ঢাকা, ৩১ জুলাই : ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে যেতে বা মানুষকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এ দেশে বিভাজনের কোনো স্থান নেই। তাই ধর্মের নামে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির সব অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, "যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা মানুষকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না।"
দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। গত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সব ধর্মাবলম্বী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের দ্রুত বিচার, হিন্দুধর্মীয় উৎসবে পর্যাপ্ত সরকারি ছুটি এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তরসহ বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :