আজ ২৬ ডিসেম্বর ফার্মিংটন হিলসে বরফঝড়ের সময় একটি গাড়ির গায়ে জমে থাকা বরফের দৃশ্য/Photo : David Guralnick, The Detroit News
মেট্রো ডেট্রয়েট, ২৬ ডিসেম্বর : শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানে হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে ফ্লাইট বাতিল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) মেট্রো ডেট্রয়েট থেকে উত্তরে এম–৫৯ ও ইন্টারস্টেট–৬৯ করিডোর পর্যন্ত — সেন্ট ক্লেয়ার, ওয়াশটেনাও, জেনেসি, সাগিনো, টাসকোলা এবং স্যানিলাক কাউন্টি—সহ বিস্তৃত এলাকাজুড়ে শীতকালীন আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করে।
এনডব্লিউএস-এর ঝড়সংক্রান্ত মানচিত্র অনুযায়ী, শুক্রবার সাগিনোতে সবচেয়ে বেশি হিমশীতল বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। যা এক–চতুর্থাংশ ইঞ্চির চেয়েও কিছুটা বেশি। ডেট্রয়েটে প্রায় ০.১৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। সংস্থাটি বে সিটি ও পোর্ট হিউরনের বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল ভেঙে পড়ার তথ্যও পেয়েছে। বরফ জমে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সাগিনোর কাছে আই–৭৫–এ একাধিক সংঘর্ষ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এমডিওটি)–এর বে রিজিওন—যার মধ্যে মাউন্ট প্লেজেন্ট, সাগিনো, ফ্লিন্ট এবং রাজ্যের থাম্ব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত—জানিয়েছে যে অন্তত ছয়টি দুর্ঘটনার কারণে শুক্রবার ফ্রিওয়ের লেনগুলো সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য বন্ধ ছিল।
এমডিওটি জানায়, জিলওয়াকি ব্রিজেও দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেতুটি উভয় দিকেই বন্ধ করতে হয়। ডব্লিউএনইএম সাগিনো–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পিচ্ছিল সেতুর ওপর সাগিনো নদীর অংশে একাধিক সেমি–ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে সেতুর উভয় দিক পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
সাগিনো কাউন্টি ৯১১ সেন্ট্রাল ডিসপ্যাচ ফেসবুকে জানায়, দুর্ঘটনার কারণে আই–৭৫ উভয় দিকেই “সম্পূর্ণ বন্ধ” ছিল এবং চালকদের সম্ভব হলে বিকল্প পথ ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করে।
ম্যাকিনাক ব্রিজ অথরিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বরফ জমার কারণে সেতুর ওপর যান চলাচলের গতি ঘণ্টায় ২০ মাইল পর্যন্ত কমিয়ে আনতে হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে রোমুলাসে অবস্থিত ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দর (ডিটিডব্লিউ) থেকে ৪০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। বড়দিনের ছুটির পর ঘরে ফেরা যাত্রীরা এর ফলে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন।
ডিটিডব্লিউ–এর মুখপাত্র কর্টেজ স্ট্রিকল্যান্ড এক ইমেইলে বলেন, “বর্তমানে বিমানবন্দরে বরফ জমার সরাসরি ঘটনা নেই। বিলম্ব বা বাতিলকরণ নির্ধারণ করে বিমান সংস্থাগুলো। বরফ জমার সম্ভাবনা বিবেচনায় আমাদের এয়ারফিল্ড অপারেশনস ও রক্ষণাবেক্ষণ দল রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়েতে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
এনডব্লিউএস জানায়, কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত বরফ পড়া অব্যাহত থাকে। এনডব্লিউএস ডেট্রয়েট অফিসের আবহাওয়াবিদ কেভিন ক্যাকান বলেন, “অসংরক্ষিত পৃষ্ঠগুলো বরফে ঢেকে যাবে এবং সারাদিনই আমরা আরও হিমশীতল বৃষ্টি দেখতে পাব।“সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে যাতায়াত, কারণ লবণ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়নি এমন যেকোনো রাস্তা পিচ্ছিল এবং গাড়ি চালানোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ–পূর্ব মিশিগানের তাপমাত্রা সামান্য হিমাঙ্কের ওপরে ছিল। ডেট্রয়েটে, যা সাধারণত অঞ্চলের উষ্ণতম স্থান, বিকেল ৪টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
এনডব্লিউএস–এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৫ ডিগ্রির মতো, আর রবিবার তা আরও বেড়ে ৪৯ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। বৃষ্টির কারণে শুক্রবার ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ লাইব্রেরি সিস্টেমের দুই শাখাই বন্ধ ছিল, লাইব্রেরির ইমেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে বরফ জমে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিভিন্ন কাঠামোর ওপর বরফ চাপে পুরো এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। কনজিউমার্স এনার্জির বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানচিত্রে দেখা যায়, ওগেমাউ কাউন্টির প্রেসকটের কাছে আই–৭৫ করিডোর বরাবর শুক্রবার সকালে ৪,০০০–এর বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। মানচিত্রে বিভ্রাটের কারণ হিসেবে “ঝড়ের ক্ষতি” উল্লেখ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ কনজিউমার্সের ২৫,০০০–এরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন, যাদের বেশিরভাগ লোয়ার পেনিনসুলার মধ্যাঞ্চলে বসবাস করেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
