মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক  বিজয় : নির্বাচনে বইল ‘নীল ঢেউ’

আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬ ০১:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১১-২০২৬ ০১:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
ডেট্রয়েট, ৫ নভেম্বর : মিশিগানের রাজনীতিতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অঙ্গরাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। একই সঙ্গে ইউএস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের তিনটি নির্বাচনী এলাকায় রিপাবলিকানদের পরাজিত করে আসন পুনরুদ্ধার করেছে তারা। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দলটির অন্যতম বড় নির্বাচনী সাফল্য।
আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ডেমোক্র্যাটরা গভর্নরের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেবে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ও সেক্রেটারি অব স্টেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেতৃত্ব ধরে রাখবে দলটি। এ ছাড়া মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে ৬-১ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে ডেমোক্র্যাটদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে আব্দুল এল-সায়েদের জয়, যা ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, ডেমোক্র্যাটদের এই নির্বাচনী সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্বাচনী এলাকায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়া কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মিশিগানেও একটি আসন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অঞ্চলে ১৯৩২ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের ভূমিধস জয়ের পর আর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হননি।

ল্যান্সিংভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক ও ডেমোক্র্যাট অ্যাড্রিয়ান হেমন্ডের মতে, এই ঐতিহাসিক বিজয় শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের কঠোর বার্তাই নয়, বরং বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ধারাবাহিক জয় দলটির প্রতি জনগণের সুস্পষ্ট সমর্থনেরও প্রতিফলন।
হেমন্ড বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও আবাসন খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের এখন সেসব সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে।
‘গ্রাসরুটস মিডওয়েস্ট’ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমন্ড বলেন, “এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর এক ধরনের গণভোট।”
বুধবার ডেট্রয়েটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত কর্মকর্তা জোসেলিন বেনসন বলেন, তাদের দল আইনসভায় ‘ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জন করেছে। ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছেন।
বেনসন আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি স্তরেই ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচিত করেছি। এমনকি অঙ্গরাজ্যের যেসব এলাকায় জয় পাওয়ার কথা আমরা কল্পনাও করিনি, সেখানেও বিজয় অর্জন করেছি।”
অন্যদিকে, ওকল্যান্ড কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ভ্যান্স প্যাট্রিক বলেছেন, কাউন্টিতে আইনসভার বেশ কয়েকটি আসন হারানোর পর দলের নির্বাচনী কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আইনসভার কিছু আসনে পরাজয় তাকে বিস্মিত করেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্যাট্রিক বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা ভালো লড়াই করেছেন। তবে সম্ভবত আমরা যে বিষয়গুলো সামনে এনেছি, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, প্রার্থীরা যেসব বিষয় নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন, তার অনেকগুলোই ছিল সুদৃঢ় আমেরিকান মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সেগুলো হয়তো ভোটারদের মনে প্রত্যাশিত সাড়া জাগাতে পারেনি। তাই এখন আমাদের ফিরে গিয়ে নতুন করে সবকিছু সাজাতে হবে। ২০২৮ সালে আবার দেখা হবে।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com