আমেরিকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েল ইস্যুতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান কর্মকর্তাদের টার্গেট, ৮ জন অভিযুক্ত উত্তপ্ত বৈঠকের পর হ্যামট্রাম্যাকের সিটি ম্যানেজার আদলানিকে বরখাস্ত মিশিগানে তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কা,  হতে পারে শিলাবৃষ্টি ও টর্নেডো টানা ২০ বছর পর আজ সংসদে বাজেট দিচ্ছে বিএনপি ডেট্রয়েট রিভারে ঝড়ো হাওয়ায় উল্টে গেল ৭ নৌকা, ২০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু কাল মিশিগানে একই পরিবারের চার  সদস্যকে গুলি করে হত্যা মিশিগানের জলাশয়ের মাছ খাওয়ার আগে জেনে নিন নতুন সতর্কতা শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার দায়ে মাউন্ট ক্লেমেন্সের এক নারীর সাজা  রেডফোর্ডে উল্টো পথে গাড়ি  চালিয়ে প্রাণ গেল চালকের ডেট্রয়েটে অ্যাপার্টমেন্টে আগুন,  আহত ৪ : ঘরছাড়া বহু পরিবার ডেট্রয়েটে অভিবাসন অভিযানে গাড়ি দুর্ঘটনা, আহত সন্দেহভাজন ভালোবাসা ও সমতার বার্তায় রঙিন ডেট্রয়েট প্রাইড প্যারেড শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড মিশিগানের নারী কারাগারে এক  মাসেরও কম সময়ে তৃতীয় বন্দির মৃত্যু চট্টগ্রামে মন্দির ইস্যুতে ইসকন ও স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে সংঘর্ষ হার্ট প্লাজায় দুই দিনের ‘মোটর সিটি  প্রাইড’, উৎসবমুখর ডেট্রয়েট গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ১০ হাজার ভক্তের সামনে হাজির হচ্ছেন লেখিকা ক্রিস্টিন হানা ডেট্রয়েটে টানা ১১ বছর ধরে বাড়ছে বাড়ির দাম হেনরি ফোর্ড হেলথে লকডাউন, অস্ত্রসহ হুমকিদাতা আটক

ইসরায়েল ইস্যুতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান কর্মকর্তাদের টার্গেট, ৮ জন অভিযুক্ত

  • আপলোড সময় : ১২-০৬-২০২৬ ০৩:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৬-২০২৬ ০৩:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েল ইস্যুতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান কর্মকর্তাদের টার্গেট, ৮ জন অভিযুক্ত
ছবি বাম থেকে জাইনাব হাকিম, জোনাথন জো এবং কলিন ওয়েগার/Sanilac County Jail

অ্যান আরবার, ১২ জুন : অনলাইন আদালত নথি অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানকে (UM) ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে সাতজনেরই বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে বর্তমান বা সাবেক সংশ্লিষ্টতা ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অভিযুক্তরা ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের একাধিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সান্তা ওনো, প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা, প্রভোস্ট, বোর্ড অব রিজেন্টসের সদস্য, ডেট্রয়েটের ইহুদি ফেডারেশনের সদস্যসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই কথিত হুমকি ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের সময় অভিযুক্তরা এনক্রিপ্টেড চ্যাট প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তাদের শনাক্ত এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করত।
অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে পাঁচজন বুধবার ডেট্রয়েটের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক অ্যান্থনি প্যাটির সামনে হাজির হন। বিচারক শুক্রবার দুপুর ১টায় নির্ধারিত আটক-সংক্রান্ত শুনানি পর্যন্ত তাদের ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের অন্তত অর্ধেকের কোনো ছবি বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি।

সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে যা জানা গেছে
জাইনাব হাকিম : ২৩ বছর বয়সী হাকিম ক্যান্টন টাউনশিপের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা নথিতে তদন্তকারীরা তাঁকে এই দলের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দলের জন্য সমর্থক সংগ্রহ করতেন এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট পরিচালনা করতেন।
হাকিম ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে ‘হিস্ট্রি অব আর্ট’ এবং ‘উইমেনস অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ’-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ‘ইসলামিক স্টাডিজ’-এ মাইনর সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের শরৎকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ’-এ অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগ দেন। তবে ‘দ্য পলিস প্রজেক্ট’-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ মে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাঁর আচরণ পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, হাকিমের বিরুদ্ধে সাক্ষীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য একটি গুরুতর অপরাধ (ফেলোনি)। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হাকিম ও আরেকজন অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের এক অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীকে হুমকি দেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, ওই শিক্ষার্থী যেন হুমকি-ধমকির ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের কিছু না জানান—এটি নিশ্চিত করা।

আমাতুল্লাহ হাকিম : ২১ বছর বয়সী আমাতুল্লাহ হাকিম অ্যান আরবারের বাসিন্দা এবং অভিযোগপত্রে তাঁকে জাইনাবের “বোন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দাখিল করা সরকারি নথি অনুযায়ী, আমাতুল্লাহ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র ‘মিশিগান ডেইলি’-তে একজন কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের (UM) প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনি ক্যান্টন টাউনশিপের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ রণজীব পুরির ডেমোক্রেটিক স্টেট সিনেট নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেন। প্রোফাইল অনুযায়ী, ২০২৭ সালে তাঁর ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল।
ফেডারেল অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফেডারেল কারাগারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
অভিযোগপত্রে আমাতুল্লাহ হাকিমকে এমন একটি ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের একজন রিজেন্টের আইনগত প্রতিষ্ঠানে ২০২৪ সালের ৩ জুন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের বিবরণ পূর্ববর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে সাউথফিল্ডে রিজেন্ট জর্ডান অ্যাকার-এর আইনি প্রতিষ্ঠানে ওই তারিখে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে।
এর কয়েক দিন আগে, সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন যে জয়নব হাকিম অনলাইনে ওয়াটার বেলুন এবং স্প্রে পেইন্টের মতো সরঞ্জাম অনুসন্ধান করেছিলেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ১ জুন জাইনাব হাকিম তাঁদের পারিবারিক গ্যারেজে আমাতুল্লাহ হাকিমের একটি ছবি তোলেন। ছবিতে দেখা যায়, আমাতুল্লাহ “বেলুনে লাল রঙ ভরছেন এবং ক্যামেরার দিকে হাসছেন, আর তাঁর হাত লাল রঙে মাখানো—যেন রক্তমাখা হাত”।
এর দুই দিন পর, ৩ জুন, কৌঁসুলিদের দাবি অনুযায়ী, জাইনাব হাকিম ও অন্যান্যরা ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের রিজেন্টের আইনগত প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান। তাঁরা ভবনের দিকে লাল রঙের বেলুন নিক্ষেপ করেন এবং জানালার কাঁচে লাল রঙের হাতের ছাপ রেখে যান।
এছাড়া ভবন ও ফুটপাতে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়, যার মধ্যে ছিল—“DIVEST OR F--- OFF” (বিনিয়োগ প্রত্যাহার করো অথবা বিদায় হও), “UM KILLS” (ইউএম হত্যা করে), “FREE PALESTINE” (ফিলিস্তিন মুক্ত করো) এবং “DIVEST NOW” (এখনই বিনিয়োগ প্রত্যাহার করো)।

