পূর্বপুরুষের স্মরণে ডেট্রয়েট রিভারে শনিবার-রোববার একাধিক পিতৃতর্পণ

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০২:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০২:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
ডেট্রয়েট, ২ অক্টোবর: পিতৃপক্ষের পবিত্র আবহে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় মিশিগানে শুরু হয়েছে তর্পণের প্রস্তুতি। একদিকে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা ও জলদান, অন্যদিকে দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষা এই দুইয়ের আবহে ধর্মীয় ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে মিশিগানের বাঙালি হিন্দু সমাজ। আগামীকাল শনিবার ও রোববার ডেট্রয়েট রিভারের তীরে বেলে আইল পার্কে অনুষ্ঠিত হবে একাধিক তর্পণ অনুষ্ঠান। এতে মিশিগানের বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেবেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা তিথির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পিতৃপক্ষ। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অমাবস্যার মধ্য দিয়ে শেষ হবে পিতৃপক্ষ এবং শুরু হবে দেবীপক্ষ। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে মহালয়া হলো পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও দেবী দুর্গার আবাহনের এক পবিত্র সন্ধিক্ষণ। এই দিনেই যেন দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক আবহে পড়ে ঢাকের কাঠি।
পিতৃপক্ষের এই সময়ে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের মাধ্যমে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষরা তাঁদের উত্তরপুরুষদের কাছ থেকে জল ও অর্ঘ্য গ্রহণ করেন। তাই মহালয়ার দিনে জল, তিল, ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মিশিগানেও দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মর্যাদায় এ ঐতিহ্য পালন করে আসছেন প্রবাসী বাঙালি হিন্দুরা। এবারের আয়োজনেও থাকছে একাধিক তর্পণ কর্মসূচি।
দুর্গা টেম্পল ডেট্রয়েটের উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১টায় বেলে আইল পার্কের উদ্দেশে যাত্রা করা হবে। টেম্পলের প্রধান পুরোহিত পরীন্দ্র চক্রবর্তী তর্পণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
মিশিগানের বিশিষ্ট পুরোহিত পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী (অপু) একই দিন সকাল ৯টায় বেলে আইল পার্কের বিচ হাউস সংলগ্ন ডেট্রয়েট রিভারে পিতৃ তর্পণের আয়োজন করেছেন। এতে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে রোববার সকাল ৯টায় হ্যামট্রাম্যাক সিটির রাধাকৃষ্ণ টেম্পল থেকে তর্পণের উদ্দেশে বেলে আইল পার্কের পথে যাত্রা করা হবে। পুরোহিত নিহার রঞ্জন চক্রবর্তীর পরিচালনায় সেখানে তর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তর্পণকারীরা ডেট্রয়েট রিভারের পানিতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল, তিল, ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপকরণ অর্পণ করবেন। তাঁদের আত্মার শান্তি, পরিবারের মঙ্গল ও উত্তরপুরুষদের কল্যাণ কামনা করে নিবেদন করা হবে শ্রদ্ধার্ঘ্য।
‘তর্পণ’ শব্দের অর্থ তৃপ্তিদান। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রয়াত প্রিয়জন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার তৃপ্তির জন্য জলদান তর্পণের অন্যতম প্রধান আচার। বিশ্বাস করা হয়, পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ লাভ করা যায় এবং পরিবারে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দূর প্রবাসে থেকেও মিশিগানের বাঙালি হিন্দুরা সেই চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছেন। পূর্বপুরুষের স্মরণ শেষে যখন শুরু হবে দেবীপক্ষ, তখন প্রকৃতির বুকেও যেন বেজে উঠবে মায়ের আগমনী সুর ‘এসো মা, এসো’। পিতৃস্মরণ থেকে দেবীর আবাহন এই দুইয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির চিরন্তন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা আবারও জেগে উঠবে মিশিগানের মাটিতে।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com