কার্ডিফ, ২৮ জুলাই : বনভোজন মানেই মানুষের মিলন, একে অন্যের সাথে আলাপ, পরিচয়, আনন্দ ও হইহুল্লোর মধ্যে সময় কাটানো। মনটাই যেন ভালো করে দেয় প্রাকৃতিক পরিবেশে।
পিকনিক ইংরেজি শব্দ। এর মূল অর্থ হলো আপন আপন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে পার্টিতে একত্রে ভোজন করা। আবহমান কাল ধরে প্রাচীন বাংলার মানুষ যেমন সংস্কৃতি প্রিয় তেমনি উৎসব প্রিয়। প্রবাসের শৃঙ্খলিত জীবনের কর্মব্যস্ততাকে মাড়িয়ে, বৃটেনের মাটিতে এখন ধুমধাম চলছে সামার ট্রিপের উৎসব।
বনভোজন বিনোদনে পরিচিত ও অপরিচিতজনের শিহরণ জাগানো উপস্থিতি স্মৃতির মন্দিরে ঢেউ তোলে। পরিচিত অপরিচিতের দেখাদেখি ও মাখামাখি কথায় অনেকেই গেয়ে ওঠেন ‘এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে, অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে, ছোট্টবেলার শত রঙ করা মুখ, সুর তোলে আজও এই মনকে ঘিরে।’
বৃটেনের কার্ডিফ কমিউনিটির উদ্দ্যোগে কমিউনিটি সংগঠক ভিপি সেলিম আহমেদ, যুবসংগঠক খলিলুর রহমান, সামাজিক ব্যক্তিত্ব সুমন আলী ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান এর সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় গতকাল সোমবার (২৭ শে জুলাই) ওয়েলস থেকে ইংল্যান্ডের ডরসেট এর নৈশ্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর বর্ণমাউথ সি-সাইডে কোচ বহরে যাবার পথে রকমারি সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি গান, কৌতুক,আবৃত্তি সহ পিকনিক স্পটে হই হুল্লোড়-আনন্দের মাখামাখিতে সারাদিন রোমাঞ্চিত ছিলেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা।
সমুদ্রের পাড়ে কাবাডি খেলা, রশি টানাটানি হাঁড়ি ভাঙা কিংবা সাঁতার কাটা আর আনন্দের আয়োজন সব বয়সীদের জন্যই এক অপূর্ব স্মৃতি তৈরি করে দেয়।
ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলায় ওয়েলস বাংলা নিউজ এর সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর দল ও রশি টানায় কমিউনিটি সংগঠক শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার এর দল চ্যাম্পিয়ন এবং হাঁড়ি ভাঙায় ভূবেল রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
ডিনারপার্টি শেষে কমিউনিটি সংগঠক ভিপি সেলিম আহমেদ, ও যুবসংগঠক খলিলুর রহমান এর পরিচালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণকালে কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলার সালেহ আহমেদ, ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, আলহাজ্ব লিলু মিয়া, হারুন তালুকদার, লিয়াকত আলী ও আসাদ মিয়া, সহ কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বক্তব্য প্রদান কালে নবীন ও প্রবীণদের এই মেলবন্ধন এবং চমৎকার আয়োজন নিশ্চয়ই কার্ডিফ কমিউনিটির মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগামীতে এররকম আয়োজন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
বর্ণমাউথ সি-সাইডে আনন্দঘন পরিবেশে সাড়াদিনব্যাপি মনোমুগ্ধকর আয়োজনে অন্যান্যদের মধ্যে কমিউনিটি সংগঠক গোলাম মর্তুজা, আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, আফজাল খান মিতু, মুহিবুর রহমান মায়া, মুজিবুর রহমান, সৈয়দ ইকবাল আহমেদ, আবুল কালাম মুমিন, রকিবুর রহমান, জহির আলী, আলমগীর আলম, কয়েস খান, আব্দুল জলিল, ফখরুল ইসলাম, জমসেদ ইউসুফ, ফয়জুল ইসলাম, আকমল আলী, ফয়েজ মিয়া, মুজিব মিয়া, সেলিম আহমদ, আবুল রোকসান,বুবল মিয়া, তমসসির আলী, আবুল হোসেন, পারভেজ খান, মানিক মিয়া, সায়েম আহমেদ, কুদ্দুস মিয়া,ফেরদৌস আলী, বেলাল মিয়া, সেবুল হোসেন, মারুফ আহমেদ, কামাল হোসেন, গিয়াস মিয়া, মুজাহিদ আলী, সাদিকুর রহমান, কামাল মিয়া, রশিদ আহমেদ, আব্দুল কাদির ও মোহাম্মদ তাহেফ, সহ অংশগ্রহণকারী সবাই পিকনিক স্পটে হই হুল্লোড়-আনন্দের মাখামাখিতে সারাদিন রোমাঞ্চিত ছিলেন। যাত্রাকালে বাসের ভেতর জম্পেশ আড্ডায় মেতে ওঠেন যাত্রীরা গান, কৌতুক, আবৃত্তিসহ নানাবিধ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে দিতে কখন যে সময় চলে যায়। বাস থেকে নেমে শুরু হয় প্রতীক্ষিত সমুদ্র স্নানের পালা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলা উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রবাসীদের এক মিলনমেলা।
উল্লেখ্য যে, প্রবাসীদের গ্রীষ্মকালীন বনভোজন উৎসবের ভালো দিকটি হচ্ছে তা বহু মানুষের সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটায়। দেশের সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা প্রবাসীরা আসেন প্রাণের টানে। আসেন আবেগের টানে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আনন্দ উপভোগ করতে। এ যেনো এক প্রাণের বন্ধন,আত্মার আত্মীয়তা, এ'রকম উদ্দ্যোগ প্রতিবছর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সাজেল আহমেদ :