বহুমাত্রিক নজরুল -প্রতিভার অপ্রতিম উদাহরণ 'ধূমকেতু 'পত্রিকা। ( প্রকাশকাল ১১ আগস্ট, ১৯২২)
সংবাদপত্র ও রাজনীতি একই সূত্রে গাঁথা, দূরদর্শী কবির এ উপলব্ধি থেকেই 'ধূমকেতু'র জন্ম।
নির্যাতিত মানবতার দৃপ্ত ভাষ্য পত্রিকাটি শীঘ্রই অচিন্তিতপূর্ব জনপ্রিয়তার শিখরে আরোহন করে। ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হওয়াই ছিল পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। পত্রিকায় নজরুল অমিত পৌরুষের পরিচয়বাহী অনেক অনল-বর্ষী প্রবন্ধ লিখে অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পতিত হন।
'ধূমকেতু 'পত্রে 'আনন্দময়ীর আগমনে' নামক একটি সুদীর্ঘ উদ্দীপনামূলক কবিতা প্রকাশিত হলে রাজদ্রোহিতার অভিযোগে নজরুল এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। (১৯২৩)
প্রেসিডেন্সি জেলে অবস্থান কালে কারা জীবনের অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাঝেও কবি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে কাব্যের ফুল ফুটিয়েছেন। যেন জাহান্নামের আগুনে বসে হেসেছেন পুষ্পের হাসি। এ ফুলের নাম 'দোলনচাঁপা '। (১৯২৩)
'দোলনচাঁপা 'কাব্যের কবিতাগুলো জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে কারারক্ষীদের সহায়তায় পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় বাইরে নিয়ে আসেন। নজরুলের নির্দেশক্রমে এসব কবিতার সমন্বয়ে' দোলনচাঁপা 'প্রকাশিত হয়। প্রকাশক আর্য পাবলিশিং হাউস। প্রথম সংস্করণে ছিল ১৯টি কবিতা। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে 'কবিতাটি মুখবন্ধ হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথম সংস্করণের অন্তর্গত কবিতা সমূহ হচ্ছে- 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' (এটি সূচিপত্রে ছিল না), 'দোদুল দোল' 'বেলা শেষে ', 'পউস', 'পথহারা', 'ব্যথাগরব', 'উপেক্ষিত',' সমর্পণ', 'পুবের চাতক', 'অবেলার ডাক', 'চপলসাথী',পূজারিণী, 'অভিশাপ', 'আশান্বিতা', 'মুখরা' 'সাধের ভিখারিনী', 'কবি-রাণী', 'আশা,' শেষপ্রার্থনা'।
এ কাব্য বিদ্রোহ -বিপ্লবের রণতূর্যে উদ্দীপিত নয়। বরং বাঁশের বাঁশরীর ললিত সুরে চির সুন্দরের আরাধনা। যেন সুরম্য গভীর অন্তর্জাত সংরাগের মায়াবি মধুরতা।
হৃদয়ধর্মী কবির চিত্র -বিচিত্র অন্তঃকরণ, প্রেম সম্পর্কিত অস্থির মানসিকতা, অনুরাগ-বিরাগ, মান-অভিমান, দ্বন্দ্ব-সংশয় প্রভৃতিতে কাব্যের প্রাণধারা শত ধারায় উৎসারিত। এক কথায় ভোগবাদ ও দুর্নিবার দেহাশক্তি 'দোলনচাঁপা' কাব্যের মূল সুর।
কাব্যের অঙ্গীভূত 'পূজারিণী' কবিতাটি নজরুলের অন্যান্য প্রেম নির্ভর কাব্যগ্রন্থের দর্পণ স্বরূপ। নজরুলের প্রেম প্রধানত মানবিক ও দেহস্পর্শতপ্ত। দুঃখ, সন্দেহ, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ইত্যাদির বিলোড়নে দোলনচাঁপা কাব্যে নজরুলের মানবীয় প্রেম গুঞ্জরিত। 'পূজারিণী' কবিতা এ ক্ষেত্রে দীপ্র উদাহরণ।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. সুশীল কুমার গুপ্ত তাঁর 'নজরুল- চরিতমানস' গ্রন্থে বলেন , 'প্রিয়ার সঙ্গে জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্কের পরিকল্পনা পৃথিবীর বিভিন্ন মহৎ কবির প্রিয় বিষয়বস্তু। এই দূর বিস্তৃত আত্মীয়তার ধারণায় প্রেমের গভীরতা, মহনীয়তা ও উজ্জ্বলতা প্রকাশিত। যুগ যুগান্তরের কড়িকোমল সুরে, আলো ছায়ার আলপনায়, ও ব্যঞ্জনায় প্রেম জীবনের আলোকে নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।'
নজরুল বলেন,'
'বিজয়িনী নহ তুমি, নহ ভিখারিণী /
তুমি দেবী চির শুদ্ধা তাপস কুমারী, তুমি মম চির পূজারিণী । '
বস্তুত, প্রেমিক কবি নজরুলের আবেগ অনুভূতির বিচিত্র লীলা -লাস্যে কারা কক্ষে রচিত কাব্য 'দোলনচাঁপা' অনন্য শিল্প -প্রমূর্তির ব্যঞ্জনাবাহী।
সংবাদপত্র ও রাজনীতি একই সূত্রে গাঁথা, দূরদর্শী কবির এ উপলব্ধি থেকেই 'ধূমকেতু'র জন্ম।
নির্যাতিত মানবতার দৃপ্ত ভাষ্য পত্রিকাটি শীঘ্রই অচিন্তিতপূর্ব জনপ্রিয়তার শিখরে আরোহন করে। ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হওয়াই ছিল পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। পত্রিকায় নজরুল অমিত পৌরুষের পরিচয়বাহী অনেক অনল-বর্ষী প্রবন্ধ লিখে অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পতিত হন।
'ধূমকেতু 'পত্রে 'আনন্দময়ীর আগমনে' নামক একটি সুদীর্ঘ উদ্দীপনামূলক কবিতা প্রকাশিত হলে রাজদ্রোহিতার অভিযোগে নজরুল এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। (১৯২৩)
প্রেসিডেন্সি জেলে অবস্থান কালে কারা জীবনের অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাঝেও কবি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে কাব্যের ফুল ফুটিয়েছেন। যেন জাহান্নামের আগুনে বসে হেসেছেন পুষ্পের হাসি। এ ফুলের নাম 'দোলনচাঁপা '। (১৯২৩)
'দোলনচাঁপা 'কাব্যের কবিতাগুলো জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে কারারক্ষীদের সহায়তায় পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় বাইরে নিয়ে আসেন। নজরুলের নির্দেশক্রমে এসব কবিতার সমন্বয়ে' দোলনচাঁপা 'প্রকাশিত হয়। প্রকাশক আর্য পাবলিশিং হাউস। প্রথম সংস্করণে ছিল ১৯টি কবিতা। প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে 'কবিতাটি মুখবন্ধ হিসেবে গণ্য হয়।
প্রথম সংস্করণের অন্তর্গত কবিতা সমূহ হচ্ছে- 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' (এটি সূচিপত্রে ছিল না), 'দোদুল দোল' 'বেলা শেষে ', 'পউস', 'পথহারা', 'ব্যথাগরব', 'উপেক্ষিত',' সমর্পণ', 'পুবের চাতক', 'অবেলার ডাক', 'চপলসাথী',পূজারিণী, 'অভিশাপ', 'আশান্বিতা', 'মুখরা' 'সাধের ভিখারিনী', 'কবি-রাণী', 'আশা,' শেষপ্রার্থনা'।
এ কাব্য বিদ্রোহ -বিপ্লবের রণতূর্যে উদ্দীপিত নয়। বরং বাঁশের বাঁশরীর ললিত সুরে চির সুন্দরের আরাধনা। যেন সুরম্য গভীর অন্তর্জাত সংরাগের মায়াবি মধুরতা।
হৃদয়ধর্মী কবির চিত্র -বিচিত্র অন্তঃকরণ, প্রেম সম্পর্কিত অস্থির মানসিকতা, অনুরাগ-বিরাগ, মান-অভিমান, দ্বন্দ্ব-সংশয় প্রভৃতিতে কাব্যের প্রাণধারা শত ধারায় উৎসারিত। এক কথায় ভোগবাদ ও দুর্নিবার দেহাশক্তি 'দোলনচাঁপা' কাব্যের মূল সুর।
কাব্যের অঙ্গীভূত 'পূজারিণী' কবিতাটি নজরুলের অন্যান্য প্রেম নির্ভর কাব্যগ্রন্থের দর্পণ স্বরূপ। নজরুলের প্রেম প্রধানত মানবিক ও দেহস্পর্শতপ্ত। দুঃখ, সন্দেহ, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ইত্যাদির বিলোড়নে দোলনচাঁপা কাব্যে নজরুলের মানবীয় প্রেম গুঞ্জরিত। 'পূজারিণী' কবিতা এ ক্ষেত্রে দীপ্র উদাহরণ।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. সুশীল কুমার গুপ্ত তাঁর 'নজরুল- চরিতমানস' গ্রন্থে বলেন , 'প্রিয়ার সঙ্গে জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্কের পরিকল্পনা পৃথিবীর বিভিন্ন মহৎ কবির প্রিয় বিষয়বস্তু। এই দূর বিস্তৃত আত্মীয়তার ধারণায় প্রেমের গভীরতা, মহনীয়তা ও উজ্জ্বলতা প্রকাশিত। যুগ যুগান্তরের কড়িকোমল সুরে, আলো ছায়ার আলপনায়, ও ব্যঞ্জনায় প্রেম জীবনের আলোকে নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।'
নজরুল বলেন,'
'বিজয়িনী নহ তুমি, নহ ভিখারিণী /
তুমি দেবী চির শুদ্ধা তাপস কুমারী, তুমি মম চির পূজারিণী । '
বস্তুত, প্রেমিক কবি নজরুলের আবেগ অনুভূতির বিচিত্র লীলা -লাস্যে কারা কক্ষে রচিত কাব্য 'দোলনচাঁপা' অনন্য শিল্প -প্রমূর্তির ব্যঞ্জনাবাহী।