আমেরিকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ , ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় বাস দুমড়ে-মুচড়ে, ১২ জন নিহত একজন ভাড়াটে খুনি এখন দণ্ডপ্রাপ্ত ভাড়াটে মিথ্যাবাদী মিশিগানে সৌর প্রকল্পে বিভক্ত কমিউনিটি : উন্নয়ন ও কৃষির দ্বন্দ্ব মিশিগানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাতে তিন প্রজন্মের আনন্দ স্টার্লিং হাইটসে কিশোর গুলিতে আহত, ১৮ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্র্যান্ড রিভার করিডোরে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা, বদলে যাবে দুই শহরের চেহারা ওয়ারেনে শ্রেণিকক্ষে অশ্লীল আচরণ : চার্টার স্কুলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে মিশিগানে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্রে আজ ঈদ ডেট্রয়েটে নতুন আমুর বাঘিনী ‘দারিয়া’ আগমন, চিড়িয়াখানায় উচ্ছ্বাস  মিশিগানে হামের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা সাম্পটার টাউনশিপে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণ : তরুণী নিহত, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ডেট্রয়েট আরএক্স কিডস : প্রথম মাসেই ১,০০০-এরও বেশি মায়ের হাতে ১ মিলিয়ন ডলার মানব পাচার রোধে মিশিগানে গোস্ট টিমের নতুন কৌশল ইউএম শিক্ষার্থীর মৃত্যু : ঠান্ডা ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রাণহানি ক্যান্টন টাউনশিপে ট্রাক্টর-ট্রেলার ও পিকআপের সংঘর্ষে আগুন, আহত ৯ ফার্নডেলে কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু ৪ ফুট তুষারে ঢেকে গেল মিশিগান, জরুরি অবস্থা ঘোষণা সেন্টার লাইনে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ভুয়া পরিচয়পত্র বাণিজ্য, অভিযুক্তের জেল

মিশিগানে সৌর প্রকল্পে বিভক্ত কমিউনিটি : উন্নয়ন ও কৃষির দ্বন্দ্ব

  • আপলোড সময় : ২২-০৩-২০২৬ ০৫:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৩-২০২৬ ০৫:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন
মিশিগানে সৌর প্রকল্পে বিভক্ত কমিউনিটি : উন্নয়ন ও কৃষির দ্বন্দ্ব
হাডসনভিলে সৌর প্রকল্প উপস্থাপনায় জনমন্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা/Adam Vander Kooy,Holland Sentinel

হাডসনভি, ২২ মার্চ : বৈশ্বিক শক্তি সংস্থা RWE জিল্যান্ড টাউনশিপ ও জেমসটাউন টাউনশিপে প্রস্তাবিত ১,৯০০ একরের একটি সৌর বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ ও মতামত শোনার জন্য ১৭ মার্চ একটি গণশুনানির আয়োজন করে। এই শুনানিটি মিশিগান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (MPSC) জন্য পাবলিক অ্যাক্ট (PA) ২৩৩-এর অধীনে প্রাক-আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। দ্য সেন্টিনেল এর বরাতে দ্য ডেট্রয়েট নিউজ এ খবর দিয়েছে। 
“সিলভার ম্যাপেল সোলার” নামের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অটোয়া এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্টের কাছে I-196-এর দক্ষিণে কৃষি-অঞ্চলভুক্ত জমিতে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় এলাকায় বড় পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গণশুনানিতে জনসাধারণের মন্তব্য পর্বে স্থানীয় বাসিন্দা লোরান মোয়ার বলেন, “এই পৃথিবীতে শত শত বছর ধরে এমন সম্প্রদায় রয়েছে যারা বিদ্যুৎ ছাড়াই জীবনযাপন করেছে, কিন্তু এমন একটিও নেই যারা খাদ্য ছাড়া জীবনযাপন করেছে।” তিনি কৃষিজমিতে সৌর প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
RWE জানিয়েছে, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের এই ৩৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ৩৪ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। সংস্থাটি ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করার আশা করছে, তবে এটি নির্ভর করবে ডেভেলপাররা কোন অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে তার ওপর।
পাবলিক অ্যাক্ট ২৩৩ ইউটিলিটি-স্কেল সৌর, বায়ু ও ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় প্রকল্পের ডেভেলপারদের সরাসরি MPSC-এর কাছ থেকে অনুমোদন চাওয়ার সুযোগ দেয়, যদি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারগুলো রাজ্যের মানদণ্ডের চেয়ে বেশি কঠোর নয় এমন অধ্যাদেশ গ্রহণ করে। জিল্যান্ড টাউনশিপ পূর্বে একটি “ওয়ার্কেবল ইনকমপ্যাটিবল অর্ডিন্যান্স” গ্রহণে আগ্রহ দেখালেও, এতে বড় প্রকল্পের ওপর অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, জেমসটাউন টাউনশিপ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ পাস করেছে।
ওয়ার্কেবল ইনকমপ্যাটিবল অর্ডিন্যান্স ডেভেলপারদের জন্য রাজ্যের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে RWE এই পথে এগোবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়—বিশেষ করে ১০ মার্চ জিল্যান্ড টাউনশিপ পরিকল্পনা কমিশন আনওয়ার্কেবল ইনকমপ্যাটিবল অর্ডিন্যান্সের দিকে ঝুঁকে পড়ার পর বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
রাজ্যের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, RWE এখনো MPSC-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়নি। প্রকল্পের সাইট প্ল্যান ও সংশ্লিষ্ট নথি tinyurl.com/ynzc2e9z লিংকে দেখা যাবে।


