আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ , ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট মার্কিন বিনিয়োগে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল  স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা বিপ্লব কুমারসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত খুলনায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা সিলেটে একই বাসায় তিনজন খুন আধিপত্যবাদবিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে  ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ চায় ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকায় ভারতের ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ওয়ারেনে পৃথক দুই ঘটনায় গুলিতে নিহত ২ : সন্দেহভাজনরা গ্রেপ্তার রোজভিলে বিয়ের অনুষ্ঠানে গোলাগুলি, আহত ৫ সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শোক এসএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২ শতাংশ সাউথফিল্ডের রেস্তোরাঁয় গুলিবর্ষণ, নিহত ২ লেক সেন্ট ক্লেয়ারে এক সাঁতারু নিখোঁজ মিশিগানে ড্রোন পরীক্ষার নতুন দুয়ার, ক্যাম্প গ্রেলিংকে স্বীকৃতি ডেট্রয়েটে ধারাবাহিক অগ্নিসংযোগ ও  চুরি : গ্রেপ্তার সাবেক দমকলকর্মী

রবীন্দ্রসংগীতে বৈশাখ

  • আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ০৩:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ০৩:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
রবীন্দ্রসংগীতে বৈশাখ
রবীন্দ্রনাথের  সাহিত্যমালার মধ্যমণি হল সংগীত। কবি নিজেও তাঁর সংগীতের সুদূরপ্রসারী বিস্তার, উৎকর্ষ, বৈভব এবং সর্বজনগ্রাহ্যতা বিষয়ে সুদৃঢ় স্বতঃস্ফূর্ত আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গভীর ব্যঞ্জনাদীপ্ত  বাণী, ভাবের অতলান্ততা, শিল্পের লাবণ্য, প্রকাশের চিত্তরঞ্জী সংরাগ সর্বোপরি সুরের অপরূপ হৃদয়বেদ্যতায় রবীন্দ্র সংগীত বাংলা কাব্যসংগীতে অনতিক্রম্য সৌন্দর্যের অমরাবতী।
তাঁর গান বিষয় বৈচিত্র্যে সমুজ্জ্বল। প্রকৃতি বা নিসর্গ রবীন্দ্রনাথের সংগীত ভাবনায় অন্যতম অনুষঙ্গ। রবীন্দ্র সংগীতে বাংলার ষড়ঋতু স্ব স্ব মহিমায় এক অন্যরকম প্রদীপ্তি লাভ করেছে। মানব প্রকৃতি ও বিশ্বপ্রকৃতিযে একই সূত্রে গাঁথা, বিশ্বপ্রকৃতির তরঙ্গ মূর্ছনায় মানব প্রকৃতিওযে বিচিত্র বর্ণ-বিভঙ্গে জেগে উঠে এ বোধ রবীন্দ্রসংগীতে শতধারায় উৎসারিত।  

ঋতুচক্রের আবর্তনে পৃথিবীর নব নব রূপ  গানে সমুদ্ভাসিত। এ বিষয়ে করুণাময় গোস্বামী বলেন," বাংলা কাব্য সংগীতের ধারায় এক অমূল্য সংযোজন রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি বিষয়ক গান। অপর কোন বাঙালি সংগীত রচয়িতার কর্মে প্রকৃতির গান এমন একটি নান্দনিক পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। রবীন্দ্র সংগীতালোচকগণ এই গানকে বলেছেন ঋতু সংগীত... রবীন্দ্রনাথের গানের ভেতর দিয়ে বাংলায় ষড়ঋতুর লীলার মধ্যে বিশ্ব প্রকৃতির যে আভ্যন্তর ছন্দটি বিকশিত হয়ে উঠেছে তাকে আমরা নিবিড়  করে পাই।... রবীন্দ্রনাথের গ্রীষ্মের গান ১৬ টি "।১

অনিবার্যভাবেই বৈশাখের বিচিত্ররূপ  তথা বৈশাখকেন্দ্রিক রবীন্দ্রমানস বিশিষ্ট শিল্পাঙ্গিকে  বিভাসিত হয়েছে। সংবেদনশীল কবিচিত্তের সোনারকাঠির ছোঁয়ায় লাভ করেছে এক অন্যরকম প্রদীপ্তি। এবার আমরা বৈশাখ বিষয়ে  রচিত কয়েকটি গান বিষয়ে কিছু বলার চেষ্টা করব।

রবীন্দ্রনাথ প্রাণের কবি। স্বচ্ছতার কবি। আগল ভাঙার কবি। এ কারণেই বৈশাখী ঝড় তাঁর মনবাঁশিতে উদ্দীপনার সুর জাগায়। নতুন উদ্যমের বার্তা নিয়ে আসে। বৈশাখের ধ্বংসাত্মকরূপ কবিকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করে না। বরং মোহনমধুর বৈশাখী অনুভবে কবি আপন হৃদয়কে উজ্জীবনের আবাহন জানান,
"হৃদয় আমার ওই বুঝি তোর বৈশাখী ঝড় আসে।
বেড়া-ভাঙার মাতন নামে উদ্দাম উল্লাসে।...
এবার জাগরে হতাশ, আয়রে ছুটে অবসাদের বাঁধন টুঁটে_
বুঝি এল তোমার পথেরসাথি বিপুল অট্টহাসে। "

বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাতে যে গানটি গাওয়া হয়, সে গান বাণীর হিল্লোল আর সুরের মূর্ছনায় সমস্ত গ্লানি,জরা, ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পেছনে ফেলে নব আলোকে উদ্দীপিত করে। অগ্নিস্নানে শুচি হওয়ার দীপ্ত আবাহনে মন-মননে উজ্জীবনের বাঁশি বাজায়। এককথায় বলাযায়, এটি বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রীষ্মের গান। প্রাণবিক মনস্বিতায় দীপ্র গানটি হল,
"এসো এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে
মুমূর্ষুরে  দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।
...  মুছে যাক গ্লানি ঘুছে যাক জরা
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। "
বীর্যবত্তায়, কল্যাণচিন্তায়, অলংকারের ঔজ্জ্বল্যে, রসের বিস্তারে,  পৌরুষব্যঞ্জক চিত্তরঞ্জী এই গানটি বাংলা কাব্যসংগীতের আসরে এক অনন্য রত্ন বিশেষ।

বৈশাখের সুতীব্র তাপ-প্রবাহে আকাশে বাতাসে হাহাকার। অসহ তৃষায় ধরণী যখন আশাহীন, ভাষাহীন, ম্রিয়মাণ তখন শোনাযায় জীবনের জলতরঙ্গ সুর।
শোনাযায় সবুজ জীবনের প্রাণদায়ী গুঞ্জন। কাজল মেঘের সজল ইশারায় তখন থরে থরে ফুটে আশার ফুল।দীপাবলির আলোয় আলোয় প্রদীপ্ত হতে  থাকে জীবনের রংধনু  আল্পনা। জীবন তখন ভরা বর্ষার কূলপ্লাবী নদীর মত সুধা- গন্ধে হিল্লালিয়া ওঠে ,
"বৈশাখ হে, মৌনী তাপস কোন অতলের বাণী
এমন কোথায় খুঁজে পেলে।
তপ্ত ভালের দীপ্তি ঢাকি মন্থর মেঘখানি এল গভীর ছায়া ফেলে...
নিঠুর তুমি তাকিয়েছিলে মৃত্যু ক্ষুধার মতো...
হঠাৎ তোমার কণ্ঠে এ যে
আশার ভাষা উঠল বেজে
দিলে তরুণ শ্যামলরূপে করুণ সুধা ঢেলে । "
এই গানে বৈশাখের রুদ্রভীষণ রূপের সাথে কোমলমধুর স্নিগ্ধ রূপের আশ্চর্য সুন্দর ভাবপরিণয় ঘটেছে।

সবশেষে আমরা আপন জন্মদিনের জন্য লেখা রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত গান চয়ন করব। সবদিক থেকেই গানটি বিশিষ্ট, কাব্যশ্রীমণ্ডিত, এবং ভাবসম্পদে অতুলনীয়। এটি কবির নিজের সুর করা শেষ গান।   তাঁর অনন্য জীবনবোধ শিল্প- বৈভবে ভাস্বর হয়ে আছে  গানের প্রতিটি পরতে পরতে।

অসীমের কবি, চির বিস্ময়ের কবি সংগীতের হিরণ্ময় উৎসারে এখানে নবজীবনের জয়গান গেয়েছেন। কুহেলির শৃঙ্খল ভেঙে প্রদীপ্ত সূর্যের মত কবি সর্বব্যাপ্ত হতে চান। উদয় দিগন্তের দীপ্র শঙ্খধ্বনি কবিকে মরণজয়ী জীবনের অমিয়  আস্বাদে প্রাণিত  করে। জীবনের গভীরতর প্রত্যয়ে তিনি এখানে বলিষ্ঠ। জীবনের নবধারা জলে পুলকসিনানে  কবি অধীর  আকুল।তাঁর কণ্ঠে অবিরল ধ্বনিত হতে থাকে অবিনাশী জীবনের বিজয় -উল্লাস, অবিনাশী  মহিমা , 
"হে নূতন,
দেখা দিক আর বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন।...
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,...
উদয় দিগন্তে শঙ্খ বাজে
মোর চিত্ত মাঝে
চির নূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ। "

এভাবেই রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের বিপুলতাকে, মানব মনে প্রকৃতির নিরন্তর প্রভাবকে চিরশ্রী দান করেছেন। এই অশেষ ব্যঞ্জনা আংশিক বিচছুরিত হয়েছে বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখের বিচিত্র তরঙ্গ-দোলায়, সর্বোপরি সুরের মধুরিমা ইন্দ্রজালে। সার্বিক বিবেচনায় রবীন্দ্রসংগীত দোসরহীন ।
অনন্য সুন্দর। এ বিষয়ে আমরা বিখ্যাত রবীন্দ্র-গবেষক, কিংবদন্তি শিল্পী সনজীদা খাতুন এর কথার সাথে একাত্ম হয়ে বলব, "রবীন্দ্রনাথের শিল্পীসত্তার বিচিত্র বিকাশের মধ্যে তাঁর গান অন্যশিল্প নিরপেক্ষভাবে আত্ম  পরিচয়ে একক।"২  

তথ্যসূত্র
১. করুণাময় গোস্বামী বাংলা সংস্কৃতির শতবর্ষ, (বাংলা সংস্কৃতির শতবর্ষ: সংগীত, প্রবন্ধ)
সুধীজন পাঠাগার, নারায়ণগঞ্জ, ১৪০০, পৃ: ১৭৬-১৭৯।
২, রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ সানজীদা খাতুন, মুক্তধারা, ১৯৮১,পৃ: ৩৫।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স