মেট্রো ডেট্রয়েট, ২৬ ডিসেম্বর : শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানে হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে ফ্লাইট বাতিল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) মেট্রো ডেট্রয়েট থেকে উত্তরে এম–৫৯ ও ইন্টারস্টেট–৬৯ করিডোর পর্যন্ত — সেন্ট ক্লেয়ার, ওয়াশটেনাও, জেনেসি, সাগিনো, টাসকোলা এবং স্যানিলাক কাউন্টি—সহ বিস্তৃত এলাকাজুড়ে শীতকালীন আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করে।
এনডব্লিউএস-এর ঝড়সংক্রান্ত মানচিত্র অনুযায়ী, শুক্রবার সাগিনোতে সবচেয়ে বেশি হিমশীতল বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। যা এক–চতুর্থাংশ ইঞ্চির চেয়েও কিছুটা বেশি। ডেট্রয়েটে প্রায় ০.১৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। সংস্থাটি বে সিটি ও পোর্ট হিউরনের বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল ভেঙে পড়ার তথ্যও পেয়েছে। বরফ জমে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সাগিনোর কাছে আই–৭৫–এ একাধিক সংঘর্ষ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এমডিওটি)–এর বে রিজিওন—যার মধ্যে মাউন্ট প্লেজেন্ট, সাগিনো, ফ্লিন্ট এবং রাজ্যের থাম্ব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত—জানিয়েছে যে অন্তত ছয়টি দুর্ঘটনার কারণে শুক্রবার ফ্রিওয়ের লেনগুলো সাময়িকভাবে যান চলাচলের জন্য বন্ধ ছিল।
এমডিওটি জানায়, জিলওয়াকি ব্রিজেও দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেতুটি উভয় দিকেই বন্ধ করতে হয়। ডব্লিউএনইএম সাগিনো–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পিচ্ছিল সেতুর ওপর সাগিনো নদীর অংশে একাধিক সেমি–ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে সেতুর উভয় দিক পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
সাগিনো কাউন্টি ৯১১ সেন্ট্রাল ডিসপ্যাচ ফেসবুকে জানায়, দুর্ঘটনার কারণে আই–৭৫ উভয় দিকেই “সম্পূর্ণ বন্ধ” ছিল এবং চালকদের সম্ভব হলে বিকল্প পথ ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করে।
ম্যাকিনাক ব্রিজ অথরিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বরফ জমার কারণে সেতুর ওপর যান চলাচলের গতি ঘণ্টায় ২০ মাইল পর্যন্ত কমিয়ে আনতে হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে রোমুলাসে অবস্থিত ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দর (ডিটিডব্লিউ) থেকে ৪০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্ট্যাটাস ওয়েবসাইটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। বড়দিনের ছুটির পর ঘরে ফেরা যাত্রীরা এর ফলে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন।
ডিটিডব্লিউ–এর মুখপাত্র কর্টেজ স্ট্রিকল্যান্ড এক ইমেইলে বলেন, “বর্তমানে বিমানবন্দরে বরফ জমার সরাসরি ঘটনা নেই। বিলম্ব বা বাতিলকরণ নির্ধারণ করে বিমান সংস্থাগুলো। বরফ জমার সম্ভাবনা বিবেচনায় আমাদের এয়ারফিল্ড অপারেশনস ও রক্ষণাবেক্ষণ দল রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়েতে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
এনডব্লিউএস জানায়, কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত বরফ পড়া অব্যাহত থাকে। এনডব্লিউএস ডেট্রয়েট অফিসের আবহাওয়াবিদ কেভিন ক্যাকান বলেন, “অসংরক্ষিত পৃষ্ঠগুলো বরফে ঢেকে যাবে এবং সারাদিনই আমরা আরও হিমশীতল বৃষ্টি দেখতে পাব।“সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে যাতায়াত, কারণ লবণ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়নি এমন যেকোনো রাস্তা পিচ্ছিল এবং গাড়ি চালানোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ–পূর্ব মিশিগানের তাপমাত্রা সামান্য হিমাঙ্কের ওপরে ছিল। ডেট্রয়েটে, যা সাধারণত অঞ্চলের উষ্ণতম স্থান, বিকেল ৪টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
এনডব্লিউএস–এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৫ ডিগ্রির মতো, আর রবিবার তা আরও বেড়ে ৪৯ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। বৃষ্টির কারণে শুক্রবার ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ লাইব্রেরি সিস্টেমের দুই শাখাই বন্ধ ছিল, লাইব্রেরির ইমেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে বরফ জমে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিভিন্ন কাঠামোর ওপর বরফ চাপে পুরো এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। কনজিউমার্স এনার্জির বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানচিত্রে দেখা যায়, ওগেমাউ কাউন্টির প্রেসকটের কাছে আই–৭৫ করিডোর বরাবর শুক্রবার সকালে ৪,০০০–এর বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। মানচিত্রে বিভ্রাটের কারণ হিসেবে “ঝড়ের ক্ষতি” উল্লেখ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ কনজিউমার্সের ২৫,০০০–এরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন, যাদের বেশিরভাগ লোয়ার পেনিনসুলার মধ্যাঞ্চলে বসবাস করেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com