পেইজ ফিয়ক : ২৬ বছর বয়সী পেইজ ফিয়কের বাড়ি অ্যান আরবারে। সরকারি নথিতে তাঁকে ওই দলের “কাউন্টার-সার্ভেইল্যান্স” বা নজরদারি-বিরোধী বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর কাছে একটি পুলিশ স্ক্যানার ছিল, যা তিনি ব্যবহার করতেন।
তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল কাজের প্রস্তুতি এবং এমসিএটি (MCAT) পরীক্ষার জন্য তিনি তিন বছর আগে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (UM) মেডিকেল স্কুলের পোস্ট-ব্যাকালরিয়েট প্রি-মেড প্রোগ্রামে যোগ দেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তিনি মিশিগান মেডিসিনে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন।
প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি স্বাস্থ্য সমতা বা “হেলথ ইকুইটি” বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে টাফটস ইউনিভার্সিটির “মাদার ল্যাব” (MOTHER Lab) এবং “ব্ল্যাক রিপ্রোডাক্টিভ জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ স্টাডি”।
ফেডারেল অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ (ফেলোনি) এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ফিয়ক ও জাইনাব হাকিম মিলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের এক অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহমেত কোরকায়া : ২৮ বছর বয়সী আহমেত কোরকায়ার বাড়ি উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে। তিনি মেডিকেল কলেজ অব উইসকনসিনের “মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম”-এর একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। সরকারি তথ্যমতে, তিনি বর্তমানে একটি স্থানীয় হাসপাতালে (যার নাম প্রকাশ করা হয়নি) কর্মরত আছেন।
মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইটে থাকা প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ক্যানসার বায়োলজি ও টিউমার ইমিউনোলজি। এছাড়া তিনি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
কোরকায়া যুক্তরাষ্ট্রের একজন ন্যাচারালাইজড (নাগরিকত্ব অর্জনকারী) নাগরিক। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহস্পতিবারের নথি অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যরা তুর্কি সরকারের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর কাছে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ তুর্কি পাসপোর্ট রয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলিদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে তিনি মিশর, কানাডা, ভারত ও নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া তাঁর আইক্লাউড (iCloud) রেকর্ডে আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের একটি “ফরেন রেসিডেন্স কার্ড” সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেছে।
কোরকায়ার বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফেডারেল কারাগারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে। বুধবার উইসকনসিনের একজন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক তাঁকে বন্ডে মুক্তি দেন। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে মাসের একটি চ্যাট বা বার্তা আদান-প্রদানের ঘটনায় ফিয়ক ও করকায়া (তখন একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী) একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা, নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে আলোচনা করেন। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সান্তা ওনোও ছিলেন, যাকে অভিযোগপত্রে “ভিক্টিম ৪” বা “V-4” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
করকায়া ওই বার্তায় লিখেছিলেন, “আমরা (V-4)-এর ঠিকানা খুঁজে বের করছি—যদি আগে থেকে জানা না থাকে—যাতে আমি গাড়ি চালিয়ে সরাসরি সেখানে আঘাত করতে পারি। (V-4)-এর পুরো পরিবার এখন আমার ‘হিট লিস্ট’-এ রয়েছে।” অন্যদিকে, ফিয়ক লিখেছিলেন, “চল (V-4)-এর বাচ্চাদের লক্ষ্য করি, ব্র…”।

জোনাথন জো : ২২ বছর বয়সী জো অ্যান আরবারের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (UM)-এর প্রকৌশল বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী।
একটি বিক্ষোভ সমাবেশে মেগাফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিনি পরবর্তীতে মামলা করেন এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের দায়ের করা ওই মামলায় তিনি প্রধান বাদী হিসেবে উল্লেখিত হন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নেন।
ফেডারেল কৌঁসুলিরা বৃহস্পতিবার আদালতে জানান, ২০২৪ সালে এক বিক্ষোভে আচরণের কারণে জো-কে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নথিতে কৌঁসুলিরা উল্লেখ করেন, তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেন এবং “শনাক্ত হওয়া এড়াতে মুসলিম নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন” বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে চীনে যোগাযোগ রয়েছে। কৌঁসুলিদের দাবি, তিনি চীন, তাইওয়ান, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণ করেছেন।
জো-র বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফেডারেল কারাগারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
ফেডারেল কৌঁসুলিদের বৃহস্পতিবার দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, জো এবং তাঁর সহযোগীরা হামাস-সম্পর্কিত সহিংসতার ভিডিও আদান-প্রদান ও সংরক্ষণ করতেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, জো অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্লাইমাউথের একটি বাণিজ্যিক ভবন এবং “ভিক্টিম ৭” (V-7) হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর চালান।

