দিল্লি, ৭ নভেম্বর : বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বাংলাদেশের এসব অঞ্চলও ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে বলেন, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যেসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরের নাম উল্লেখ করেন।
বিজেপির এই সংসদ সদস্যের দাবি, এসব অঞ্চল একসময় ত্রিপুরার সাবেক রাজ্য বা টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল। তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিংয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নেহরু এসব অঞ্চল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে দুবে বলেন, “শুধু পাকিস্তানের কাছ থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধারই নয়, নেহরুজি যেসব অঞ্চল জোরপূর্বক হস্তান্তর করেছিলেন—নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা সিলেট—সেগুলোও ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং এসব অঞ্চল নিয়ে নেহরুর সঙ্গে বারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নোয়াখালী পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া এবং সিলেটে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন দুবে।
ত্রিপুরার ভারতভুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির এই নেতা বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের অংশ হয়। মহারানি কাঞ্চন প্রভা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নোয়াখালীর সহিংসতা
নিয়েও নেহরুকে
আক্রমণ
১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে নেহরুর ভূমিকার সমালোচনা করেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নেহরু মুসলিম লীগকে নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই সহিংসতায় প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হয়েছিলেন।
নিশিকান্ত দুবে বলেন, “নেহরুজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়, কিন্তু তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর; কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই মুসলিম লীগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালিতে—যা ছিল হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা—হিন্দুদের ওপর এক ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়। মাত্র একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেখানে যাননি; বরং তিনি এই চিন্তাতেই ব্যস্ত ছিলেন যে, কীভাবে মুসলিম লীগকে তার সরকারের অংশ করা যায়।”
চট্টগ্রাম বন্দর হারানোকে
উত্তর-পূর্ব ভারতের
প্রতিবন্ধকতা বললেন দুবে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে না থাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর মতে, বন্দরটির সুবিধা না পাওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাণিজ্য, যোগাযোগ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “মূলত চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাওয়ার কারণেই পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আজ যদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে পিছিয়ে পড়া মনে হয়, যদি সেখানে নানা সমস্যা থেকে থাকে, যদি আমরা সেখানকার খনিজ সম্পদ ও গ্যাসকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারি, আর যদি অঞ্চলটি এখনও বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়—তবে তার একমাত্র কারণ হলো, সেই বন্দরটি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এখন সময় এসেছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি এবং সিলেটকে পুনরায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার।”
সিলেটের গণভোটের প্রসঙ্গেও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য। ওই গণভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বাহারুল ইসলামকে পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস রাজ্যসভার সদস্য করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন, “নেহরুজি যেকোনো উপায়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে ত্রিপুরার রাজা বা মহারানি যখন ভারতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় যখন দীর্ঘ এক বছর ধরে সংগ্রাম চলল—তখন আপনারা কীভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও সিলেটের মতো হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে পাকিস্তানের হাতে (যা এখন বাংলাদেশ) তুলে দিলেন? আপনাদের এই অধিকার কে দিল?”
বাহারুল ইসলামের রাজনৈতিক ও বিচারিক জীবন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দুবে বলেন, “যিনি সিলেটে গণভোট পরিচালনা করেছিলেন—সেই বাহারুল ইসলামের কথা জানেন কি? কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল। রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন। হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর কংগ্রেস তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভার সদস্য করে।”
এ ছাড়া বাহারুল ইসলাম ‘মুসলিম লিগ রেড আর্মি’র সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, নোয়াখালীর সহিংসতা, চট্টগ্রাম দখল এবং সিলেটের গণভোট আয়োজনের সঙ্গে ওই বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
ইতিহাস সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে ইতিহাস সংশোধন করার। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর যেমন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে, ঠিক তেমনই সময় এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নোয়াখালীকে পুনরুদ্ধার করার।”
ত্রিপুরার রাজপরিবারের
বক্তব্যেও দেশভাগের প্রসঙ্গ
নিশিকান্ত দুবের এই মন্তব্যের আগে ত্রিপুরার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল টিপরা মোথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মাও দেশভাগের সময় ত্রিপুরার ভূখণ্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরার রাজপরিবারকে অন্ধকারে রেখে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই ঘটনাকে ভারতের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য বলেন, “আজ যদি আমাদের সমুদ্রপথে প্রবেশের সুযোগ থাকত, তবে ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা থাকত না। তৎকালীন ভারত সরকারের এই কৌশলগত ভুল শুধু ত্রিপুরা বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরই নয়, বরং পুরো জাতিরই বড় ক্ষতি করেছে। আমাদের 'গ্রেটার টিপরাল্যান্ড' আন্দোলনকে প্রায়শই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল অতীতের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোকে পুনরায় একত্রিত করা।”
তবে নিশিকান্ত দুবের এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক দাবি ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের একজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের দাবি নতুন করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে বলেন, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যেসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরের নাম উল্লেখ করেন।
বিজেপির এই সংসদ সদস্যের দাবি, এসব অঞ্চল একসময় ত্রিপুরার সাবেক রাজ্য বা টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল। তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিংয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নেহরু এসব অঞ্চল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে দুবে বলেন, “শুধু পাকিস্তানের কাছ থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধারই নয়, নেহরুজি যেসব অঞ্চল জোরপূর্বক হস্তান্তর করেছিলেন—নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা সিলেট—সেগুলোও ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং এসব অঞ্চল নিয়ে নেহরুর সঙ্গে বারবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নোয়াখালী পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া এবং সিলেটে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দাবি করেন দুবে।
ত্রিপুরার ভারতভুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির এই নেতা বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের অংশ হয়। মহারানি কাঞ্চন প্রভা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নোয়াখালীর সহিংসতা
নিয়েও নেহরুকে
আক্রমণ
১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে নেহরুর ভূমিকার সমালোচনা করেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নেহরু মুসলিম লীগকে নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই সহিংসতায় প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হয়েছিলেন।
নিশিকান্ত দুবে বলেন, “নেহরুজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়, কিন্তু তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর; কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই মুসলিম লীগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালিতে—যা ছিল হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা—হিন্দুদের ওপর এক ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়। মাত্র একদিনেই প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেখানে যাননি; বরং তিনি এই চিন্তাতেই ব্যস্ত ছিলেন যে, কীভাবে মুসলিম লীগকে তার সরকারের অংশ করা যায়।”
চট্টগ্রাম বন্দর হারানোকে
উত্তর-পূর্ব ভারতের
প্রতিবন্ধকতা বললেন দুবে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে না থাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর মতে, বন্দরটির সুবিধা না পাওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাণিজ্য, যোগাযোগ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “মূলত চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাওয়ার কারণেই পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আজ যদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে পিছিয়ে পড়া মনে হয়, যদি সেখানে নানা সমস্যা থেকে থাকে, যদি আমরা সেখানকার খনিজ সম্পদ ও গ্যাসকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারি, আর যদি অঞ্চলটি এখনও বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয়—তবে তার একমাত্র কারণ হলো, সেই বন্দরটি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এখন সময় এসেছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি এবং সিলেটকে পুনরায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার।”
সিলেটের গণভোটের প্রসঙ্গেও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য। ওই গণভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বাহারুল ইসলামকে পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস রাজ্যসভার সদস্য করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন, “নেহরুজি যেকোনো উপায়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে ত্রিপুরার রাজা বা মহারানি যখন ভারতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় যখন দীর্ঘ এক বছর ধরে সংগ্রাম চলল—তখন আপনারা কীভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও সিলেটের মতো হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে পাকিস্তানের হাতে (যা এখন বাংলাদেশ) তুলে দিলেন? আপনাদের এই অধিকার কে দিল?”
বাহারুল ইসলামের রাজনৈতিক ও বিচারিক জীবন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দুবে বলেন, “যিনি সিলেটে গণভোট পরিচালনা করেছিলেন—সেই বাহারুল ইসলামের কথা জানেন কি? কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল। রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন। হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর কংগ্রেস তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভার সদস্য করে।”
এ ছাড়া বাহারুল ইসলাম ‘মুসলিম লিগ রেড আর্মি’র সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, নোয়াখালীর সহিংসতা, চট্টগ্রাম দখল এবং সিলেটের গণভোট আয়োজনের সঙ্গে ওই বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
ইতিহাস সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে ইতিহাস সংশোধন করার। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর যেমন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে, ঠিক তেমনই সময় এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নোয়াখালীকে পুনরুদ্ধার করার।”
ত্রিপুরার রাজপরিবারের
বক্তব্যেও দেশভাগের প্রসঙ্গ
নিশিকান্ত দুবের এই মন্তব্যের আগে ত্রিপুরার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল টিপরা মোথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মাও দেশভাগের সময় ত্রিপুরার ভূখণ্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরার রাজপরিবারকে অন্ধকারে রেখে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই ঘটনাকে ভারতের জাতীয় ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য বলেন, “আজ যদি আমাদের সমুদ্রপথে প্রবেশের সুযোগ থাকত, তবে ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা থাকত না। তৎকালীন ভারত সরকারের এই কৌশলগত ভুল শুধু ত্রিপুরা বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলেরই নয়, বরং পুরো জাতিরই বড় ক্ষতি করেছে। আমাদের 'গ্রেটার টিপরাল্যান্ড' আন্দোলনকে প্রায়শই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল অতীতের ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোকে পুনরায় একত্রিত করা।”
তবে নিশিকান্ত দুবের এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক দাবি ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের একজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের দাবি নতুন করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।