১০ কোটি নয়, এক টাকা ঘুষের প্রমাণ পেলেই চাকরি ছাড়ব—ডিসির চ্যালেঞ্জ

আপলোড সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০২:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০২:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন
সিলেট, ৮ জানুয়ারি : সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে একজন দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন; তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রদত্ত রসিদ আবশ্যক। এসব নথি না থাকায় আইন অনুযায়ী বাধ্য হয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।
ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি একটি ভয়ংকর ফেক নিউজ।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “দশ কোটি নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ারকে কেউ কিনতে পারবে না।” বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য যাচাই করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com