একটি বেড়ার অনুমতি থেকে শুরু, শেষ পর্যন্ত ফেডারেল কোর্টে মামলা

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০২:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০২:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন
ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ, ২১ মে : বাড়ির চারপাশে একটি সাধারণ ভিনাইল বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয়েছিল সবকিছু। কিন্তু সেই পরিকল্পনাই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে অ্যান্ড্রু মেইন এবং ন্যাটালি মেইন  দম্পতির জীবনে।
২০২৪ সালে বাড়ির জন্য বেড়া নির্মাণের অনুমতি (পারমিট) নিতে গিয়ে তারা জড়িয়ে পড়েন জটিল প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায়। টাউনশিপের নির্ধারিত নানা শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করেছেন এই দম্পতি।
জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নকশা প্রস্তুতের জন্য তারা একজন সার্ভেয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, একজন পরিবেশ পরামর্শদাতা, একজন ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনার, একজন ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেক্ট এবং তিনজন আইনজীবী নিয়োগ করেন। এতকিছুর পরও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তারা কাঙ্ক্ষিত অনুমতি পাননি।
এরই মধ্যে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন তারা। ওকল্যান্ড কাউন্টির টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে জোনিং বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তবে মেইন দম্পতির দাবি, যেসব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলোই তারা ২০২৪ সালে বাড়িটিতে বসবাস শুরু করার আগেই সেখানে ছিল।
দম্পতির ভাষ্য, একটি সাধারণ বেড়ার অনুমতি নিতে গিয়ে তারা এখন দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি লড়াই এবং মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন। আর তাদের মতে, পুরো ঘটনার সবচেয়ে কষ্টদায়ক দিক এখনো সামনে আসেনি।
৩৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু মেইন ২০২৪ সালে টাউনশিপের পরিবেশ ব্যবস্থাপককে জানান, তাদের পাঁচ সন্তানের একজন অটিজমে আক্রান্ত এবং তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার জন্যই মূলত তারা বেড়াটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।
পরিবারটির সম্প্রতি দায়ের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টাউনশিপের পরিবেশ ব্যবস্থাপক জন রোডা তখন মেইনকে পরামর্শ দেন, পারমিটের প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি যেন তার সন্তানের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি “কুকুরের খাঁচা” তৈরি করে রাখেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে অ্যান্ড্রু মেইন যখন এই মন্তব্যের কথা তার স্ত্রী  ন্যাটালি মেইনকে জানান—যিনি সে সময় ৩৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন—তখন তিনি গভীরভাবে মানসিক আঘাত পান এবং প্রচণ্ডভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পরই তার প্রসব-বেদনা শুরু হয়।
আইনি অভিযোগপত্রে বলা হয়, “মেইন দম্পতির কাছে রোডার এই পরামর্শ অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অপমানজনক এবং মানসিকভাবে পীড়াদায়ক বলে মনে হয়েছিল।”
গত ১ মে ডেট্রয়েটের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই আইনি মামলাটি দায়ের করেন মেইন দম্পতি এবং তাদের ছেলে। মামলায় ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, টাউনশিপের প্রণীত বিধিমালা তাদের পরিবারের ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া’ পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে, টাউনশিপের আইনজীবী আলানা নক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
একটি ই-মেইল বার্তায় নক্স বলেন, “আপনার উল্লেখ করা মামলাটি নিয়ে টাউনশিপ কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য নেই। কারণ, মামলার সমন বা নোটিশ এখনো যথাযথভাবে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়নি।” তবে মামলার অভিযোগপত্রটি ঠিক কীভাবে ‘যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি’—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com