আলেকজান্ডার সেপুলভেদা : ২৩ বছর বয়সী সেপুলভেদা শিকাগোর বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন পুস্তিকা অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (UM)-এর নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি “জুইশ ভয়েস ফর পিস” -এর UM শাখার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
সেপুলভেদার বিরুদ্ধে সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডযোগ্য একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ (ফেলোনি)। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সেপুলভেদা ও জো ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের প্রভোস্টের বাড়িতে একটি “স্বতন্ত্র পদক্ষেপ” (autonomous action) পরিচালনা করেন। এ সময় তাঁরা প্রভোস্টের বাড়ির জানালা দিয়ে নীল রঙের তরল পদার্থ ও পচনশীল খাদ্যবর্জ্য (কম্পোস্ট) ভর্তি দুটি কাচের বয়াম নিক্ষেপ করেন।
এছাড়া তাঁরা বাড়িটির দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট ব্যবহার করে উল্টো লাল ত্রিভুজ এবং “DIVEST” (বিনিয়োগ প্রত্যাহার) ও “FREE PALESTINE” (ফিলিস্তিন মুক্ত করো) লেখা স্লোগান অঙ্কন করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেপুলভেদার বাড়িতে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সতর্কবার্তা এনক্রিপ্টেড গ্রুপ চ্যাটে পাওয়ার পর তিনি তাঁর ফোন ও ল্যাপটপের সব তথ্য মুছে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারিয়াম ওদেহ : ২৪ বছর বয়সী ওদেহ ডিয়ারবর্নের বাসিন্দা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে (UM) প্রি-মেডিক্যাল ধারায় পড়াশোনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিষয় (ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ)-এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ওদেহর প্রাক-বিচারকালীন সেবা কর্মকর্তা ব্রায়ান হারমন বুধবার বিচারক অ্যান্থনি প্যাটিকে জানান, তিনি ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে অধ্যয়ন করেছেন এবং আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে দেওয়া তথ্যে আব্দুল এল-সায়েদের মুখপাত্র রক্সি রিচনার জানান, ওদেহ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এল-সায়েদের সিনেট নির্বাচনী প্রচারণায় ঘণ্টাভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন।
‘টিসিডি ডিয়ারবর্ন নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং ২০২০ সালে ‘আরব আমেরিকা ফাউন্ডেশন’-এর “২০ আন্ডার ২০” তালিকায় স্থান পান। অভিযোগপত্রে ওদেহকে “স্টুডেন্টস অ্যালাইড ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ইকুয়ালিটি” (SAFE)-এর সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওদেহর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফেডারেল কারাগারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
সরকারি কৌঁসুলিরা ওদেহ ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে মেট্রো ডেট্রয়েটে ‘রোলস রয়েস সল্যুশনস আমেরিকা ইনকর্পোরেটেড’-এর একটি ভবনে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ভবনের দরজায় তালা লাগিয়ে দেন এবং ফুটপাতে “FREE PALESTINE” (ফিলিস্তিন মুক্ত করো) ও “LONG LIVE THE INTIFADA” (ইন্তিফাদা দীর্ঘজীবী হোক) লিখে স্প্রে-পেইন্ট করেন।

কলিন ওয়েগার : ২৪ বছর বয়সী ওয়েগার অ্যান আরবারের বাসিন্দা। ফেডারেল কৌঁসুলিদের মতে, তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে (UM) পড়াশোনা করেননি, তবে অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে সম্পত্তি ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে নোভিতে অবস্থিত ‘রোলস রয়েস সল্যুশনস আমেরিকা ইনকর্পোরেটেড’-এর কার্যালয় এবং রোমুলাসে ‘মার্স্ক শিপিং কোম্পানি’-র একটি ভবন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগনামায় অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর সুনির্দিষ্ট সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
ওয়েগারের বিরুদ্ধেও আন্তঃরাজ্য ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হুমকি পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফেডারেল কারাগারে পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে সুগার ল সেন্টারের নির্বাহী ও আইনি পরিচালক জন ফিলো এক বিবৃতিতে বলেন, ওই আটজনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপ “গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন নিম্নস্তর” বলে মনে হচ্ছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com







 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিশিগানে অক্সিজেন মাস্ক  খুলে মরফিন প্রয়োগে হত্যা

মিশিগানে অক্সিজেন মাস্ক  খুলে মরফিন প্রয়োগে হত্যা