চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ), ১৬ জুলাই : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী। ইতোমধ্যে পল্লীর কয়েকটি বসতঘর ভেঙে গেছে। দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতছড়ির পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে পড়েছে।
গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ইতোমধ্যে ছড়ায় বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি আগে থেকেই ভেঙে পড়া পল্লীর একমাত্র যোগাযোগ সেতুটি গত দুই বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে উপজেলা শহরের সঙ্গে পল্লীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে যাতায়াত করছেন। তবে ভারী বৃষ্টির সময় পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ এবং ভেঙে পড়া সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পল্লীবাসীর ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনের কারণে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা বলেন, “আমরা যুগ যুগ ধরে এখানে বসবাস করছি। আমাদের জন্ম এখানে, মৃত্যুও এখানেই হবে। বারবার দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার কিংবা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এ বছর যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে ত্রিপুরা পল্লীতে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ছেলেমেয়েরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, “ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন দিলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

জামাল হোসেন লিটন :