ওঁ’ মন্ত্রে সবার অধিকার, বৈষম্য বেদবিরোধী : ডা. নৃপেন্দ্র দেবনাথ

আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন
ওয়ারেন সিটি, ১১ এপ্রিল : “আনন্দের মধ্য দিয়েই আত্মার জন্ম”এমন গভীর আধ্যাত্মিক বক্তব্যে ভক্তদের মনোজগতে এক বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করেন ডা. নৃপেন্দ্র দেবনাথ। গতকাল বিকেলে ওয়ারেন সিটির বাসিন্দা অনুকূল দেবনাথের বাসভবনে আয়োজিত এক ভক্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনে প্রকৃত আনন্দই হলো আত্মার বিকাশের মূল উৎস। বাহ্যিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কখনো স্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না; বরং অন্তরের গভীর থেকে উৎসারিত আনন্দই মানুষকে সত্যিকারের শান্তি ও আত্মিক পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। তাই তিনি সকলকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচকতা, সেবা ও ভক্তির মাধ্যমে সেই অন্তর্গত আনন্দ অন্বেষণের আহ্বান জানান।
ডা. দেবনাথ আরও বলেন, প্রকৃত মানুষ কখনোই ব্রাহ্মণ, সাধারণ মানুষ, হরিজন-চণ্ডাল কিংবা পশু বা কুকুরের মধ্যে ভেদাভেদ করেন না। কারণ, সকল জীবের মধ্যেই পরমাত্মার উপস্থিতি রয়েছে, এই উপলব্ধিই মানবতার মূল ভিত্তি। তাঁর মতে, যারা বর্ণ বা জাতিভেদের চর্চা করে, তারা মূলত ধর্মের প্রকৃত আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ বর্ণ, জাতি বা অবস্থান নির্বিশেষে সমান সম্মান পাওয়ার যোগ্য। বিশেষ করে পূজা-পার্বণ বা প্রার্থনার মতো পবিত্র ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জাতিভেদ সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার জন্মে নয়, বরং তার চরিত্র ও কর্মে। যে কোনো বর্ণের মানুষই পরিস্থিতির কারণে দুষ্ট বা চরিত্রহীন হয়ে উঠতে পারে; তখনই সে প্রকৃত অর্থে অধঃপতিত। তবে তাকে ঘৃণা না করে সহানুভূতি ও সহায়তার মাধ্যমে সৎ পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সমাজের। এ প্রসঙ্গে তিনি শ্রী চৈতন্য প্রভু-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভালোবাসা, ক্ষমা ও ভক্তির মাধ্যমে সকল মানুষকে ভগবৎধর্মে আহ্বান জানিয়ে শ্রী চৈতন্য প্রভু মানবতার সর্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ডা. নৃপেন্দ্র দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে হিন্দুধর্মের কিছু গোঁড়ামিপূর্ণ ব্যাখ্যার ফলে বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে শূদ্র ও নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই পবিত্র ‘ওঁ’ (ওঁকার) মন্ত্র উচ্চারণ ও শাস্ত্রীয় শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের বৈষম্যকে ‘বেদবিরোধী’ আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ‘ওঁ’ (ওঁকার) মন্ত্র সকল পূজা ও প্রার্থনার মূল ও পবিত্রতম ধ্বনি।  তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই মন্ত্র অদ্বিতীয়।  এটি পরমব্রহ্ম ও পরমেশ্বরের প্রতীক, সমগ্র সৃষ্টির উৎসশক্তির প্রকাশ। তাই কোনো গোষ্ঠীর জন্য এর চর্চা সীমাবদ্ধ রাখা সনাতন ধর্মের সার্বজনীন চেতনার পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, ধর্মের মূল শিক্ষা হলো অন্তর্ভুক্তি, সাম্য ও আত্মিক উন্নয়ন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ওঁ’ মন্ত্রসহ সকল আধ্যাত্মিক সাধনা প্রত্যেক মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত, এটাই সত্য ধর্মের পথ।
বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানুষ প্রায়ই আত্মিক শান্তি হারিয়ে ফেলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় আধ্যাত্মিক চর্চা ও সৎসঙ্গই হতে পারে সেই হারানো শান্তি ফিরে পাওয়ার অন্যতম উপায়। তাঁর বক্তব্য ভক্তদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলে এবং অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে এই উপলব্ধির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক পৃথা দেব ও অনুকূল দেবনাথ অতিথি ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আধ্যাত্মিক সমাবেশ আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমাবেশটি কীর্তন, প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই ভক্ত সমাবেশটি শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়; বরং এটি ছিল আত্মিক জাগরণ, আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য মিলনমেলা।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com