মাউন্ট ক্লেমেন্স, ৯ জুন : আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত মাউন্ট ক্লেমেন্সের এক নারীকে গত সপ্তাহে সাজা দেওয়া হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ৩০ বছর বয়সী জেসমিন এলিস রিক্সকে ম্যাকম্ব কাউন্টি জেলে ৬০ দিনের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের প্রবেশনের (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রিক্সকে অঙ্গরাজ্যের যৌন অপরাধী নিবন্ধন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া তার ওপর একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অবৈধ মাদক ব্যবহার করা যাবে না এবং তত্ত্বাবধান ছাড়া ১৭ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তার নিজের মেয়েও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, কোনো ধরনের যৌন উদ্দীপক সামগ্রী নিজের কাছে রাখতে পারবেন না।
এদিকে, ম্যাকম্ব কাউন্টির প্রসিকিউটর পিটার জে. লুসিডো রায়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তার কার্যালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণ করবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লুসিডো বলেন, “শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া কোনো ভুক্তভোগীহীন অপরাধ নয়। প্রতিটি ছবি ও ভিডিও একটি বাস্তব শিশুর ওপর সংঘটিত নির্যাতনের সাক্ষ্য বহন করে। এসব সামগ্রী বারবার ছড়িয়ে পড়ার ফলে ভুক্তভোগীরা পুনরায় মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকার হন। এই ধরনের ফাইল শেয়ার করার প্রতিটি ঘটনাই শিশুদের অব্যাহত শোষণকে উৎসাহিত করে।” সোমবার মন্তব্যের জন্য রিক্সের আইনজীবী পিটার টরিসকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত মার্চ মাসে রিক্স শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী বিতরণ, প্রচার অথবা এসব কার্যক্রমে অর্থায়নের তিনটি অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন করেন। ‘নো কনটেস্ট’ আবেদনের অর্থ হলো অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার না করে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। মিশিগানের আইনে এ ধরনের আবেদনকে দোষ স্বীকারের (গিল্টি প্লিয়া) সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অপরাধগুলোর প্রত্যেকটির জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রিক্সের ওই আবেদনের বিনিময়ে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে আনা আরও আটটি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। এর মধ্যে ছিল শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী গুরুতর মাত্রায় নিজের কাছে রাখার (অ্যাগ্রাভেটেড পজেশন) তিনটি অভিযোগ, সাধারণ মাত্রায় এমন সামগ্রী রাখার একটি অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনে কম্পিউটার ব্যবহারের চারটি অভিযোগ।
মিশিগান আইনে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী গুরুতর মাত্রায় নিজের কাছে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের এবং সাধারণ মাত্রায় রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া রিক্সের বিরুদ্ধে কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের তিনটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি) অভিযোগ ছিল, যার প্রতিটির জন্য ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের আরও একটি ফেলোনি অভিযোগও আনা হয়েছিল, যার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিক্সের কম্পিউটারে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী পাওয়া যায় এবং তিনি সেগুলো অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, 'ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন'-এর কাছ থেকে রিক্স সম্পর্কে একটি গোপন তথ্য পাওয়ার পর ম্যাকম্ব কাউন্টি শেরিফ অফিসের গোয়েন্দারা মার্চ মাসের শুরুর দিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, ওই বাসায় বসবাসকারী একটি শিশুর নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি 'চাইল্ড প্রোটেক্টিভ সার্ভিসেস'-এর কাছেও পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের জুন মাসে সরকারি কৌঁসুলিরা রিক্সের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan
