আমেরিকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মহান মানুষের জীবনাবসান, প্রয়াত মিশিগানের রিচার্ড ম্যানুগিয়ান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই ‘লেক আমেরিকা’ নিয়ে এআই ছবি, চাকরি হারালেন মিশিগানের সিইও নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, দেশের পথে সাউথ হ্যাভেনে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে ডিয়ারবর্নের নারী অভিযুক্ত শান্তি, মানবতা ও ন্যায়বিচারের বিশ্ব চান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান মিশিগানের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ডিটিইর ২০ বছরের পরিকল্পনা ব্যাটল ক্রিকের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বন্দুক থেকে গুলি ল্যান্সিংয়ে বাস স্টেশনে বোমা হামলার মিথ্যা হুমকি, ইলিনয়ের নারীকে সাজা দুর্ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা বন্ধ, আবার খুলল ম্যাকিনাক ব্রিজ ৫ ধাপ পিছিয়ে ইউ-এম, তবু ‘বেস্ট ভ্যালু’তে মিশিগানে সেরা মিশিগানে ICE-এর থামানোর চেষ্টা, পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ম্যাকম্ব কাউন্টিতে প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার যেখানে শেষ হয়েছিল জীবন, সেখানেই জেগে রইল জ্যাকোয়ার স্মৃতি বিদ্যুৎ ফিরলেও MSU-তে  কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ শরতের শুরুতেই শীতল মিশিগান, সপ্তাহজুড়ে কম তাপমাত্রা

বৈশাখের ছোঁয়ায় মিশিগানের শিব মন্দিরে প্রাণের মিলনমেলা

  • আপলোড সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০৩:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ০৩:১৫:০২ পূর্বাহ্ন
বৈশাখের ছোঁয়ায় মিশিগানের শিব মন্দিরে প্রাণের মিলনমেলা

ওয়ারেন, ২৬ এপ্রিল : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে অবস্থিত শিব মন্দি টেম্পল অব জয় প্রাঙ্গণে গতকাল বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। গনেশ পূজা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, নৃত্য-সঙ্গীতসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা বরণ করে নেন নতুন বছর, যা পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হয় দুপুরে গনেশ পূজার মধ্য দিয়ে। পূজায় পৌরহিত্য করেন মন্দিরের প্রিস্ট পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু। পূজার মাধ্যমে নতুন বছরের মঙ্গল কামনা করেন উপস্থিত ভক্তবৃন্দ। ধর্মীয় এই আয়োজন প্রবাসে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় করে তোলে।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাঙালিদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। রঙিন পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। নববর্ষ উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে বিভিন্ন স্টল।  
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ণিল সাজে সজ্জিত এই শোভাযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে দীর্ঘ সময়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী সম্প্রীতি বৈদ্য, প্রমিতা বিশ্বাস, অতনু আচার্য্য এবং সঙ্গীত শিল্পী পৃথা দেব, অত্রি রায় ও রূপা রায়। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ঋক সরকার ও পপি দাস। নৃত্যে অংশ নেন সমৃদ্ধি বৈদ্য, রিয়া রায়, কুয়াশা পাল, শ্রাবনী সেন ও মৌসুমী চক্রবর্তী।
সমবেত সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন অজিত দাশ, দীপক দে, রতন হাওলাদার, স্বদেশ সরকার, নিলীমা রায়, কাবেরী দে, সঙ্গীতা পাল, রূপাঞ্জলী চৌধুরী, গৌরী আচার্য্য বেবী, লাকী পুরকায়স্থ এবং চিনু মৃধা। তাদের পরিবেশনায় প্রবাসে থেকেও দেশীয় সুরের আবেশ ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অন্তরা অন্তির কোরিওগ্রাফিতে সিলেটের বিয়ে নিয়ে নৃত্যনাট্য। এতে অংশ নেন সুহানি, জেসিকা, টুলটুল, প্রান্ত, স্বর্ণিকা, রিয়া, কুয়াশা, প্রদিতা, চাঁদুন, অরিত্র, স্বাগত, অনুব্রত, কৌম্যসহ আরও অনেকে। নৃত্যনাট্যটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং করতালিতে মুখরিত হয় পুরো মঞ্চ। এছাড়াও কৌতুক পরিবেশন করেন জিতেন গোপ, যা অনুষ্ঠানে হাস্যরসের আমেজ এনে দেয়।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মন্দিরের প্রিস্ট পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ড. দেবাশীষ মৃধা ও তাঁর সহধর্মিণী চিনু মৃধাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বটি উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে এবং পুরো প্রাঙ্গণে সৃষ্টি করে প্রাণবন্ত ও মনোযোগী পরিবেশ। পরে মন্দির ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এর আগে ড. দেবাশীষ মৃধা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক পর্বের এক বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিখ্যাত লোককবি রাধারমণ দত্তের ধামাইল গান “জলের ঘাটে গিয়া” পরিবেশন করেন মন্দিরের মায়েরা, যা পুরো প্রাঙ্গণকে আবেগ ও সুরের মায়াজালে আবদ্ধ করে রাখে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সৌরভ চৌধুরী।
উৎসবের শেষাংশে ছিল নৈশভোজের আয়োজন। মন্দিরের পক্ষ থেকে ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ছিল দেশীয় পিঠা, ভর্তা এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের সমৃদ্ধ সমাহার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনেক প্রবাসী পরিবার নিজ নিজ বাড়ি থেকে ভালোবাসা দিয়ে প্রস্তুত করা খাবার নিয়ে আসেন এবং সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন। ফলে পুরো আয়োজনটি এক অনন্য পারিবারিক মিলনমেলায় রূপ নেয়। এই সম্মিলিত খাদ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসেও বাঙালির চিরন্তন আতিথেয়তা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
রাউজানে ধম্মকথা’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

রাউজানে ধম্মকথা’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন