ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড তাঁর প্রথম ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ ভাষণ দেওয়ার জন্য শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মামফোর্ড হাই স্কুলকে বেছে নিয়েছেন/Photo : Clarence Tabb Jr, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ৩০ মার্চ : ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড মঙ্গলবার রাতে স্যামুয়েল সি. মামফোর্ড হাই স্কুলে তাঁর প্রথম ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ (শহরের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ক) ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। ডেপুটি মেয়র ব্রায়ান হোয়াইট সোমবার জানান, নতুন মেয়রের পাড়া-মহল্লাকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতেই এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
হোয়াইট জানান, শেফিল্ড তাঁর ভাষণে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ব্যয় ও বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি চুরি, বাড়ি ও গাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশসহ ছোটখাটো অপরাধ দমনে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথাও তিনি তুলে ধরবেন। অনেক বাসিন্দার মতে, এসব অপরাধ বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ ভাষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ডেট্রয়েট শহরের অফিসিয়াল ইউটিউব, ফেসবুক ও লিঙ্কডইন পেজে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠানে সশরীরে প্রায় ৮০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ডেপুটি মেয়র জানান, শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মামফোর্ড হাই স্কুলকে ভাষণের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো মেয়রের মূল ভাবনা—নিজেকে একজন ‘নেইবারহুড-কেন্দ্রিক মেয়র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
হোয়াইট বলেন, “সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এবং নতুন করে গড়ে তুলতে পারলে কী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা যায়—মামফোর্ড হাই স্কুল তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। মেয়রের নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করা এবং উন্নয়নের ধারা শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি আরও জানান, শেফিল্ড তাঁর ভাষণে ইতোমধ্যে জারি করা নির্বাহী আদেশ, নীতি ও বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরবেন।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডেট্রয়েটে অলাভজনক কর্মসূচির সম্প্রসারণ, যার আওতায় নতুন মা ও গর্ভবতী নারীদের নগদ সহায়তা প্রদান; ‘অফিস অব নেইবারহুড অ্যান্ড কমিউনিটি সেফটি’ এবং ‘হিউম্যান, হোমলেস অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন দপ্তর গঠন; প্রবীণ নাগরিকদের আবাসনের জন্য নতুন কমপ্লায়েন্স কর্মসূচি চালু; এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর ভাঙার স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
সিটি কাউন্সিলে শেফিল্ডের তিনটি মেয়াদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডেপুটি মেয়র ব্রায়ান হোয়াইট বলেন, তাঁর ভাষণে ডেট্রয়েটবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিটি কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এটি ছিল শেফিল্ডের মূল লক্ষ্য, আর এই কারণেই প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। হোয়াইটের ভাষায়, মানুষ এমন একজন নেতাকেই চেয়েছিল, যিনি তাঁদের কথা শুনবেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।
শহরের সাবেক কাউন্সিল সদস্য হিসেবে শেফিল্ড ডেট্রয়েটের ৩২৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী মেয়র এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র। তিনি মাইক ডুগানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ডুগান তাঁর তিন মেয়াদে ১২ বছর দায়িত্ব পালনকালে শহরের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ডেট্রয়েট শহর চ্যাপ্টার ৯ বা পৌর দেউলিয়াত্বে পড়েছিল এবং ২০১৪ সালের শেষ দিকে সেখান থেকে পুনরুদ্ধার হয়।
গত নভেম্বর মাসে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনে তিনি রেভারেন্ড সলোমন কিনলকের বিপরীতে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি ডেট্রয়েটের চতুর্থ প্রজন্মের বাসিন্দাও।
‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিটি কাউন্সিল সভাপতি জেমস টেট বলেন, শেফিল্ডের প্রশাসনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাঁর মতে, এই প্রশাসনকে মানুষের কাছে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে টেট বলেন, শেফিল্ড কেবল কাউন্সিলের সাবেক সদস্যই নন, তিনি ডেট্রয়েটেরই একজন নিজস্ব মানুষ এবং এই সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। একই সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালনের মতো যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা তাঁর রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
টেট আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শেফিল্ডের অভিজ্ঞতা ও পটভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর কমানো, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ‘রেড টেপ’ কমানো—এসব ক্ষেত্রেও তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ৩০ মার্চ : ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড মঙ্গলবার রাতে স্যামুয়েল সি. মামফোর্ড হাই স্কুলে তাঁর প্রথম ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ (শহরের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ক) ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। ডেপুটি মেয়র ব্রায়ান হোয়াইট সোমবার জানান, নতুন মেয়রের পাড়া-মহল্লাকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতেই এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
হোয়াইট জানান, শেফিল্ড তাঁর ভাষণে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ব্যয় ও বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি চুরি, বাড়ি ও গাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশসহ ছোটখাটো অপরাধ দমনে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথাও তিনি তুলে ধরবেন। অনেক বাসিন্দার মতে, এসব অপরাধ বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ‘স্টেট অব দ্য সিটি’ ভাষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ডেট্রয়েট শহরের অফিসিয়াল ইউটিউব, ফেসবুক ও লিঙ্কডইন পেজে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠানে সশরীরে প্রায় ৮০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ডেপুটি মেয়র জানান, শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মামফোর্ড হাই স্কুলকে ভাষণের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো মেয়রের মূল ভাবনা—নিজেকে একজন ‘নেইবারহুড-কেন্দ্রিক মেয়র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
হোয়াইট বলেন, “সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে এবং নতুন করে গড়ে তুলতে পারলে কী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা যায়—মামফোর্ড হাই স্কুল তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। মেয়রের নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করা এবং উন্নয়নের ধারা শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি আরও জানান, শেফিল্ড তাঁর ভাষণে ইতোমধ্যে জারি করা নির্বাহী আদেশ, নীতি ও বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরবেন।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডেট্রয়েটে অলাভজনক কর্মসূচির সম্প্রসারণ, যার আওতায় নতুন মা ও গর্ভবতী নারীদের নগদ সহায়তা প্রদান; ‘অফিস অব নেইবারহুড অ্যান্ড কমিউনিটি সেফটি’ এবং ‘হিউম্যান, হোমলেস অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন দপ্তর গঠন; প্রবীণ নাগরিকদের আবাসনের জন্য নতুন কমপ্লায়েন্স কর্মসূচি চালু; এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর ভাঙার স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
সিটি কাউন্সিলে শেফিল্ডের তিনটি মেয়াদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ডেপুটি মেয়র ব্রায়ান হোয়াইট বলেন, তাঁর ভাষণে ডেট্রয়েটবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিটি কাউন্সিলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এটি ছিল শেফিল্ডের মূল লক্ষ্য, আর এই কারণেই প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। হোয়াইটের ভাষায়, মানুষ এমন একজন নেতাকেই চেয়েছিল, যিনি তাঁদের কথা শুনবেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।
শহরের সাবেক কাউন্সিল সদস্য হিসেবে শেফিল্ড ডেট্রয়েটের ৩২৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী মেয়র এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র। তিনি মাইক ডুগানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ডুগান তাঁর তিন মেয়াদে ১২ বছর দায়িত্ব পালনকালে শহরের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ডেট্রয়েট শহর চ্যাপ্টার ৯ বা পৌর দেউলিয়াত্বে পড়েছিল এবং ২০১৪ সালের শেষ দিকে সেখান থেকে পুনরুদ্ধার হয়।
গত নভেম্বর মাসে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে শেফিল্ড সিটি কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনে তিনি রেভারেন্ড সলোমন কিনলকের বিপরীতে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি ডেট্রয়েটের চতুর্থ প্রজন্মের বাসিন্দাও।
‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিটি কাউন্সিল সভাপতি জেমস টেট বলেন, শেফিল্ডের প্রশাসনের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাঁর মতে, এই প্রশাসনকে মানুষের কাছে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে টেট বলেন, শেফিল্ড কেবল কাউন্সিলের সাবেক সদস্যই নন, তিনি ডেট্রয়েটেরই একজন নিজস্ব মানুষ এবং এই সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। একই সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব সফলভাবে পালনের মতো যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা তাঁর রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
টেট আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শেফিল্ডের অভিজ্ঞতা ও পটভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর কমানো, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ‘রেড টেপ’ কমানো—এসব ক্ষেত্রেও তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
Source & Photo: http://detroitnews.com