২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ছিনতাই হওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানার মুহূর্তটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক ভয়াবহতম দৃশ্য/Seth McAllister, Getty Images
স্টার্লিং হাইটস, ১১ সেপ্টেম্বর: আজ থেকে ২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেমে এসেছিল এক ভয়াবহ কালো দিন। সেদিনের সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণ হারান প্রায় ৩ হাজার মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ছিনতাই করা একটি যাত্রীবাহী বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় বিমানটি দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করলে স্পষ্ট হয়ে যায়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা।
পরপর দুটি টাওয়ারে আঘাতের পর সেগুলো ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ। উদ্ধার ও জরুরি সেবাকাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ দেন বহু অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মী। একই দিন আরেকটি ছিনতাই করা বিমান পেন্টাগনে আঘাত হানে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
দ্য ডেট্রয়েট নিউজ জানিয়েছে, ভয়াবহ ওই হামলায় মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারান। তাঁদের কেউ ছিলেন নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কর্মরত, কেউ পেন্টাগনে কর্মরত সামরিক সদস্য, আবার কেউ ছিলেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রী।
নিহতদের মধ্যে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন স্নাতক ছিলেন। তাঁরা ‘সিগমা আলফা মু’ (Sigma Alpha Mu) ফ্র্যাটার্নিটির সদস্য এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে একই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে হামলার সময় আরও কয়েকজন মিশিগান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারান।
ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যাত্রীদের সংগঠিত করে ককপিটে থাকা ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের এই প্রতিরোধের ফলেই বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিবর্তে পেনসিলভানিয়ার একটি গ্রামীণ মাঠে বিধ্বস্ত হয় বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। এ হামলায় পেন্টাগনেও মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন প্রাণ হারান। তাঁরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
৯/১১ হামলায় মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিহতদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করেছে ‘মিশিগান রিমেম্বার্স ৯-১১ ফান্ড’ (Michigan Remembers 9-11 Fund)। ইস্ট ল্যান্সিংভিত্তিক এই অলাভজনক সংগঠনটি মিশিগানে জন্মগ্রহণকারী, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা করা অথবা যাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিশিগানের যোগসূত্র ছিল—এমন নিহতদের স্মরণে কাজ করে। হামলার দিন তাঁরা যেখানেই বসবাস করে থাকুন না কেন, সংগঠনটি তাঁদের মিশিগানের স্মৃতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
৯/১১-এর সেই হামলা শুধু হাজারো মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি; এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে বিশ্ব রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থায় আসে ব্যাপক পরিবর্তন।
২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। স্বজন হারানো মানুষের কাছে দিনটি আজও গভীর বেদনার। আর বিশ্ববাসীর কাছে এটি মানবজীবনের নিরাপত্তা, শান্তি ও সহমর্মিতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া এক নির্মম ইতিহাস।
নিহতদের স্মরণে আজ দেশজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায় মিশিগানও স্মরণ করবে ৯/১১-এর সেই ভয়াবহ দিনে প্রাণ হারানো তার সন্তান ও স্বজনদের। ২৫ বছর পরও সন্ত্রাসের সেই কালো দিন মানবজীবনের মূল্য, সাহস, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
স্টার্লিং হাইটস, ১১ সেপ্টেম্বর: আজ থেকে ২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেমে এসেছিল এক ভয়াবহ কালো দিন। সেদিনের সন্ত্রাসী হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণ হারান প্রায় ৩ হাজার মানুষ। মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ছিনতাই করা একটি যাত্রীবাহী বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় বিমানটি দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত করলে স্পষ্ট হয়ে যায়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা।
পরপর দুটি টাওয়ারে আঘাতের পর সেগুলো ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ। উদ্ধার ও জরুরি সেবাকাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ দেন বহু অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মী। একই দিন আরেকটি ছিনতাই করা বিমান পেন্টাগনে আঘাত হানে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
দ্য ডেট্রয়েট নিউজ জানিয়েছে, ভয়াবহ ওই হামলায় মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারান। তাঁদের কেউ ছিলেন নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কর্মরত, কেউ পেন্টাগনে কর্মরত সামরিক সদস্য, আবার কেউ ছিলেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রী।
নিহতদের মধ্যে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন স্নাতক ছিলেন। তাঁরা ‘সিগমা আলফা মু’ (Sigma Alpha Mu) ফ্র্যাটার্নিটির সদস্য এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে একই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে হামলার সময় আরও কয়েকজন মিশিগান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাণ হারান।
ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যাত্রীদের সংগঠিত করে ককপিটে থাকা ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের এই প্রতিরোধের ফলেই বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিবর্তে পেনসিলভানিয়ার একটি গ্রামীণ মাঠে বিধ্বস্ত হয় বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। এ হামলায় পেন্টাগনেও মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন প্রাণ হারান। তাঁরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
৯/১১ হামলায় মিশিগানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিহতদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করেছে ‘মিশিগান রিমেম্বার্স ৯-১১ ফান্ড’ (Michigan Remembers 9-11 Fund)। ইস্ট ল্যান্সিংভিত্তিক এই অলাভজনক সংগঠনটি মিশিগানে জন্মগ্রহণকারী, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা করা অথবা যাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিশিগানের যোগসূত্র ছিল—এমন নিহতদের স্মরণে কাজ করে। হামলার দিন তাঁরা যেখানেই বসবাস করে থাকুন না কেন, সংগঠনটি তাঁদের মিশিগানের স্মৃতির অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
৯/১১-এর সেই হামলা শুধু হাজারো মানুষের জীবন কেড়ে নেয়নি; এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে বিশ্ব রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থায় আসে ব্যাপক পরিবর্তন।
২৫ বছর পরও ৯/১১-এর ক্ষত পুরোপুরি শুকায়নি। স্বজন হারানো মানুষের কাছে দিনটি আজও গভীর বেদনার। আর বিশ্ববাসীর কাছে এটি মানবজীবনের নিরাপত্তা, শান্তি ও সহমর্মিতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া এক নির্মম ইতিহাস।
নিহতদের স্মরণে আজ দেশজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনায় মিশিগানও স্মরণ করবে ৯/১১-এর সেই ভয়াবহ দিনে প্রাণ হারানো তার সন্তান ও স্বজনদের। ২৫ বছর পরও সন্ত্রাসের সেই কালো দিন মানবজীবনের মূল্য, সাহস, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।