‘ফ্লক’ ক্যামেরা নিয়ে মেট্রো ডেট্রয়েটে বাড়ছে মতভেদ

আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০২:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০২:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন
ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের হাইল্যান্ড রোডে ‘ফ্লক’ ক্যামেরা। ছবিটি ১৪ সেপ্টেম্বর ২ ধারণ করা হয়/Photo : Andy Morrison, The Detroit News

ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ, ১৫ সেপ্টেম্বর: মেট্রো ডেট্রয়েটের কয়েকটি এলাকায় ‘ফ্লক’ ক্যামেরার ব্যবহার নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার ভোটাররা পুলিশি কার্যক্রমের জন্য বিশেষ কর বা ‘মিলিজে’ (millage) অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অনেক বাসিন্দা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ফ্লক ক্যামেরার ব্যবহার বন্ধ না করলে নভেম্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত অর্থায়নের পক্ষে ভোট দেবেন না।
আগস্টের শুরুতে অন্তত চারটি এলাকায়—ইন্ডিপেনডেন্স, ওরিয়ন, সাম্পটার ও ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ—ভোটাররা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ কর বা মিলিজে প্রত্যাখ্যান করেন। এর মধ্যে কিছু ভোটার পুলিশ বিভাগের জন্য নির্ধারিত সম্পত্তি করের প্রস্তাবের বিরোধিতার কারণ হিসেবে ফ্লক ক্যামেরার ব্যবহারকে উল্লেখ করেছেন।
ফ্লক ক্যামেরা হলো ‘ফ্লক সেফটি’ (Flock Safety) কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-চালিত স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার। এসব ক্যামেরা চলাচলকারী গাড়ির ছবি ধারণ করে এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তদন্ত ও নজরদারির কাজে ব্যবহার করে। মিশিগানে প্রায় ১৮০টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
ইন্ডিপেনডেন্স টাউনশিপের বাসিন্দা মেরি ব্লামকা ৯ আগস্ট টাউনশিপ বোর্ডের সভায় বলেন, “আমি গণনজরদারি বা আমাদের এলাকায় এ ধরনের পুলিশি নজরদারি ব্যবস্থা চাই না।” তিনি জানান, কর্মকর্তারা ফ্লক ক্যামেরার ব্যবহার বন্ধ না করলে আসন্ন পুলিশ মিলিজের বিপক্ষে ভোট দেবেন।
আগস্টে মিলিজে প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত দুটি এলাকা—ওয়েইন কাউন্টির সাম্পটার টাউনশিপ ও ওকল্যান্ড কাউন্টির ইন্ডিপেনডেন্স টাউনশিপ—ফ্লক সেফটির সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করেছে।
যেসব এলাকায় মিলিজে প্রস্তাব পাস হয়নি, সেসব এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশি সেবার মোট ব্যয়ের তুলনায় ফ্লক সেফটির সঙ্গে চুক্তির অর্থের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৬ সালের জন্য ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের পুলিশ বিভাগের বাজেট ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ডলার। বিপরীতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে টাউনশিপটি ফ্লক সেফটির পেছনে ব্যয় করেছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৬ ডলার, যা পুলিশের বার্ষিক বাজেটের ১ শতাংশেরও কম।
ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের ট্রাস্টি স্যাম হ্যারিস বলেন, “পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে আমরা দ্রুত সাড়া পাওয়ার মতো সেবা পাব না। এটি কোনো ভীতি প্রদর্শনের কৌশল নয়, বরং বাস্তবতা।”
তবে কিছু বাসিন্দা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ ফ্লক ক্যামেরার ব্যবহার অব্যাহত রাখলে তারা পুলিশের জন্য প্রস্তাবিত অর্থায়নের বিরোধিতা করবেন।
ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা সামান্থা হান্ট বলেন, “এই মনোভাবটি বেশ ব্যাপক। অনেক মানুষই ফ্লকের বিপক্ষে।” গত ৭ আগস্ট ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় ফ্লক ক্যামেরার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন।
এর আগে ৪ আগস্টের ভোটে বাসিন্দারা ১.৫ মিল হারে পুলিশ কর পুনর্বহালের প্রস্তাব ৫৫ শতাংশ ভোটে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর নভেম্বরের ব্যালটে ১.৩৪ মিল হারে পুলিশ কর নবায়নের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে জরুরি সভাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবটি পাস হলে পুলিশ বিভাগ প্রায় ৪৩ লাখ ডলার পাবে, যা বিভাগের মোট বাজেটের প্রায় ২৪ শতাংশ।
মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার ছয়টি জনপদের মধ্যে ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ অন্যতম, যেখানে আগস্টে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ কর বা মিলিজে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেন। এর মধ্যে পাঁচটি জনপদই উত্তর ওকল্যান্ড কাউন্টিতে। সাম্পটার টাউনশিপের ভোটাররাও পুলিশের জন্য প্রস্তাবিত করের বিরোধিতা করেন।
নভেম্বরের ব্যালটে নতুন কর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ এ সপ্তাহে একটি সভা আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগস্টে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়া ছয়টি এলাকার কর্মকর্তাদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট করের ব্যবস্থা ছাড়া পুলিশি সেবার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই নভেম্বরে ভোটারদের সামনে নতুন কর প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবের কয়েকটির অর্থের পরিমাণ আগস্টের প্রস্তাবের তুলনায় কম রাখা হয়েছে।
ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের পুলিশ প্রধান স্কট আন্ডারউডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ফ্লক ক্যামেরাকে অপরাধ দমনের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, মানব পাচার ও যৌন অপরাধের মতো গুরুতর ঘটনায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নভেম্বরের ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর প্রস্তাব নিয়ে একটি তথ্যমূলক সভা আগামীকাল ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় টাউন হলের মিলনায়তনে (৫২০০ সিভিক সেন্টার ড্রাইভ) অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ প্রধান আন্ডারউডের দাবি, তাঁর বিভাগের কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ফ্লক ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।
১০ আগস্ট ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সামনে দেওয়া এক উপস্থাপনায় আন্ডারউড বলেন, “আমাদের এলাকায় যারা বসবাস করেন, কাজ করেন কিংবা বেড়াতে আসেন—তাঁরা সবাই নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, আমাদের পুলিশ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত উচ্চ মানদণ্ড মেনে চলতে হয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com