মাধবপুর (হবিগঞ্জ), ২ এপ্রিল : উপজেলার মনতলা এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় এ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হয়।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার কাজ চালায়। একটি ক্রেনের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত তেলবাহী ট্রেনটি উদ্ধার করে রেললাইন সচল করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রাতে চুরি হওয়া তেল বিভিন্ন বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন থেকে প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল (জ্বালানি তেল) উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি যৌথভাবে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, টেকনিক্যাল সমস্যা, ওভারস্পিডসহ সম্ভাব্য সব কারণই তদন্তের আওতায় আনা হবে। এখনও পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেট-ঢাকা, একটি সিলেট-চট্টগ্রাম এবং একটি চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের ট্রেন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেলবাহী ট্রেনটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৩৯ হাজার লিটার। তবে ঠিক কতটুকু তেল নষ্ট হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুটি ওয়াগন সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, একটি প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বাকি দুটি ওয়াগনে প্রায় ৭০ শতাংশ তেল অক্ষত আছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত কমিটি নির্ধারণ করবে।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, সেনাবাহিনী ও বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারকিন সংগ্রহ করে প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
জানা যায়, মনতলা এলাকায় সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার ওয়াগনসহ মোট ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুত ছয়টি বগির মধ্যে একটি রেললাইনের পাশের খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর দুটি ওয়াগন থেকে তেল বের হতে শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তা সংগ্রহ করতে থাকেন, ফলে ঘটনাস্থলে ভিড়ের সৃষ্টি হয়। রাত সোয়া ২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে রেলওয়ের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালান।
স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্লিপার, লাইনের নিচে পর্যাপ্ত মাটি ও পাথরের অভাব এবং সিঙ্গেল লাইনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এটি যাত্রীবাহী ট্রেন হলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। দুর্ঘটনার পেছনে ওভারস্পিডসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :