ম্যাকিনাক, ২৯ মে : গত এক দশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডেট্রয়েট “অস্বীকার করার মতো নয় এমন অগ্রগতি” অর্জন করলেও, শহরের মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেছেন, এই প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে হলে দারিদ্র্যের হার কমানো অত্যন্ত জরুরি। যা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
ম্যাকিনাক আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত 'ম্যাকিনাক পলিসি কনফারেন্স'-এ ‘ডেট্রয়েট রিজিওনাল চেম্বার’-এর আয়োজনে দেওয়া ৩০ মিনিটের বক্তৃতায় শেফিল্ড শহরের বেকারত্ব ও আর্থিক সংকট নিরসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “মানুষ নাকি ব্যবসা- এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এ দুয়ের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক।” তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে “মানুষকে অগ্রাধিকার” দেওয়ার নীতিতে মিশিগানের ব্যবসায়িক নেতাদের অংশগ্রহণ জরুরি।
শেফিল্ড ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের কর্মীবাহিনী ও অঞ্চল গড়ে তুলতে মানুষের ওপর বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিন। এর মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ব্যবসার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ও সুস্বাস্থ্যকর পরিবর্তন দেখতে পাবেন।”
২০১৪ সালে দেউলিয়াত্ব থেকে বেরিয়ে আসার পর ডেট্রয়েট টানা ১৩টি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট অনুমোদন করেছে এবং সম্প্রতি মুডি'স ও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস উভয় সংস্থার কাছ থেকেই উন্নত ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান অর্জন করেছে।
তবে শেফিল্ড জানান, রেটিং সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা তাকে জানিয়েছেন যে, ডেট্রয়েটের বাসিন্দাদের গড় পারিবারিক আয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, একই ধরনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা থাকা অন্যান্য শহরের তুলনায় ডেট্রয়েট এখনও উচ্চতর ক্রেডিট রেটিং অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।
মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেট্রয়েট শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় ছিল ৩৯,৯৩৮ ডলার; অন্যদিকে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক মধ্যম পারিবারিক আয় ছিল ৭২,৩৮৯ ডলার।
মেয়র মেরি শেফিল্ড বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণ কোনো দাতব্য কাজ নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক উদ্দীপক।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্বাচিত হইনি। দারিদ্র্য দূরীকরণই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।”
ম্যাকিনাক পলিসি কনফারেন্সে ডেট্রয়েট মেয়রের উপস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে উঠলেও, ব্যবসায়ী নির্বাহী, জনহিতৈষী নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের এই সমাবেশে এটিই ছিল মেয়র শেফিল্ডের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
তিনি জানান, তার প্রশাসন এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ‘হিউম্যান, হোমলেস অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস’ নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা, শহরের 'আরএক্স কিডস' কর্মসূচির সূচনা; এবং শহরের সব পূর্ণকালীন কর্মীর জন্য বছরে ন্যূনতম ৪৪,৬১৫ ডলার বেতন নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
শেফিল্ড উল্লেখ করেন যে, ডেট্রয়েটের মোট বাসিন্দাদের প্রায় ৩৫ শতাংশ, যার মধ্যে ৫১ শতাংশ শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্যের এই উচ্চ হার শহরের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য একটি গুরুতর “লাল সংকেত” হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ‘গ্রো ডেট্রয়েটস ইয়াং ট্যালেন্ট’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগে বিনিয়োগের মাধ্যমে শহরের শিশু ও কিশোরদের জীবনমান উন্নত হবে। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচিটি সাবেক মেয়র মাইক ডুগানের প্রশাসনের সময় চালু হয় এবং বর্তমানে শহরের নবগঠিত ‘শিক্ষা ও যুব বিষয়ক দপ্তর’-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
শেফিল্ড একটি পাঁচ-ধাপবিশিষ্ট “ইতিবাচক চক্র” বা সৎচক্রের রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে ডেট্রয়েটের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো মানুষের ওপর বিনিয়োগ, যা তৈরি করবে আরও দক্ষ ও সক্ষম কর্মীবাহিনী। এর ফলে বাড়বে মধ্যম আয় ও উন্নত হবে প্রতিবেশী পরিবেশ, যা আবার কর্মসংস্থান ও খুচরা ব্যবসার আকর্ষণ বৃদ্ধি করবে এবং শেষ পর্যন্ত আরও বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :