আমেরিকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাড়ার বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডেট্রয়েটের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ডিয়ারবর্ন হাইটসে পারিবারিক বিরোধে নারী নিহত, আহত ১ ফ্রেজারে প্রাণঘাতী ‘হিট-এন্ড-রান’, ফ্লক ক্যামেরায় চালক শনাক্ত ও গ্রেপ্তার ইঙ্কস্টারে ডলার ট্রিতে নারীকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক মিশিগানের মুসলিম সংগঠনের অফিসে হত্যার হুমকি হবিগঞ্জে উন্মোচিত হলো চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা  ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলে গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত ৪ ডেট্রয়েটের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার বেলুন উড়িয়ে মিশিগান বইমেলার উদ্বোধন চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে  ৪৮ বছর’ সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে : ডা. দেবাশীষ মৃধা রংপুরে এক পরিবারের চারজনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও চাঞ্চল্য ডেট্রয়েটে ফেন্টানিলের ‘৮৫ লাখ  সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ডোজ’ জব্দ আনন্দ মঞ্চে আজ উঠছে মিশিগান বইমেলার পর্দা ডিয়ারবর্নে গ্রেপ্তারের সময় দুই পুলিশ ও সন্দেহভাজন গুলিবিদ্ধ মন্ত্রিসভায় ছয় নতুন সদস্য, শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল প্রাদুর্ভাবের দুই মাস পর স্বস্তি, মিশিগানে কমছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস বরখাস্তের জেরে হ্যামট্রাম্যাক কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি ম্যানেজারের মামলা নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, আগামীকাল শপথ

মেজবান, গান আর উৎসবে মাতল ভার্জিনিয়া

  • আপলোড সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ১২:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৮-২০২৬ ১২:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন
মেজবান, গান আর উৎসবে মাতল ভার্জিনিয়া
ভার্জিনিয়া, ২৬ আগস্ট : ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো)-এর উদ্যোগে গত ২৩ আগস্ট আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান ও জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনায় মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন হাজারো দর্শক-শ্রোতা।
মেজবানি ভোজ, খেলাধুলা, গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কনসার্টের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
শুধু ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) এলাকা থেকেই নয়, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেজবানে অংশ নেন।
আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে নেতৃত্ব দেন বাইটপোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও লেখক সামছুদ্দীন মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল্লাহ খালেদ এবং বাইটপোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক স্যাম রিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চিটাগং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ফেডারেশন, ইউএসএ-এর সভাপতি, রুট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিরাজুল আলম খান সেন্টারের চেয়ারম্যান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম; ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক; মনমাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের ডিন এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম এম. মাতব্বর; কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. ফাইজুল ইসলাম এবং ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ, চট্টগ্রামের খানবাড়ির সন্তান অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।
দিনব্যাপী আয়োজনের শুরুতেই ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। খুরশীদ সাব্বিরের পরিচালনায় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কুকি রেস, মার্বেল-স্পুন রেস, রিং থ্রোসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আঙ্কেল স্যাম’ পোস্টারে মোচ (Mustache) লাগানোর মজার প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিযোগীদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দর্শকরাও এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের 
মেজবানি ভোজ
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন।
অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নানা পদে সাজানো মেজবানি খাবার। প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ রন্ধনঐতিহ্যের স্বাদ নিতে খাবার ঘিরে অতিথিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। মেজবানি ভোজে অংশ নিয়ে অনেকেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের মতে, মেজবান আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু অতিথিদের আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশন নয়; বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের, বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলারও চেষ্টা করা হয়েছে।

‘চল মেজ্জানে’ দিয়ে 
সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন কচি খান। অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচনায় উদ্বোধনী সংগীত ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে অংশ নেন বাইটপোর শিল্পীরা।
এরপর একে একে সংগীত পরিবেশন করেন মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি হয় প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
নৃত্য পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকার। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন সারা, দিশা ও স্মিতা। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করে।

