আজ রোববার হ্যামট্রাম্যাক ইসলামিক সেন্টারের সামনে পরিকল্পিত একটি বই পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় একটি ইউ-হল ট্রাকে চড়ে কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে অতিক্রম করার সময় স্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাটি দেখে ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাকটির দিকে এগিয়ে যান। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই চালক দ্রুতগতিতে ট্রাকটি নিয়ে সেখান থেকে সরে যায়/David Guralnick, The Detroit News
হ্যামট্রাম্যাক, ১০ মে : শহরের একটি মসজিদের সামনে পবিত্র কুরআনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর হুমকিকে কেন্দ্র করে আজ রোববার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মুসলিম-বিদ্বেষী এ হুমকির প্রতিবাদে এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
প্রতিবাদের একমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে। একটি ইউ-হল ট্রাকে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মুসলিম সমর্থকদের জমায়েতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। এ সময় উপস্থিত জনতার কিছু অংশ দ্রুত ট্রাকটির দিকে এগিয়ে যায় এবং একজন ব্যক্তি একটি বড় লাঠি দিয়ে গাড়িটিতে আঘাত করেন। কিন্তু চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
‘আমেরিকানস এগেইনস্ট ইসলামিফিকেশন’ নামের মুসলিম-বিদ্বেষী গোষ্ঠীর সদস্য ও কর্মী জেক ল্যাং, যিনি হ্যামট্রাম্যাকে বই পোড়ানোর এই কর্মসূচির প্রচারণা চালিয়েছিলেন, বিক্ষোভ চলাকালে ফেসবুক ও টুইটারে লাইভস্ট্রিমে অংশ নেন। ওই লাইভ ভিডিওতে তাকে একটি ইউ-হল ট্রাকের চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। সম্প্রচারের সময় তিনি দাবি করেন, হ্যামট্রাম্যাকে তার ওপর “হামলা” চালানো হয়েছে।
গত নভেম্বরেও ল্যাং ও তার সহযোগীরা ডিয়ারবর্নে মুসলিম-বিদ্বেষী একটি বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন। সে ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবারের ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ল্যাং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ইউ-হল ট্রাকের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ল্যাংকে পবিত্র কুরআন পোড়াতে দেখা যায়নি। তবে ভিডিওর এক পর্যায়ে তিনি দর্শকদের সামনে পবিত্র কুরআনের কয়েকটি কপি ও একটি বেকনের প্যাকেট প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি পথচারীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “কে কে ‘কুরআন স্যান্ডউইচ’ খেতে চান?” তিনি ভিডিওটি ফেসবুক ও টুইটারে “আমেরিকার ইতিহাসে বই পোড়ানোর সবচেয়ে বড় ঘটনা” শিরোনামে পোস্ট করেন।
ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে সংঘটিত দাঙ্গার সময় এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা এবং সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাকে ক্ষমা করে দেন। বর্তমানে ল্যাং ফ্লোরিডা থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন।

হ্যামট্রাম্যাক ইসলামিক সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠিত পাল্টা বিক্ষোভে ব্রাদার ইহ ডেট্রয়েট ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টির অনার গার্ডের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন/David Guralnick, The Detroit News
বই পোড়ানোর ঘটনার বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক এবং ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী জ্যাকসন রোবাক জানান, গত নভেম্বর মাসে ল্যাং যখন ডিয়ারবর্নে এসেছিলেন, তখন তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। “আমাদের লক্ষ্য হলো, তাকে এই জনপদগুলো থেকে বিতাড়িত করা,” রোবাক বলেন।
তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষকে একত্রিত করতে চাই। আমি নিজেও একজন মুসলিম। দেশের বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত শহরগুলোর একটিতে এসে এখানকার মানুষের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলতে চাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কাজ করার অধিকার কারও নেই।”
হ্যামট্রাম্যাকের আল-ইসলাহ মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সামনে বিকেল ৪টা থেকেই মানুষের জড়ো হওয়া শুরু হয়। সমবেত জনতার আশঙ্কা ছিল, বিকেল ৫টার দিকে—গোষ্ঠীটির ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী—জেক ল্যাং কিংবা ‘আমেরিকানস এগেইনস্ট ইসলামিফিকেশন’-এর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হতে পারেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন হ্যামট্রাম্যাকের স্থানীয় বাসিন্দা, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী, সমাজতান্ত্রিক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং ‘ডেট্রয়েট ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টি’-র কয়েকজন সদস্য। শুরুতে একটি খ্রিস্টান গোষ্ঠীকে ভুলবশত ইসলামবিরোধী মনে করা হলেও পরে তারা স্পষ্ট করে জানায়, পবিত্র কুরআন পোড়ানোর ধারণাকে তারাও “জঘন্য” বলে মনে করে।
৪৩ বছর বয়সী ব্রায়ান স্মুকার বলেন, “মুষ্টিমেয় কিছু উগ্রবাদী কখনোই সমগ্র ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। একইভাবে, উগ্রপন্থীরা যেন খ্রিস্টধর্মেরও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ না পায়—সেদিকেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
বিকেল থেকে সন্ধ্যার শুরু পর্যন্ত পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। হ্যামট্রাম্যাক পুলিশের পাশাপাশি ‘ওয়েইন কাউন্টি শেরিফ অফিস’ এবং ‘মিশিগান স্টেট পুলিশ’-এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিলেন।

আজ রোববার হ্যামট্রাম্যাক ইসলামিক সেন্টারের সামনে পরিকল্পিত বই পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন পতাকা নাড়িয়ে প্রতিবাদ জানান//David Guralnick, The Detroit News
২৩ বছর বয়সী জো পিকো বলেন, “আমরা মূলত এখানে জড়ো হয়েছি কারণ ডিয়ারবর্নে তারা কী ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করেছিল, তা আমরা দেখেছি। এখন তারা হ্যামট্রাম্যাকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে। আমি কোনোভাবেই এমন আচরণ মেনে নিতে পারি না।”
২১ বছর বয়সী লাইথ সালেমসহ আরও কয়েকজন পাল্টা-বিক্ষোভকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর হুমকির কথা জানতে পেরে মসজিদের সামনে উপস্থিত হন। তারা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গড়ায়, তা সরাসরি দেখতে চেয়েছিলেন।
ডেট্রয়েটের বাসিন্দা সালেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী ও পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের মুখোমুখি সংঘাত সৃষ্টি হলে তা খুব দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ হয়তো প্রথমে উসকানিমূলক কিছু করার চেষ্টা করতে পারে। আর ঠিক এ কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখানে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।”
হ্যামট্রাম্যাকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-নাকিব বলেন, “আমরা চাই, এখানে আসা প্রত্যেক মানুষ যেন নিজেদের স্বাগত ও সম্মানিত মনে করেন। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে কিংবা অন্য কেউ বিদ্বেষ ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় কেউ যেন নিজেদের অনিরাপদ বা হুমকির মুখে আছে বলে অনুভব না করেন।”
আল-নাকিব আরও বলেন, “এই মুহূর্তে অনেক মানুষ গভীরভাবে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। অনেকের মনেই হতাশা ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। পুরো পরিস্থিতিটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক।”
৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলম হ্যামট্রাম্যাক শহরটিকে—যেখানে ইয়েমেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা বসবাস করেন—মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি “আশার বাতিঘর” হিসেবে উল্লেখ করেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
হ্যামট্রাম্যাক, ১০ মে : শহরের একটি মসজিদের সামনে পবিত্র কুরআনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর হুমকিকে কেন্দ্র করে আজ রোববার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মুসলিম-বিদ্বেষী এ হুমকির প্রতিবাদে এবং স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
প্রতিবাদের একমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে। একটি ইউ-হল ট্রাকে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মুসলিম সমর্থকদের জমায়েতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। এ সময় উপস্থিত জনতার কিছু অংশ দ্রুত ট্রাকটির দিকে এগিয়ে যায় এবং একজন ব্যক্তি একটি বড় লাঠি দিয়ে গাড়িটিতে আঘাত করেন। কিন্তু চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
‘আমেরিকানস এগেইনস্ট ইসলামিফিকেশন’ নামের মুসলিম-বিদ্বেষী গোষ্ঠীর সদস্য ও কর্মী জেক ল্যাং, যিনি হ্যামট্রাম্যাকে বই পোড়ানোর এই কর্মসূচির প্রচারণা চালিয়েছিলেন, বিক্ষোভ চলাকালে ফেসবুক ও টুইটারে লাইভস্ট্রিমে অংশ নেন। ওই লাইভ ভিডিওতে তাকে একটি ইউ-হল ট্রাকের চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। সম্প্রচারের সময় তিনি দাবি করেন, হ্যামট্রাম্যাকে তার ওপর “হামলা” চালানো হয়েছে।
গত নভেম্বরেও ল্যাং ও তার সহযোগীরা ডিয়ারবর্নে মুসলিম-বিদ্বেষী একটি বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন। সে ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবারের ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ল্যাং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ইউ-হল ট্রাকের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ল্যাংকে পবিত্র কুরআন পোড়াতে দেখা যায়নি। তবে ভিডিওর এক পর্যায়ে তিনি দর্শকদের সামনে পবিত্র কুরআনের কয়েকটি কপি ও একটি বেকনের প্যাকেট প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি পথচারীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “কে কে ‘কুরআন স্যান্ডউইচ’ খেতে চান?” তিনি ভিডিওটি ফেসবুক ও টুইটারে “আমেরিকার ইতিহাসে বই পোড়ানোর সবচেয়ে বড় ঘটনা” শিরোনামে পোস্ট করেন।
ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে সংঘটিত দাঙ্গার সময় এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা এবং সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাকে ক্ষমা করে দেন। বর্তমানে ল্যাং ফ্লোরিডা থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন।

হ্যামট্রাম্যাক ইসলামিক সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠিত পাল্টা বিক্ষোভে ব্রাদার ইহ ডেট্রয়েট ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টির অনার গার্ডের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন/David Guralnick, The Detroit News
বই পোড়ানোর ঘটনার বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক এবং ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী জ্যাকসন রোবাক জানান, গত নভেম্বর মাসে ল্যাং যখন ডিয়ারবর্নে এসেছিলেন, তখন তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। “আমাদের লক্ষ্য হলো, তাকে এই জনপদগুলো থেকে বিতাড়িত করা,” রোবাক বলেন।
তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষকে একত্রিত করতে চাই। আমি নিজেও একজন মুসলিম। দেশের বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত শহরগুলোর একটিতে এসে এখানকার মানুষের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলতে চাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন কাজ করার অধিকার কারও নেই।”
হ্যামট্রাম্যাকের আল-ইসলাহ মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সামনে বিকেল ৪টা থেকেই মানুষের জড়ো হওয়া শুরু হয়। সমবেত জনতার আশঙ্কা ছিল, বিকেল ৫টার দিকে—গোষ্ঠীটির ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী—জেক ল্যাং কিংবা ‘আমেরিকানস এগেইনস্ট ইসলামিফিকেশন’-এর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হতে পারেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন হ্যামট্রাম্যাকের স্থানীয় বাসিন্দা, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী, সমাজতান্ত্রিক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং ‘ডেট্রয়েট ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টি’-র কয়েকজন সদস্য। শুরুতে একটি খ্রিস্টান গোষ্ঠীকে ভুলবশত ইসলামবিরোধী মনে করা হলেও পরে তারা স্পষ্ট করে জানায়, পবিত্র কুরআন পোড়ানোর ধারণাকে তারাও “জঘন্য” বলে মনে করে।
৪৩ বছর বয়সী ব্রায়ান স্মুকার বলেন, “মুষ্টিমেয় কিছু উগ্রবাদী কখনোই সমগ্র ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। একইভাবে, উগ্রপন্থীরা যেন খ্রিস্টধর্মেরও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ না পায়—সেদিকেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
বিকেল থেকে সন্ধ্যার শুরু পর্যন্ত পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। হ্যামট্রাম্যাক পুলিশের পাশাপাশি ‘ওয়েইন কাউন্টি শেরিফ অফিস’ এবং ‘মিশিগান স্টেট পুলিশ’-এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিলেন।

আজ রোববার হ্যামট্রাম্যাক ইসলামিক সেন্টারের সামনে পরিকল্পিত বই পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন পতাকা নাড়িয়ে প্রতিবাদ জানান//David Guralnick, The Detroit News
২৩ বছর বয়সী জো পিকো বলেন, “আমরা মূলত এখানে জড়ো হয়েছি কারণ ডিয়ারবর্নে তারা কী ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করেছিল, তা আমরা দেখেছি। এখন তারা হ্যামট্রাম্যাকেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে। আমি কোনোভাবেই এমন আচরণ মেনে নিতে পারি না।”
২১ বছর বয়সী লাইথ সালেমসহ আরও কয়েকজন পাল্টা-বিক্ষোভকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর হুমকির কথা জানতে পেরে মসজিদের সামনে উপস্থিত হন। তারা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গড়ায়, তা সরাসরি দেখতে চেয়েছিলেন।
ডেট্রয়েটের বাসিন্দা সালেম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী ও পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের মুখোমুখি সংঘাত সৃষ্টি হলে তা খুব দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ হয়তো প্রথমে উসকানিমূলক কিছু করার চেষ্টা করতে পারে। আর ঠিক এ কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখানে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।”
হ্যামট্রাম্যাকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-নাকিব বলেন, “আমরা চাই, এখানে আসা প্রত্যেক মানুষ যেন নিজেদের স্বাগত ও সম্মানিত মনে করেন। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে কিংবা অন্য কেউ বিদ্বেষ ছড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় কেউ যেন নিজেদের অনিরাপদ বা হুমকির মুখে আছে বলে অনুভব না করেন।”
আল-নাকিব আরও বলেন, “এই মুহূর্তে অনেক মানুষ গভীরভাবে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। অনেকের মনেই হতাশা ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। পুরো পরিস্থিতিটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক।”
৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলম হ্যামট্রাম্যাক শহরটিকে—যেখানে ইয়েমেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা বসবাস করেন—মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি “আশার বাতিঘর” হিসেবে উল্লেখ করেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com