আমেরিকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  ‘নববর্ষের ঐকতান’ থিমে ঢাকায় জমকালো বৈশাখী শোভাযাত্রা জীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন বছরের পথে বাঙালি, স্বাগত ১৪৩৩ ইঙ্কস্টারে গুলিবর্ষণে দুই কিশোর নিহত, তদন্ত চলছে ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, আমরা থাকব সামনের সারিতে’ : জামায়াত আমির সম্প্রীতি ও মূল্যবোধই গণতন্ত্রের মূল শক্তি : প্রধানমন্ত্রী উত্তর মিশিগানে বন্যার তাণ্ডব, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের বায়ু এখন আরও নির্মল ওরিয়ন টাউনশিপে সড়ক দুর্ঘটনায় ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা নিহত, আহত ৩ ডেট্রয়েটে গ্যাস স্টেশনে চালককে গুলি করে গাড়ি ছিনতাই জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয় : তারেক রহমান মার্কিনজুড়ে চুরির জাল, কলম্বিয়ান নাগরিকসহ চক্রের সাজা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ব্যর্থ বার্মিংহামে ভোরের পার্টিতে বাগবিতণ্ডা থেকে গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ১ মিশিগানে নতুন আবাসন বিল ঘিরে মতবিরোধ মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির বসন্তকালীন সমাবর্তনে বক্তব্য দেবেন গভর্নর রোজভিলে সড়ক দুর্ঘটনা, ৮৫ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থান আবারও ঘুরে দাঁড়াবে ওয়াশটেনাও কাউন্টির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

জীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন বছরের পথে বাঙালি, স্বাগত ১৪৩৩

  • আপলোড সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ০১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ০১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন
জীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন বছরের পথে বাঙালি, স্বাগত ১৪৩৩
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল : আজ পহেলা বৈশাখ—বাংলা সনের প্রথম দিন। চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে গতকাল বিদায় নিয়েছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; আজ যুক্ত হলো নতুন বছর ১৪৩৩। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে পদার্পণ করছে বাঙালি জাতি। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দিচ্ছে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাকে। বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষীদের প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ উপলক্ষে চলছে নানা আয়োজন।
কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনের সমন্বয়ে ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া এই পঞ্জিকা প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে সুপরিচিত হয়। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় বাংলা বর্ষবরণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশের সঙ্গে বর্ষবরণ উৎসবের সম্পর্ক নিবিড় হয়ে ওঠে। ষাটের দশকের শেষে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন এ উৎসবকে বিশেষ মাত্রা দেয়। স্বাধীনতার পর বাংলা নববর্ষ পরিণত হয় বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে—এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব, সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আজ বর্ষবরণের আনন্দে মুখর থাকবে বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে মানুষ মিলিত হবে এই সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায় থাকবে মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণভেদ ভুলে সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেবে উৎসবে। মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোর প্রত্যয়ে শহর থেকে গ্রামজুড়ে বসবে উৎসবের মেলা। একসুরে ধ্বনিত হবে—“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…”
হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজ বাঙালি মেতে উঠবে বাধভাঙা উল্লাসে। উৎসব, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠবে বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুছে যাবে পুরনো সব জরা ও গ্লানি; নতুন দিনের গান গেয়ে উঠবে সবাই। বৈশাখী উৎসব বাঙালিকে তার শেকড়ের সন্ধান দেয়।
নতুন বছরের প্রথম দিনে কৃষক বুনবে নতুন স্বপ্ন, ব্যবসায়ীরা খুলবে হালখাতা। সারাদেশে চলবে লোকজ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন ও মেলা। শিশুরা তালপাতার সেপাই, টমটম গাড়ি, ঢোল ও বাঁশি নিয়ে ফিরবে আনন্দে। ঘরে ঘরে ও রেস্তোরাঁয় থাকবে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। সাদা-লালের সমন্বয়ে পাঞ্জাবি-ফতুয়া পরে শিশু, তরুণ, যুবা ও প্রৌঢ়রা ঘুরে বেড়াবে। আর কিশোরী-তরুণী ও নারীরা খোঁপায় ফুল গেঁথে বর্ণিল সাজে শামিল হবে বর্ষবরণের আনন্দমেলায়।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ ছুটির দিন। পহেলা বৈশাখে আজ বর্ণিল উৎসবে মাতবে সারাদেশ। এ উপলক্ষে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
রাজধানীর রমনা বটমূলে ১৪ এপ্রিল সকালে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও ছায়ানট যৌথভাবে আয়োজন করবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের প্রধান আয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। জাতীয় এ আয়োজনসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিওতে সম্প্রচার করা হবে।
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী নববর্ষের মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশের কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খাবার সরবরাহ করা হবে। শিশু পরিবারের শিশুদের জন্য আয়োজন করা হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব জাদুঘর ও প্রত্নস্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য থাকবে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ।
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি লোকজ মেলা, রচনা প্রতিযোগিতা ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে নববর্ষ। উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিগুলোও আয়োজন করবে নিজস্ব অনুষ্ঠান।
এদিকে, রাজধানীর অভিজাত হোটেল ও ক্লাবগুলোতেও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, পর্যাপ্ত টয়লেট এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব আয়োজনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স