন, অদূর ভবিষ্যতে এখানকার বাসিন্দারাই হয়তো ‘গ্র্যান্ড রিভার’ এলাকাটিকে আর চিনতে পারবেন না। তিনি বলেন, “২০৩০-এর দশকে পৌঁছালে আপনারা হয়তো আর চিনতেই পারবেন না যে ‘গ্র্যান্ড রিভার করিডোর’ একসময় কেমন ছিল। এটি তখন একটি সুন্দর, প্রাণবন্ত এবং পথচারীবান্ধব আধুনিক এলাকায় রূপ নেবে।”
এদিকে ফার্মিংটন শহর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছে, এই এলাকা থেকে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করে তা পুনরায় উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। সহকারী নগর ব্যবস্থাপক ক্রিস ওয়েবার জানান, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হবে জমি অধিগ্রহণে। পাশাপাশি পরিবহন সমীক্ষা, রাস্তার পরিবেশ ও সৌন্দর্যবর্ধন,পার্ক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রবেশপথ আধুনিকায়নেও ব্যয় করা হবে।
শহর কর্তৃপক্ষ তাদের এই পুনরুজ্জীবন ও আধুনিকায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গ্র্যান্ড রিভারের ৩১৫০৫ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত ‘ফার্মিংটন জংশন’ ভবনটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।
ওয়েবার বলেন, “আমরা এই এলাকায় নতুন উন্নয়নের গতি সৃষ্টি করতে চাই। যদিও এটি ইতোমধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ ও ভবনে পূর্ণ, তবুও অনেক বাণিজ্যিক স্থাপনাই পুরনো হয়ে গেছে। তাই সেগুলোর আধুনিকায়ন, সংস্কার বা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।”
যদিও ফার্মিংটন শহর এই নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আলাদা কোনো বাজার সমীক্ষা পরিচালনা করেনি, ওয়েবারের মতে প্রতিবেশী ‘ফার্মিংটন হিলস’-এর সমীক্ষার তথ্য এখানেও প্রযোজ্য হতে পারে—কারণ দুটি এলাকা ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন।
তিনি আরও বলেন, এই পুনরুজ্জীবন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলা, যা যানবাহন চালক ও পথচারী উভয়ের কাছেই আকর্ষণীয় হবে। ওয়েবার বলেন, “আমরা চাই না রাস্তার একপাশের দৃশ্য একরকম হবে আর অন্যপাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বেমানান দেখাবে।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :