ওয়ারেন, ২৫ মে : ‘কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি…’—ব্যর্থ প্রেম ও বিরহের এই করুণ সুর আজও বাংলা সাহিত্যে গভীর আবেগের অনুরণন সৃষ্টি করে। আজ ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্যে যিনি একাধারে বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, সেই কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ।
‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে খ্যাত নজরুল একদিকে যেমন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন প্রতিবাদ, তেমনি প্রেম ও বেদনার কবিতায় প্রকাশ করেছেন মানব হৃদয়ের কোমলতম অনুভূতি। তাঁর সৃষ্টি করা অসংখ্য কবিতা ও প্রায় তিন হাজার গান বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে, যা আজ ‘নজরুলসংগীত’ নামে পরিচিত।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই সংগ্রামমুখর জীবনের মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে ওঠেন। ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
১৯২২ সালে প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য তিনি ব্রিটিশ শাসনের রোষানলে পড়েন ও কারাবরণ করেন। তবে দমন-পীড়নও তাঁর কলম থামাতে পারেনি।
সাহিত্য, সংগীত ও চলচ্চিত্র সব ক্ষেত্রেই নজরুলের ছিল অনন্য অবদান। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর, যাঁর লেখনী শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
১৯৭২ সালে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তবে শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর সৃষ্টি আজও বেঁচে আছে কোটি মানুষের হৃদয়ে- প্রেমে, প্রতিবাদে ও মানবতায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :