তীব্র ঝড়ে ডেট্রয়েটের প্রেস্টন স্ট্রিটে একটি গাড়ির ওপর গাছের বড় ডাল পড়ে। ছবিটি বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর/ Kevin Hardy, The Detroit News
মেট্রো ডেট্রয়েট, ৪ সেপ্টেম্বর : বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানে আবারও আঘাত হানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এ সময় টর্নেডোর সতর্কতা জারি করা হয়। ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই ওই অঞ্চলের ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সতর্কতা অনুযায়ী, ওয়েইন, ম্যাকম্ব, ওকল্যান্ড, লিভিংস্টন ও ওয়াশটেনাও কাউন্টির মোট প্রায় ৩২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ টর্নেডোর সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। বিকেল ৩টার পর জারি করা এ সতর্কতা প্রায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে তীব্র ঝোড়ো বাতাস, গাছ উপড়ে পড়া ও শিলাবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হ্যাজলেট, যেখানে শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। এজমন্ট পার্ক ও ব্রাইটন এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়। হাডসন মিলস এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের লাইন উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অ্যান আরবারের কাছে জ্যাকসন ও জিব রোডের আশপাশেও গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
‘টর্নেডো ট্যাকলার্স’ (Tornado Tacklers) নামের ঝড় পর্যবেক্ষণকারী একটি দল জানিয়েছে, ল্যান্সিংয়ের ঠিক পূর্বে ইন্টারস্টেট ৯৬-এর কাছে উইলিয়ামস্টন ও এর আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য একটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। দলটি ল্যান্সিং ও ডেট্রয়েটের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ার কথাও জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ ব্রায়ান টিলি জানান, টর্নেডোর খবর পাওয়ার পর আবহাওয়া কর্মকর্তারা প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির ধরন ও তীব্রতা যাচাই করেন। এরপর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র রাডারে শনাক্ত হওয়া টর্নেডোর সম্ভাব্য ‘সিগনেচার’-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্ট কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির ধরন ও মাত্রা বিবেচনা করে সরেজমিনে জরিপের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের (NWS) কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন—সেখানে সত্যিই টর্নেডো আঘাত হেনেছিল কি না।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, এ সপ্তাহের প্রথম দফার তীব্র ঝড়ের সময় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিট থেকে ৭টা ২১ মিনিটের মধ্যে মেরিসভিল এলাকায় একটি টর্নেডো আঘাত হানে। টর্নেডোটি প্রায় ০.৩৫ মাইল দীর্ঘ ও ১৭৫ গজ প্রশস্ত এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ মাইল। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত নাগাদ ডিটিই (DTE) ও কনজ্যুমার্স এনার্জি (Consumers Energy) জানিয়েছে, ঝড়ের পর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ডিটিইর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৪ জন গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। তবে ঝড়ের তীব্রতার সময় এ সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি ছিল। অন্যদিকে, কনজ্যুমার্স এনার্জি জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১৬ হাজার ৩১৭ জন গ্রাহক তখনও বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন; ঝড়ের সর্বোচ্চ প্রভাবের সময় এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ হাজার। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ল্যান্সিং এলাকা এবং অ্যান আরবারের পশ্চিমাঞ্চলে।
ডিটিই (DTE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাদের ‘স্টর্ম রেসপন্স টিম’-এর ৩ হাজার ৪০০ কর্মী বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করেছেন।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, শুক্রবার দিনের শেষ নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ৬৫ শতাংশ, শনিবারের মধ্যে ৯০ শতাংশ এবং রবিবারের মধ্যে বাকি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। ডিটিই আরও জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ১২৭ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সতর্কবার্তার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ বিভাগগুলোও বাসিন্দাদের বেসমেন্ট কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। স্কুলগুলোও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। দিনের কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বাইরে না পাঠিয়ে কিছু সময়ের জন্য ভবনের ভেতরে অবস্থান করানো হয়। বার্মিংহাম ও ডিয়ারবর্নের স্কুলগুলো আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাসে না তুলে নিরাপদে ভবনের ভেতরেই রাখে।
এদিকে লেনাওয়ি কাউন্টি সার্কিট কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বেসমেন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ডেট্রয়েটে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ বোর্ড অব কমিশনার্সের বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংক্ষিপ্ত করে শেষ করা হয়। এ সময় জরুরি আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে একটি ‘ম্যাস টেক্সট’ বা গণবার্তা পাঠানো হয়েছিল।
নোভির ‘সাবারবান কালেকশন শো-প্লেস’-এ বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ‘মিশিগান স্টেট ফেয়ার’-এ হঠাৎ আকাশ কালো করে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীরা দ্রুত গাড়ির দিকে ছুটতে থাকেন।
মেলার বিপণন ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা ম্যাডেন জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা কর্তৃপক্ষ ‘মিডওয়ে’ এলাকা—যেখানে বিভিন্ন রাইড ও স্টল রয়েছে—খালি করে দর্শনার্থীদের এক্সপো হলের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়। মেলার কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা নিশ্চিত করেন, সবাই নিরাপদে হলের ভেতরে পৌঁছেছেন। মেলার সব প্রাণীকেও ওই এক্সপো হলেই নিরাপদে রাখা হয়েছিল।
বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে আবহাওয়া সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলে কর্মীরা ‘মিডওয়ে’ এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেন। এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই দর্শনার্থীদের ভবন থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
Source & Photo: http://detroitnews.com
মেট্রো ডেট্রয়েট, ৪ সেপ্টেম্বর : বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানে আবারও আঘাত হানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এ সময় টর্নেডোর সতর্কতা জারি করা হয়। ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই ওই অঞ্চলের ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সতর্কতা অনুযায়ী, ওয়েইন, ম্যাকম্ব, ওকল্যান্ড, লিভিংস্টন ও ওয়াশটেনাও কাউন্টির মোট প্রায় ৩২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ টর্নেডোর সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। বিকেল ৩টার পর জারি করা এ সতর্কতা প্রায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে তীব্র ঝোড়ো বাতাস, গাছ উপড়ে পড়া ও শিলাবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হ্যাজলেট, যেখানে শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। এজমন্ট পার্ক ও ব্রাইটন এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়। হাডসন মিলস এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের লাইন উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অ্যান আরবারের কাছে জ্যাকসন ও জিব রোডের আশপাশেও গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
‘টর্নেডো ট্যাকলার্স’ (Tornado Tacklers) নামের ঝড় পর্যবেক্ষণকারী একটি দল জানিয়েছে, ল্যান্সিংয়ের ঠিক পূর্বে ইন্টারস্টেট ৯৬-এর কাছে উইলিয়ামস্টন ও এর আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য একটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। দলটি ল্যান্সিং ও ডেট্রয়েটের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ার কথাও জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ ব্রায়ান টিলি জানান, টর্নেডোর খবর পাওয়ার পর আবহাওয়া কর্মকর্তারা প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির ধরন ও তীব্রতা যাচাই করেন। এরপর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র রাডারে শনাক্ত হওয়া টর্নেডোর সম্ভাব্য ‘সিগনেচার’-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্ট কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির ধরন ও মাত্রা বিবেচনা করে সরেজমিনে জরিপের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের (NWS) কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন—সেখানে সত্যিই টর্নেডো আঘাত হেনেছিল কি না।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, এ সপ্তাহের প্রথম দফার তীব্র ঝড়ের সময় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিট থেকে ৭টা ২১ মিনিটের মধ্যে মেরিসভিল এলাকায় একটি টর্নেডো আঘাত হানে। টর্নেডোটি প্রায় ০.৩৫ মাইল দীর্ঘ ও ১৭৫ গজ প্রশস্ত এলাকা দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৫ মাইল। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত নাগাদ ডিটিই (DTE) ও কনজ্যুমার্স এনার্জি (Consumers Energy) জানিয়েছে, ঝড়ের পর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ডিটিইর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৪ জন গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। তবে ঝড়ের তীব্রতার সময় এ সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি ছিল। অন্যদিকে, কনজ্যুমার্স এনার্জি জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১৬ হাজার ৩১৭ জন গ্রাহক তখনও বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন; ঝড়ের সর্বোচ্চ প্রভাবের সময় এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ হাজার। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ল্যান্সিং এলাকা এবং অ্যান আরবারের পশ্চিমাঞ্চলে।
ডিটিই (DTE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাদের ‘স্টর্ম রেসপন্স টিম’-এর ৩ হাজার ৪০০ কর্মী বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করেছেন।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, শুক্রবার দিনের শেষ নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ৬৫ শতাংশ, শনিবারের মধ্যে ৯০ শতাংশ এবং রবিবারের মধ্যে বাকি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। ডিটিই আরও জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ১২৭ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সতর্কবার্তার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ বিভাগগুলোও বাসিন্দাদের বেসমেন্ট কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। স্কুলগুলোও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। দিনের কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বাইরে না পাঠিয়ে কিছু সময়ের জন্য ভবনের ভেতরে অবস্থান করানো হয়। বার্মিংহাম ও ডিয়ারবর্নের স্কুলগুলো আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাসে না তুলে নিরাপদে ভবনের ভেতরেই রাখে।
এদিকে লেনাওয়ি কাউন্টি সার্কিট কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বেসমেন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ডেট্রয়েটে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ বোর্ড অব কমিশনার্সের বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংক্ষিপ্ত করে শেষ করা হয়। এ সময় জরুরি আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে একটি ‘ম্যাস টেক্সট’ বা গণবার্তা পাঠানো হয়েছিল।
নোভির ‘সাবারবান কালেকশন শো-প্লেস’-এ বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ‘মিশিগান স্টেট ফেয়ার’-এ হঠাৎ আকাশ কালো করে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীরা দ্রুত গাড়ির দিকে ছুটতে থাকেন।
মেলার বিপণন ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা ম্যাডেন জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা কর্তৃপক্ষ ‘মিডওয়ে’ এলাকা—যেখানে বিভিন্ন রাইড ও স্টল রয়েছে—খালি করে দর্শনার্থীদের এক্সপো হলের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়। মেলার কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা নিশ্চিত করেন, সবাই নিরাপদে হলের ভেতরে পৌঁছেছেন। মেলার সব প্রাণীকেও ওই এক্সপো হলেই নিরাপদে রাখা হয়েছিল।
বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে আবহাওয়া সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলে কর্মীরা ‘মিডওয়ে’ এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেন। এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই দর্শনার্থীদের ভবন থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
Source & Photo: http://detroitnews.com