ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক টমাস সিয়েরপিকি (বামে) এবং জোলান্টা গ্রেম্বেকা এই বছর তীব্র মাইলোয়েড লিউকেমিয়া ও NPM1 জেনেটিক মিউটেশন আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি ওষুধের এফডিএ অনুমোদন পেয়েছেন/Leisa Thompson, Michigan Photograohy
অ্যান আরবার, ২৩ ডিসেম্বর : কয়েক দশক আগেও অ্যাকিউট মাইলোয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল)—অস্থিমজ্জা ও রক্তের একটি বিরল কিন্তু আগ্রাসী ক্যান্সার—আক্রান্ত রোগীদের জানানো হতো যে কার্যকর চিকিৎসার তেমন কোনো পথ নেই। তবে ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের (ইউএম) দুই গবেষকের যুগান্তকারী গবেষণার ফলে সেই বাস্তবতা বদলাতে শুরু করেছে।
ইউএম-এর প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোলান্তা গ্রেমবেকা ও টমাস সিয়েরপিকির গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি নতুন ওষুধ ‘কমজিফটি’ (KOMZIFTI) চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর অনুমোদন পেয়েছে। এটি দিনে একবার সেবনযোগ্য একটি ওষুধ, যা অ্যাকিউট মাইলোয়েড লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
এএমএল একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও মারাত্মক রক্তের ক্যান্সার, যা যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। নতুন এই ওষুধটি লিউকেমিয়ার বৃদ্ধি ঘটানো নির্দিষ্ট প্রোটিনগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করতে সহায়তা করে, যা চিকিৎসায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির বৈজ্ঞানিক পরিচালক ডগলাস হার্স্ট বলেন, ওষুধ আবিষ্কার করা সহজ কাজ নয়। এতে অনেক সময়, শ্রম ও অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক গবেষণার জন্য ড. গ্রেমবেকা ও ড. সিয়েরপিকিকে সহায়তা করতে পেরে এসিএস গর্বিত। এই মৌলিক গবেষণাগুলোই পরে এফডিএ অনুমোদিত এই নতুন চিকিৎসা আবিষ্কারের পথ তৈরি করেছে।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মুখপাত্র অ্যাশলে নুনান জানান, এই দুই গবেষকই সংস্থাটির কাছ থেকে প্রাথমিক গবেষণার জন্য অনুদান পেয়েছিলেন।
পোল্যান্ডের রোকলাউ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে পরিচয় হওয়া গ্রেমবেকা ও সিয়েরপিকি ২০০০-এর দশকের শুরুতে গবেষণার সুযোগ বিস্তারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তারা লিউকেমিয়ার বৃদ্ধির জন্য দায়ী প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে পান।
গ্রেমবেকা বলেন, “প্রায় ১৮ বছর আগে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় আমরা দেখতে পাই যে কিছু নির্দিষ্ট লিউকেমিয়া উপপ্রকারে মেনিন নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু করা যেতে পারে।”
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে না এলে এই গবেষণা সম্ভব হতো না। সিয়েরপিকি বলেন, “আমরা এখানে বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ পেয়েছি, যা আমাদের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।”
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিউকেমিয়া মূলত শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রভাবিত করে। অস্থিমজ্জা অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা অতিরিক্ত উৎপাদন করলে রোগীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বারবার নাক দিয়ে রক্তপাত, হাড়ের ব্যথা ও হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও লিউকেমিয়া শিশুদের ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত, এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে।
ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৭ হাজার নতুন লিউকেমিয়া রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এ রোগে প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ২০১৭–২১ সময়কালে মিশিগানে প্রতি এক লাখে আনুমানিক ১৩.৮ জন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, যা জাতীয় গড়ের কাছাকাছি। তবে ২০১৮–২২ সময়ে মিশিগানে লিউকেমিয়া মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল।
নতুন এই ওষুধের অনুমোদন লিউকেমিয়া চিকিৎসায় আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
অ্যান আরবার, ২৩ ডিসেম্বর : কয়েক দশক আগেও অ্যাকিউট মাইলোয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল)—অস্থিমজ্জা ও রক্তের একটি বিরল কিন্তু আগ্রাসী ক্যান্সার—আক্রান্ত রোগীদের জানানো হতো যে কার্যকর চিকিৎসার তেমন কোনো পথ নেই। তবে ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের (ইউএম) দুই গবেষকের যুগান্তকারী গবেষণার ফলে সেই বাস্তবতা বদলাতে শুরু করেছে।
ইউএম-এর প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোলান্তা গ্রেমবেকা ও টমাস সিয়েরপিকির গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি নতুন ওষুধ ‘কমজিফটি’ (KOMZIFTI) চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর অনুমোদন পেয়েছে। এটি দিনে একবার সেবনযোগ্য একটি ওষুধ, যা অ্যাকিউট মাইলোয়েড লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
এএমএল একটি দ্রুত বর্ধনশীল ও মারাত্মক রক্তের ক্যান্সার, যা যেকোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। নতুন এই ওষুধটি লিউকেমিয়ার বৃদ্ধি ঘটানো নির্দিষ্ট প্রোটিনগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করতে সহায়তা করে, যা চিকিৎসায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির বৈজ্ঞানিক পরিচালক ডগলাস হার্স্ট বলেন, ওষুধ আবিষ্কার করা সহজ কাজ নয়। এতে অনেক সময়, শ্রম ও অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক গবেষণার জন্য ড. গ্রেমবেকা ও ড. সিয়েরপিকিকে সহায়তা করতে পেরে এসিএস গর্বিত। এই মৌলিক গবেষণাগুলোই পরে এফডিএ অনুমোদিত এই নতুন চিকিৎসা আবিষ্কারের পথ তৈরি করেছে।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মুখপাত্র অ্যাশলে নুনান জানান, এই দুই গবেষকই সংস্থাটির কাছ থেকে প্রাথমিক গবেষণার জন্য অনুদান পেয়েছিলেন।
পোল্যান্ডের রোকলাউ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে পরিচয় হওয়া গ্রেমবেকা ও সিয়েরপিকি ২০০০-এর দশকের শুরুতে গবেষণার সুযোগ বিস্তারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তারা লিউকেমিয়ার বৃদ্ধির জন্য দায়ী প্রোটিন মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে পান।
গ্রেমবেকা বলেন, “প্রায় ১৮ বছর আগে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় আমরা দেখতে পাই যে কিছু নির্দিষ্ট লিউকেমিয়া উপপ্রকারে মেনিন নামের একটি প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু করা যেতে পারে।”
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে না এলে এই গবেষণা সম্ভব হতো না। সিয়েরপিকি বলেন, “আমরা এখানে বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ পেয়েছি, যা আমাদের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।”
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিউকেমিয়া মূলত শ্বেত রক্তকণিকাকে প্রভাবিত করে। অস্থিমজ্জা অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা অতিরিক্ত উৎপাদন করলে রোগীর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বারবার নাক দিয়ে রক্তপাত, হাড়ের ব্যথা ও হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও লিউকেমিয়া শিশুদের ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত, এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে।
ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৭ হাজার নতুন লিউকেমিয়া রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এ রোগে প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ২০১৭–২১ সময়কালে মিশিগানে প্রতি এক লাখে আনুমানিক ১৩.৮ জন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, যা জাতীয় গড়ের কাছাকাছি। তবে ২০১৮–২২ সময়ে মিশিগানে লিউকেমিয়া মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল।
নতুন এই ওষুধের অনুমোদন লিউকেমিয়া চিকিৎসায় আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Source & Photo: http://detroitnews.com