ডেট্রয়েট, ৩১ আগস্ট : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৪ আগস্ট ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডা থেকে আমদানিকৃত গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হবে। এর কয়েক দিন আগেই, ২২ আগস্ট থেকে দুগ্ধজাত পণ্য, ওয়াইন ও হকি স্টিকসহ কানাডার প্রায় ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এরই মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের প্রতিবেশী দেশ কানাডায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেকেই ভাবতে পারেন, দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাব তাদের ভ্রমণেও পড়বে কি না। তবে সুখবর হলো—বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের ভ্রমণে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে যা জানা প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত কি এখনও খোলা আছে?
হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত এখনও খোলা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৮০ দিনের কম সময়ের জন্য কানাডায় ভ্রমণকারী পর্যটকদের ভিসার প্রয়োজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা পাসপোর্ট বুক, পাসপোর্ট কার্ড অথবা নেক্সাস (NEXUS) কার্ড ব্যবহার করে কানাডায় প্রবেশ করতে পারেন। ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, আগে থেকে যাচাই-বাছাই করা (প্রি-স্ক্রিনড) ভ্রমণকারীদের জন্য নেক্সাস কার্ড দ্রুত ও সহজে সীমান্ত পারাপারের সুবিধা দেয়।
শুল্কের কারণে কি আমার ভ্রমণ খরচ বেড়ে যাবে?
সবসময় তা নয়।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব বিজনেসের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুংহো সু ‘ইউএসএ টুডে’-কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য আলোচনার কারণে ভ্রমণ ব্যয়ে কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে—এমন কোনো বিষয় আমার নজরে পড়েনি। কারণ, এই আলোচনা মূলত শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে।”
তার মতে, সাম্প্রতিক এই বাণিজ্য উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণকারীদের ব্যয়ের ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে আলোচনার ফলাফল নিয়ে কিছুটা “অনিশ্চয়তা” রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মহামারির পর থেকেই এ খাতের অনেক কোম্পানি “সামগ্রিক বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের” জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, “তাই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বর্তমান আলোচনা কিংবা শুল্কের বিষয়টি—কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে কোনোটিই নতুন কোনো বিষয় নয়।”
এর প্রভাব মূলত আমদানিকৃত পণ্যের ওপরই পড়বে। তবে সেবা খাতে এর প্রভাব “খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হবে না”।
খরচ তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার টানাপড়েনপূর্ণ সম্পর্ক ভোক্তাদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশ এবং কানাডীয় পর্যটকদের আটকের সাম্প্রতিক ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে কিছু কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ‘ন্যাশনাল ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম অফিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৬৫ লাখের কিছু বেশি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কম।এছাড়া, আগের বছরের তুলনায় পুরো ২০২৫ সালে কানাডা থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৪২ লাখ কম ছিল, যা ২০.৯% হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর ‘ইউএসএ টুডে’-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩৪ লাখে দাঁড়ায়। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর এটিই ছিল কানাডায় মার্কিন পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে প্রথম বার্ষিক হ্রাস।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :