গত ৪ ফেব্রুয়ারি মিশিগানের ডেট্রয়েটে ‘ক্যাডিলাক প্লেস’-এ অনুষ্ঠিত একটি গোলটেবিল আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলনে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE)-এর কার্যপদ্ধতি নিয়ে কথা বলছেন ওয়াসটেনাও কাউন্টির শেরিফ অ্যালিশিয়া ডায়ার/Photo : Daniel Mears, The Detroit News
ওয়াশটেনাও কাউন্টি, ১০ এপ্রিল : ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওয়াশটেনাও কাউন্টির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার মিশিগানের পূর্বাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা ৫৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ওয়াশটেনাও কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি স্যাভিট, শেরিফ অ্যালিসিয়া এম. ডায়ার এবং কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনারদের বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, “যথাযথ যাচাই-বাছাইহীন অবৈধ অভিবাসীরা আমেরিকানদের জীবন, সম্পত্তি এবং বসবাসরত সম্প্রদায়ের জন্য অব্যাহত হুমকি সৃষ্টি করছে—এমন প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও মিশিগানের ওয়াশটেনাও কাউন্টি তাদের কর্মকর্তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দিচ্ছে এবং অপরাধীদের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “ওয়াশটেনাও কাউন্টির নীতিমালার মাধ্যমে ফেডারেল আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।” প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে অভিবাসন আইন প্রয়োগকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং সহিংস অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করার অঙ্গীকার করেছেন।
২০২৫ সালে ডেট্রয়েট নিউজ-এর রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডেট্রয়েটে অবস্থিত মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE)-এর আঞ্চলিক কার্যালয় যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে এখন সংখ্যাগরিষ্ঠই এমন অভিবাসী—যাদের বিরুদ্ধে আগে কখনো কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড নেই।
দ্য নিউজ কর্তৃক বিশ্লেষিত একটি জাতীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ডেট্রয়েট ICE কার্যালয় যাদের গ্রেপ্তার করেছে, সেই ৩,১০০-এরও বেশি ব্যক্তির মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৫ শতাংশের বিরুদ্ধে হয় কোনো অভিযোগ বিচারাধীন ছিল, অথবা তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে সংস্থাটির হাতে আটক হওয়া অভিবাসীদের অর্ধেকেরও বেশি ছিল দোষী সাব্যস্ত অপরাধী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্য নিউজ-এর এক প্রতিবেদক ওয়াশটেনাও কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি স্যাভিটের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি এ মামলার বিষয়ে অবগত নন। ডেমোক্র্যাটিক দলের অ্যাটর্নি জেনারেল পদপ্রার্থী স্যাভিট আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ওয়াশটেনাও কাউন্টির শেরিফ অ্যালিসিয়া এম. ডায়ার দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-কে পাঠানো এক ই-মেইলে বলেন, “আমরা কাউকে কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছি না।” তিনি আরও বলেন, “এই ইস্যুকে ঘিরে যে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে, তা আইন কিংবা আমার দপ্তরের ওপর অর্পিত বাধ্যতামূলক দায়িত্বগুলোকে কোনোভাবেই পরিবর্তন করে না।”
ফেডারেল সরকার তাদের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছে, “অপরাধীদের গ্রেপ্তার হওয়া থেকে আড়াল করার মাধ্যমে” কাউন্টি কর্মকর্তারা “সমগ্র আমেরিকান জনগণের জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।”
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ডায়ারের দপ্তর অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আসা ‘ডিটেইনার’ বা আটকাদেশের অনুরোধগুলো মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, স্যাভিটের দপ্তর স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলিদের নির্দেশ দিচ্ছিল যেন তারা “যতটা সম্ভব অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিণতি এড়িয়ে চলেন।”
‘ডিটেইনার’ হলো যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের পক্ষ থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো একটি অনুরোধ, যার মাধ্যমে জানানো হয় যে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তাদের হেফাজতে নিতে ইচ্ছুক।
ফেডারেল আইনজীবীরা মারিও আরাউজো রদ্রিগেজ নামের এক ব্যক্তির মামলার প্রসঙ্গ টেনেছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। ওয়াশটেনাও কাউন্টি সার্কিট কোর্টে তার বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী এক শিশুর সঙ্গে দ্বিতীয় মাত্রার অপরাধমূলক যৌন আচরণের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, রদ্রিগেজ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় ওয়াশটেনাও কাউন্টি কারাগারের কর্মীরা অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তার আটকের অনুরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হবেন না।
মামলার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ওয়াশটেনাও কাউন্টি শেরিফের দপ্তর ICE-এর পক্ষ থেকে আসা ৪০টি আটকাদেশ বা ডিটেইনার অনুরোধ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ডায়ার বলেন, “ICE-এর নিজস্ব দাপ্তরিক নির্দেশিকাতেই স্পষ্টভাবে বলা আছে যে তাদের ডিটেইনার বা আটক অনুরোধগুলো কেবলই আবেদনমাত্র, কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়; এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার একটি শাখা হিসেবে কাজ করতে বাধ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “এমন কোনো ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আমি আমাদের বাসিন্দাদের অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলব না, কিংবা কাউন্টিকে আইনি দায়বদ্ধতার মুখে ঠেলে দেব না—বিশেষত এমন দায়িত্ব, যার জন্য আমরা বাধ্য নই এবং তেমনি আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বা সরঞ্জামও নেই।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :