ওয়েইন কাউন্টি, ১০ সেপ্টেম্বর : ডেট্রয়েটে একই দিনে প্রায় চার ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন ওয়েইন কাউন্টির একটি জুরি।
কৌঁসুলিরা জানান, কোর্টল্যান্ড কিলিয়নের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৮ জুন দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। উভয় ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ (পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড) এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের গুরুতর অপরাধ (ফেলোনি ফায়ারআর্ম) অভিযোগ ছিল। এছাড়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছিল। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর জুরি তাকে সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিলিয়ন ও দান্তে মুডি ডেট্রয়েটের একটি বাড়ির বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সদস্যদের জন্য ওত পেতে ছিলেন। চার্লস হোয়াইটসাইড বাড়ি থেকে বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করে সাউথফিল্ড ফ্রিওয়েতে যান। সেখানে মুডি সাক্ষ্য দেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিলিয়ন গাড়ির পেছনের আসন থেকে হোয়াইটসাইডকে লক্ষ্য করে ১৪ রাউন্ড গুলি চালান।
মুডি উভয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’ (পরিকল্পনাহীন কিন্তু ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) দায় স্বীকার করেন। পরে তাকে ১২ থেকে ৪০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সহকারী কৌঁসুলি মারিয়া মিলার জানান, মুডি কিলিয়ন ও তৃতীয় ব্যক্তি চুড স্নোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। স্নোর বিরুদ্ধে ওই রাতের দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এদিকে কিলিয়নের আইনজীবী আলেকজান্ডার ইগনাতিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
মিলার জানান, এরপর কিলিয়ন ও মুডি স্নোকে সঙ্গে নিয়ে ডেট্রয়েটের একই বাড়িতে যান। কাসিম আল-রুবাইয়ি বাড়ি থেকে বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। রাত ১০টার দিকে ওয়েস্ট ওয়ারেন ও সাউথফিল্ড সার্ভিস ড্রাইভের সংযোগস্থলে লাল বাতির কারণে গাড়ি থামলে আল-রুবাইয়িকে লক্ষ্য করে পাঁচবার গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে স্নোর বিরুদ্ধে।
তবে ওই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে স্নো খালাস পেলেও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
স্নোর আইনজীবী টড পারকিন্স দাবি করেন, মুডি সাক্ষ্য দেওয়ার সময় পুলিশ, কৌঁসুলি ও জুরির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, মুডিই ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং উভয় ঘটনায় তিনিই গাড়ি চালিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের মতোই মুডির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেন পারকিন্স।
২০১৮ সালে মুডির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগ আনা হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি অপরাধ সংঘটনের পর সহায়তাকারী (‘অ্যাক্সেসরি আফটার দ্য ফ্যাক্ট’) হিসেবে দোষ স্বীকার করেন। ওই মামলায় তাকে চার বছরের প্রবেশন (পরীক্ষামূলক মুক্তি) দেওয়া হয়েছিল।
পারকিন্স বলেন, “তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত অবিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী। বিষয়টি ছিল বিস্ময়কর—এমনকি বিচারক ও জুরির রায়েও সেই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, এই মামলার ফলাফল প্রমাণ করে যে, জুরি ব্যবস্থা কখনো কখনো এক ধরনের ‘সাম্য প্রতিষ্ঠাকারী’ বা ‘সমতা বিধানকারী’ ভূমিকা পালন করে।
পারকিন্সের ভাষায়, “আমার মতে, এটি কোনো একজন ব্যক্তির ক্ষমতার প্রতিফলন নয়; বরং জুরির সম্মিলিত ক্ষমতারই প্রতিফলন।”
মিলার জানান, জুরি সদস্যরা অভিযুক্তদের ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তি ‘ফ্লক’-এর ভিডিওসহ বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তারা সাক্ষীদের জবানবন্দিও শুনেছেন।
মিলার বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জুরি সদস্যরা যে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন, তার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ ছিল। তাই জুরির রায়ে আমরা হতাশ।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
কৌঁসুলিরা জানান, কোর্টল্যান্ড কিলিয়নের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৮ জুন দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। উভয় ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ (পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড) এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের গুরুতর অপরাধ (ফেলোনি ফায়ারআর্ম) অভিযোগ ছিল। এছাড়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছিল। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর জুরি তাকে সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিলিয়ন ও দান্তে মুডি ডেট্রয়েটের একটি বাড়ির বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সদস্যদের জন্য ওত পেতে ছিলেন। চার্লস হোয়াইটসাইড বাড়ি থেকে বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করে সাউথফিল্ড ফ্রিওয়েতে যান। সেখানে মুডি সাক্ষ্য দেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিলিয়ন গাড়ির পেছনের আসন থেকে হোয়াইটসাইডকে লক্ষ্য করে ১৪ রাউন্ড গুলি চালান।
মুডি উভয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’ (পরিকল্পনাহীন কিন্তু ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) দায় স্বীকার করেন। পরে তাকে ১২ থেকে ৪০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সহকারী কৌঁসুলি মারিয়া মিলার জানান, মুডি কিলিয়ন ও তৃতীয় ব্যক্তি চুড স্নোর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। স্নোর বিরুদ্ধে ওই রাতের দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এদিকে কিলিয়নের আইনজীবী আলেকজান্ডার ইগনাতিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
মিলার জানান, এরপর কিলিয়ন ও মুডি স্নোকে সঙ্গে নিয়ে ডেট্রয়েটের একই বাড়িতে যান। কাসিম আল-রুবাইয়ি বাড়ি থেকে বের হলে তারা তাকে অনুসরণ করেন। রাত ১০টার দিকে ওয়েস্ট ওয়ারেন ও সাউথফিল্ড সার্ভিস ড্রাইভের সংযোগস্থলে লাল বাতির কারণে গাড়ি থামলে আল-রুবাইয়িকে লক্ষ্য করে পাঁচবার গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে স্নোর বিরুদ্ধে।
তবে ওই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে স্নো খালাস পেলেও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
স্নোর আইনজীবী টড পারকিন্স দাবি করেন, মুডি সাক্ষ্য দেওয়ার সময় পুলিশ, কৌঁসুলি ও জুরির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, মুডিই ছিলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং উভয় ঘটনায় তিনিই গাড়ি চালিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের মতোই মুডির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেন পারকিন্স।
২০১৮ সালে মুডির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগ আনা হলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি অপরাধ সংঘটনের পর সহায়তাকারী (‘অ্যাক্সেসরি আফটার দ্য ফ্যাক্ট’) হিসেবে দোষ স্বীকার করেন। ওই মামলায় তাকে চার বছরের প্রবেশন (পরীক্ষামূলক মুক্তি) দেওয়া হয়েছিল।
পারকিন্স বলেন, “তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত অবিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী। বিষয়টি ছিল বিস্ময়কর—এমনকি বিচারক ও জুরির রায়েও সেই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, এই মামলার ফলাফল প্রমাণ করে যে, জুরি ব্যবস্থা কখনো কখনো এক ধরনের ‘সাম্য প্রতিষ্ঠাকারী’ বা ‘সমতা বিধানকারী’ ভূমিকা পালন করে।
পারকিন্সের ভাষায়, “আমার মতে, এটি কোনো একজন ব্যক্তির ক্ষমতার প্রতিফলন নয়; বরং জুরির সম্মিলিত ক্ষমতারই প্রতিফলন।”
মিলার জানান, জুরি সদস্যরা অভিযুক্তদের ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তি ‘ফ্লক’-এর ভিডিওসহ বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তারা সাক্ষীদের জবানবন্দিও শুনেছেন।
মিলার বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জুরি সদস্যরা যে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন, তার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ ছিল। তাই জুরির রায়ে আমরা হতাশ।”
Source & Photo: http://detroitnews.com