ঢাকা, ২০ এপ্রিল: বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল এবং গত ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বিদ্যুৎও।
বিদ্যুৎ বিভাগ আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে তা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি বিদ্যুৎ বিভাগের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি কমাতে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি লাইফলাইন গ্রাহক বাদে অন্যান্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্যাসের দাম একাধিকবার বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে বিদ্যুৎ খরচ বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম না বাড়িয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব।
এদিকে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে দাম না বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :