সংগৃহীত ছবি : জেডি ভ্যান্স, ফেসবুক পেইজ
ইসলামাবাদ, ১২ এপ্রিল : টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তাঁর আলোচক দল পাকিস্তান ত্যাগ করছে। এতে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের।
বৈঠক শেষে ভ্যান্স বলেন, “আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃসংবাদ হলেও ইরানের জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ।” তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ থেকে ‘এয়ার ফোর্স টু’ বিমানে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত” দাবি-দাওয়াই আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি আলোচনা এবং ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লব-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপ।
ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে সংঘাতের কারণে অবরুদ্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
আলোচনাকে ঘিরে ইসলামাবাদ শহরে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়; লাখো জনসংখ্যার শহর কার্যত লকডাউনে পরিণত হয় এবং মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এই ব্যর্থ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :