বাইডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্গমন বিধি বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ১২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ১২:১৬:৪৬ অপরাহ্ন
ওয়াশিংটন, ১৪ সেপ্টেম্ব র: জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমন সীমিত করতে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু করা বিধিনিষেধ বাতিলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-র প্রশাসক লি জেলডিন বলেছেন, এসব বিধিনিষেধ বাতিল হলে আমেরিকানদের বিদ্যুৎ বিলের খরচ কমতে পারে। তবে পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে দূষণ বাড়বে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে দ্য ডেট্রয়েট নিউজ এ খবর দিয়েছে। 
বিধিনিষেধগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো। বাইডেন প্রশাসনের ইপিএর হিসাব অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের ক্ষেত্রে পরিবহন খাতের পরই বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলোর অবস্থান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই ব্যক্তি জানান, চূড়ান্তভাবে বিদ্যমান নিয়ম বাতিলের পাশাপাশি ইপিএ এমন একটি প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জলবায়ু-সংক্রান্ত নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও সংস্থাটি হারাবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এর ফলে ইপিএর গত ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বা ‘বিপদ-চিহ্নিতকরণ সিদ্ধান্ত’ বাতিলের উদ্যোগ আরও জোরালো হবে। ওই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, জলবায়ু-সংক্রান্ত নির্গমন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফেডারেল সরকারের জলবায়ুবিষয়ক অধিকাংশ নীতির ভিত্তিও ছিল এই সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইপিএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটি তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
এর আগে ব্লুমবার্গ নিউজও ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবর্তনের খবর প্রকাশ করেছিল।
জেলডিন গত বছরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রণীত নিয়মগুলো বাতিল করা হবে। সে সময় তিনি বেশ কয়েকটি প্রস্তাবের সমন্বয়ে একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন, যাকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নিয়ন্ত্রণমুক্তির (deregulation) সবচেয়ে বড় ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
২০২৫ সালের জুনে ইপিএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংক্রান্ত নিয়মগুলো বাতিলের প্রস্তাব দেওয়ার পর জেলডিন বলেছিলেন, ‘আমরা ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের সেই নিয়মগুলো বাতিলের প্রস্তাব করছি, যেগুলোর সমালোচনা করে বলা হয়েছিল—এগুলো কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পকে কার্যত বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত দুটি নিয়ম চূড়ান্ত হলে আমেরিকান পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ বিলের খরচ কমবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।’
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্তে দূষণকারী কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তারা বলছে, নির্গমন নিয়ন্ত্রণের নিয়ম বাতিল হলে দূষণ বাড়বে এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ইপিএর সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জিলান হুভার এক বিবৃতিতে বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড বাতিল করে ট্রাম্প এমন একটি পথ বেছে নিচ্ছেন, যার ফলে প্রতিরোধযোগ্য হাঁপানির আক্রমণ, হৃদরোগ এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও বাড়তে পারে।”
হুভার আরও বলেন, “ডেটা সেন্টারগুলো সচল রাখতে যখন আরও বেশি কয়লা ও গ্যাস পোড়ানো হচ্ছে, তখন এই নীতি শিথিল করার প্রভাব টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও ও অ্যারিজোনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিশেষভাবে তীব্র হতে পারে। কারণ, এসব এলাকায় ডেভেলপাররা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রকল্পে ইপিএর শিথিল নীতির সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”


 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com