স্থানীয় পদ্ধতিই সর্বদা আমাদের অগ্রাধিকার
RWE গত ১৭ মার্চ একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা ও প্রকল্পের সাধারণ রূপরেখা তুলে ধরে গণশুনানির কার্যক্রম শুরু করে। উপস্থাপনায় মিশিগান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPSC)-এর মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (পারমিটিং) সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
উন্নয়ন ব্যবস্থাপক জো ব্রোচু জানান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ধারণক্ষমতা, সমতল ও নির্মাণযোগ্য জমি, জমির মালিকদের আগ্রহ, বিদ্যুৎ ঘাটতিপূর্ণ এলাকার নৈকট্য এবং নির্ভরযোগ্য অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে বা এটি বন্ধ করে দেওয়া হলে জমিটি পুনরায় কৃষিকাজের উপযোগী করে তোলা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে প্রায় ৩১.৬ মিলিয়ন ডলার কর রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
ব্রোচু স্থানীয় পত্রিকা দ্য সেন্টিনেল-কে বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জিল্যান্ড টাউনশিপের জন্য এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
তিনি আরও জানান, যদিও RWE মিশিগান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কাছে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবুও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই অনুমতিপত্র সংগ্রহ করাকে তারা বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
ব্রোচু বলেন, “স্থানীয় পদ্ধতির মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার সুযোগ থাকলে আমরা সরাসরি টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারি। এতে সময় কম লাগে এবং আবেদনপত্র প্রস্তুতের খরচও কম হয়। তাই স্থানীয় পদ্ধতিই সর্বদা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়।”
গত ১৭ মার্চ হাডসনভিলে অনুষ্ঠিত উপস্থাপনা শুরুর আগে ‘এভারগ্রিন মিনিস্ট্রিজ’-এর প্রাঙ্গণে এক স্থানীয় কৃষক তাঁর ট্রাক্টরগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। ট্রাক্টরগুলোর গায়ে সাঁটানো ফলকে লেখা ছিল—“আমরা ভুট্টা ফলাই, সৌরবিদ্যুৎ নয়।”
ব্রোচুর ভাষ্যমতে, RWE এখনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া বাতিল বা বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। বিশেষ করে জিল্যান্ড টাউনশিপ বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি স্থানীয় অধ্যাদেশ প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেই কোম্পানি উভয় পথেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা রাজ্য পর্যায়ের অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো—উপলব্ধ বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর পথটি বেছে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।”
ব্রোচু আরও জানান, জনসাধারণের বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়া RWE-এর জন্য নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, “ভূমি ব্যবহারের যেকোনো প্রকল্প—তা আবাসিক হোক বা সৌরবিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকে। আমরা সেই মতামতকে সম্মান করি, আর সে কারণেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হয়।”

‘এই চুক্তিটি… আমার পারিবারিক খামারটিকে রক্ষা করছে’
গণশুনানিতে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি শ্রোতার অধিকাংশই প্রস্তাবিত সৌর প্রকল্পের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং প্রায় প্রতিটি জনমন্তব্যের পর করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাডেন্স ডিভ্রি বলেন, “আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমরাই জিতব, কারণ আমরা এই কমিউনিটির প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করতে চাই।”
গণশুনানিতে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে গভর্নর পদের প্রার্থী টম লিওনার্ড এবং অটোয়া কাউন্টি কমিশনার জো মস উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ‘লেবারার্স লোকাল ৩৫৫’-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কয়েকজন কৃষকও অংশ নেন, যারা তাদের জমি RWE-এর কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক ড্যান এলজিংগা জানান, তিনি টানা ৪২ বছর ধরে নিজের জমিতে চাষাবাদ করছেন। তবে কৃষি ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে তিনি RWE-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে আগ্রহী হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি সৌরশক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এটি একটি ভালো সুযোগ। এতে জমিটি আমাদের মালিকানাতেই থাকবে এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণেও অবদান রাখা যাবে। আমরা এটিকে এমন একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখছি, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও জমিটি আমাদের পরিবারের হাতেই থাকবে। ভবিষ্যতে আমাদের নাতি-নাতনি বা পরবর্তী প্রজন্ম চাইলে আবার কৃষিকাজ শুরু করতে পারবে।”
RWE-এর কাছে জমি ইজারা দেওয়া আরেক কৃষকের মেয়ে লিসা রামসে বলেন, “এই জমিটিই আমার বাবা-মায়ের ৪০১-কে (অবসরকালীন সঞ্চয়)। আমার বাবা-মা তাদের নিজের জমি কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার অন্যদের কীভাবে থাকে, তা আমি বুঝতে পারি না। RWE-এর সঙ্গে এই চুক্তি আমাদের পারিবারিক খামারকে রক্ষা করছে, কারণ এতে জমির মালিকানা আমাদের কাছেই থাকছে এবং কৃষিকাজের বাইরে অন্য বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় অনেক বাসিন্দা প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা পানি ও মাটির সম্ভাব্য দূষণ, স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে স্থাপনা অপসারণ (ডিকমিশনিং) প্রক্রিয়া এবং সম্পত্তির বাজারমূল্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ড্যান কার্কস্ট্রা বলেন, “পাবলিক অ্যাক্ট ২৩৩ আইনটি না থাকলে এই প্রকল্পটি কখনোই অনুমোদন পেত না।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