নকীব খানের গানে 
মুগ্ধ দর্শক
এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। রেনেসাঁসহ দেশের ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক তাঁর জনপ্রিয় গান নিয়ে মঞ্চে উঠতেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টার পরিবেশনায় নকীব খান দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর জনপ্রিয় ও বহুল শ্রুত গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেকে। পুরো সময়জুড়ে করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
ডিএমভি এলাকায় নকীব খানের এই সংগীত পরিবেশনা ছিল দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তাঁর গান উপভোগ করতে দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

প্রতীক হাসানের 
পরিবেশনায় উচ্ছ্বাস
নকীব খানের পর মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ আরও জমে ওঠে। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তিনি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর গানে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল।
একদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ, অন্যদিকে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের সংগীত পরিবেশনা—এর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নাচ, গান ও ফ্যাশন শোর সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবে। প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এমন সমন্বিত আয়োজন উপস্থিত সবার মাঝে সৃষ্টি করে আনন্দ ও উৎসবের আবহ।

শেষ পর্যন্ত হাজারো 
দর্শকের উপস্থিতি
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাজারো দর্শক-শ্রোতা অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান করে বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী রাখতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছিল বিশেষ উদ্যোগ।
আয়োজকরা জানান, মেজবানের মাধ্যমে প্রবাসে শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতিকে তুলে ধরা নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।

আয়োজনের নেপথ্যে যাঁরা
অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন দীন খালেদ, শরীফ আহমেদ, তানভীর আজিজ, স্বপন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জাহানারা ভূঁইয়া, কাজী আক্তার বাঁধন, মো. কাজল, সারা গোরস্কি, মিষ্টি সরকার, খুরশীদ সাব্বির, কচি খান, মোহাম্মদ নাইম উদ্দীন অভি, সাইফুল্লাহ খালেদ, এম. এ. করিম, মোহাম্মদ মোল্লা, মামুন মোতালিব, মো. হাসান, কামাল, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ মিয়া সারওয়ার, আবদুল কোরেশী, হারুনুর রশীদ, শফিক মোল্লাহ ও স্যাম রিয়া।
আয়োজকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষের এ আয়োজন পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পী নকিব খানকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট প্রদান করা হয়।

র‌্যাফেল ড্র 
দিয়ে সমাপ্তি
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের শেষ আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। এতে তিনজন ভাগ্যবান বিজয়ী যথাক্রমে ডায়মন্ড রিং, টেলিভিশন ও ল্যাপটপ পুরস্কার হিসেবে জিতে নেন। র‌্যাফেল ড্রকে ঘিরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ।
ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ, খেলাধুলা, নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নকীব খান ও প্রতীক হাসানের মনোমুগ্ধকর কনসার্ট—সব মিলিয়ে ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বাইটপোর এ আয়োজন পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক বৃহৎ মিলনমেলা ও প্রাণের উৎসবে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এই সমন্বিত আয়োজন প্রবাসের মাটিতে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।



মেজবান, গান আর উৎসবে মাতল ভার্জিনিয়া

ভার্জিনিয়া, ২৬ আগস্ট : ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো)-এর উদ্যোগে গত ২৩ আগস্ট আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান ও জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনায় মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন হাজারো দর্শক-শ্রোতা।
মেজবানি ভোজ, খেলাধুলা, গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কনসার্টের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
শুধু ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) এলাকা থেকেই নয়, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেজবানে অংশ নেন।
আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে নেতৃত্ব দেন বাইটপোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও লেখক সামছুদ্দীন মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল্লাহ খালেদ এবং বাইটপোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক স্যাম রিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চিটাগং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ফেডারেশন, ইউএসএ-এর সভাপতি, রুট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিরাজুল আলম খান সেন্টারের চেয়ারম্যান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম; ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক; মনমাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের ডিন এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম এম. মাতব্বর; কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. ফাইজুল ইসলাম এবং ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ, চট্টগ্রামের খানবাড়ির সন্তান অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।
দিনব্যাপী আয়োজনের শুরুতেই ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। খুরশীদ সাব্বিরের পরিচালনায় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কুকি রেস, মার্বেল-স্পুন রেস, রিং থ্রোসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আঙ্কেল স্যাম’ পোস্টারে মোচ (Mustache) লাগানোর মজার প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিযোগীদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দর্শকরাও এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের 
মেজবানি ভোজ
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন।
অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নানা পদে সাজানো মেজবানি খাবার। প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ রন্ধনঐতিহ্যের স্বাদ নিতে খাবার ঘিরে অতিথিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। মেজবানি ভোজে অংশ নিয়ে অনেকেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের মতে, মেজবান আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু অতিথিদের আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশন নয়; বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের, বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলারও চেষ্টা করা হয়েছে।

‘চল মেজ্জানে’ দিয়ে 
সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন কচি খান। অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচনায় উদ্বোধনী সংগীত ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে অংশ নেন বাইটপোর শিল্পীরা।
এরপর একে একে সংগীত পরিবেশন করেন মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি হয় প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
নৃত্য পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকার। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন সারা, দিশা ও স্মিতা। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করে।

নকীব খানের গানে 
মুগ্ধ দর্শক
এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। রেনেসাঁসহ দেশের ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক তাঁর জনপ্রিয় গান নিয়ে মঞ্চে উঠতেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টার পরিবেশনায় নকীব খান দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর জনপ্রিয় ও বহুল শ্রুত গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের অনেকে। পুরো সময়জুড়ে করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
ডিএমভি এলাকায় নকীব খানের এই সংগীত পরিবেশনা ছিল দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তাঁর গান উপভোগ করতে দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

প্রতীক হাসানের 
পরিবেশনায় উচ্ছ্বাস
নকীব খানের পর মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ আরও জমে ওঠে। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তিনি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর গানে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল।
একদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ, অন্যদিকে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের সংগীত পরিবেশনা—এর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নাচ, গান ও ফ্যাশন শোর সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবে। প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এমন সমন্বিত আয়োজন উপস্থিত সবার মাঝে সৃষ্টি করে আনন্দ ও উৎসবের আবহ।

শেষ পর্যন্ত হাজারো 
দর্শকের উপস্থিতি
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাজারো দর্শক-শ্রোতা অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান করে বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী রাখতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছিল বিশেষ উদ্যোগ।
আয়োজকরা জানান, মেজবানের মাধ্যমে প্রবাসে শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতিকে তুলে ধরা নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।

আয়োজনের নেপথ্যে যাঁরা
অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন দীন খালেদ, শরীফ আহমেদ, তানভীর আজিজ, স্বপন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জাহানারা ভূঁইয়া, কাজী আক্তার বাঁধন, মো. কাজল, সারা গোরস্কি, মিষ্টি সরকার, খুরশীদ সাব্বির, কচি খান, মোহাম্মদ নাইম উদ্দীন অভি, সাইফুল্লাহ খালেদ, এম. এ. করিম, মোহাম্মদ মোল্লা, মামুন মোতালিব, মো. হাসান, কামাল, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ মিয়া সারওয়ার, আবদুল কোরেশী, হারুনুর রশীদ, শফিক মোল্লাহ ও স্যাম রিয়া।
আয়োজকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষের এ আয়োজন পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পী নকিব খানকে লাইফটাইম এচিভমেন্ট প্রদান করা হয়।

র‌্যাফেল ড্র 
দিয়ে সমাপ্তি
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের শেষ আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। এতে তিনজন ভাগ্যবান বিজয়ী যথাক্রমে ডায়মন্ড রিং, টেলিভিশন ও ল্যাপটপ পুরস্কার হিসেবে জিতে নেন। র‌্যাফেল ড্রকে ঘিরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ।
ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ, খেলাধুলা, নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নকীব খান ও প্রতীক হাসানের মনোমুগ্ধকর কনসার্ট—সব মিলিয়ে ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বাইটপোর এ আয়োজন পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক বৃহৎ মিলনমেলা ও প্রাণের উৎসবে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এই সমন্বিত আয়োজন প্রবাসের মাটিতে বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সুনামগঞ্জ থেকেই অবৈধ অভিবাসন রোধে সচেতনতার সূচনা : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সুনামগঞ্জ থেকেই অবৈধ অভিবাসন রোধে সচেতনতার সূচনা : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী