মেট্রো ডেট্রয়েট, ২৭ আগস্ট : স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বুধবার জানিয়েছেন, ওয়েইন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকায় চলতি বছরে মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়া এটি প্রথম এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয় ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের ঘটনা।
রোগীটি ‘আউট-ওয়েইন কাউন্টি’ এলাকার বাসিন্দা। ডেট্রয়েট ছাড়া ওয়েইন কাউন্টির বাকি সব এলাকা ‘আউট-ওয়েইন কাউন্টি’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়েইন কাউন্টি পাবলিক হেলথ রোগীর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্যের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো বিবরণ প্রকাশ করেনি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মিশিগানে সাধারণত আগস্টের শেষভাগ ও সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ওয়েইন কাউন্টি পাবলিক হেলথের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অবনী শেঠ বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা যে মশার মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। বছরের যে সময়ে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, আমরা সেই সময়ে প্রবেশ করছি। তাই নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় বাসিন্দাদের কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছি।”
সম্ভাব্য গুরুতর উপসর্গ
যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। সাধারণত এটি একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি সংক্রমিত হয় না।
ওয়েইন কাউন্টি পাবলিক হেলথের তথ্যমতে, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রায় ২০ শতাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রে মশার কামড়ের সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিরল ক্ষেত্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণে মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মশার কামড়ের পর উদ্বেগজনক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের (MDHHS) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মিশিগানে আরও একজনের শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি কেন্ট কাউন্টির বাসিন্দা। এছাড়া বে (Bay), শার্লেভয় (Charlevoix), কালামাজু (Kalamazoo), মেনোমিনি (Menominee) ও ওটসেগো (Otsego) কাউন্টির ছয়টি পাখি এবং ডেল্টা (Delta) কাউন্টির একটি কাঠবিড়ালির শরীরেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে ওয়েইন কাউন্টি পাবলিক হেলথ বাসিন্দাদের নিম্নলিখিত সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে:
এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA) অনুমোদিত বা নিবন্ধিত পোকামাকড় প্রতিরোধক, যেমন DEET, ব্যবহার করুন।
ভোর ও গোধূলির সময়—যখন মশার উপদ্রব বেশি থাকে—বাইরে ঘোরাফেরা বা কাজকর্ম সীমিত রাখুন।
শরীরের কোনো অংশ অনাবৃত রেখে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকুন।
মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল কমাতে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার বা অপসারণ করুন।
মশা যাতে ঘরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য জানালা ও দরজায় নেট বা স্ক্রিন লাগান এবং সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করুন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :