গতকাল ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’ আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রবেশন সাজা ঘোষণার পর হ্যামট্রাম্যাক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসান (ডানে) তাঁর আইনজীবী স্কট রুয়ার্কের (বাঁয়ে) সঙ্গে আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছেন/Photo : Clarence Tabb Jr, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ৮ আগস্ট : অনুপস্থিত ভোট বা ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’-এর আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় হ্যামট্রাম্যাক শহরের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসানকে এক বছরের প্রবেশন ও ৮০ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজের সাজা দেওয়া হয়েছে।
হাসান বর্তমানে হ্যামট্রাম্যাকের ‘মেয়র প্রো-টেম’ বা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন। গত জুলাই মাসে ওয়েইন কাউন্টির একটি জুরি শহরের ২০২৩ সালের নির্বাচনের জন্য একটি অ্যাবসেন্টি ব্যালট আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও গুরুতর কয়েকটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
শুক্রবার ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত শুনানিতে ভিজিটিং জজ মাইকেল হ্যাথাওয়ে হাসানকে এক বছরের প্রবেশন এবং ৮০ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজের সাজা দেন। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল। রায় ঘোষণার সময় বিচারক হ্যাথাওয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে হাসান তার নেতৃত্বের অবস্থান এমনভাবে কাজে লাগাবেন, যা হ্যামট্রাম্যাকের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
হ্যাথাওয়ে হ্যামট্রাম্যাকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি শহরটিতে এক ধরনের ‘অর্থহীন নাটকীয়তা’পূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে কথিত দুর্নীতি ও অসংলগ্ন কর্মকাণ্ডকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেন।
বিচারক হাসানকে বলেন, “আমার মনে হয়, এই মামলা এবং হ্যামট্রাম্যাক শহরে আপনার বর্তমান অবস্থান—যেখানে সম্ভবত অনেক মহলেই আপনার প্রতি কিছুটা সম্মান রয়েছে—আপনাকে সেই শহরে নেতৃত্ব প্রদানের একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এমন এক নেতৃত্ব, যা আশা করা যায় শহরের রাজনৈতিক পরিবেশ, সততা ও সুশাসনের উন্নতি ঘটাবে।”
আদালতে হাসান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতির কারণে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হওয়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত।”
হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি ছিল হ্যামট্রাম্যাকের বাসিন্দা জেরিন সুলতানার নামে দাখিল করা একটি ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’ আবেদন। হাসানের দাবি ছিল, তিনি সুলতানাকে আবেদনটি দাখিল করতে সহায়তা করেছিলেন। তবে বিচার চলাকালে সুলতানা সাক্ষ্য দেন, তিনি ওই আবেদন করতে চাননি, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরও করেননি এবং হাসান তাঁকে আবেদনটি দাখিল করতে কোনো ধরনের সহায়তা করেননি। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে হাসান ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’-এর একটি আবেদনপত্র নিয়ে সুলতানার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে আদালতে সুলতানা জানান, তিনি ফর্মটি পূরণ করেননি, কারণ তিনি ভোট দেন না।
সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, সুলতানার নামে জমা দেওয়া অ্যাবসেন্টি ব্যালটের আবেদনপত্র ও খামে হাসানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। বিচার চলাকালে ওই স্বাক্ষরের সঙ্গে কাউন্সিলর হাসানের হাতের লেখার বিভিন্ন নমুনাও তুলনা করে দেখানো হয়। রায় ঘোষণার পর হাসান ও তাঁর আইনজীবী স্কট রুয়ার্ক সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
রায় ঘোষণার সময় রুয়ার্ক বিচারক মাইকেল হ্যাথাওয়ের কাছে হাসানকে প্রবেশনের আওতায় না রেখে কেবল জরিমানা ও আদালতের খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি যুক্তি দেন, হাসানের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তিনি জামিনের শর্ত ও আদালতের সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মেনে চলেছেন।
রুয়ার্ক বিচারককে বলেন, “আমার মতে, এটি এমন কোনো মামলা নয়, যার জন্য প্রবেশনের মেয়াদ আরোপ করা প্রয়োজন। আমি মনে করি, জরিমানা ও আদালতের খরচই যথেষ্ট হবে, মহামান্য বিচারক।”
বিচারক হ্যাথাওয়ে হাসানকে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ৭৫ ডলার, তদারকি ফি হিসেবে মাসে ৩০ ডলার, আদালতের খরচ বাবদ ২৫০ ডলার এবং রাজ্য আদালতের খরচ হিসেবে ৫৩ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন।
হাসানের আইনজীবী স্কট রুয়ার্ক ছয় মাস পর মামলাটি পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসানকে প্রবেশন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ করেন। জবাবে বিচারক হ্যাথাওয়ে জানান, আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে।
এদিকে, জুরি হাসানকে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতি এবং আবেদনপত্রের নথিতে স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত।
শুনানির সময় মনরো কাউন্টির সহকারী প্রসিকিউটর র্যাগান লেক উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, হাসান হয়তো অন্যান্য অ্যাবসেন্টি ব্যালট আবেদনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
লেক বলেন, যদিও জুরি হাসানকে গুরুতর অভিযোগগুলো থেকে খালাস দিয়েছেন, তবে অ্যাবসেন্টি ব্যালট আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জুরিকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়েছে যে, হাসান জানতেন—অথবা তাঁর জানা উচিত ছিল—আবেদনপত্রে থাকা স্বাক্ষরটি জেরিন সুলতানার নয়।
লেক বলেন, “আমরা আশা করি, তিনি এই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি কতটা গুরুতর, তা অনুধাবন করবেন। হ্যামট্রাম্যাকের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :