বাজেট সম্পর্কে অনাগ্রহী চা শ্রমিকদের ভরসা এমপি ফয়সলের কল্যাণ উদ্যোগ

আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:২২:০৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ), ১০ জুন : জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১৭টি চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট যেন এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত; বরং দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামই তাদের প্রধান চিন্তার বিষয়।
চুনারুঘাট উপজেলার ছন্ডি, চান্দপুর, আমু, নালুয়া, পারকুল ও লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় বাজেট কী, এতে তাদের জন্য কী বরাদ্দ থাকে কিংবা এর প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পড়ে- এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অধিকাংশ শ্রমিকের।
আমু চা বাগানের শ্রমিক নৃপেন তাতী বলেন, “বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না, সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।”
একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না।”
তবে চা শ্রমিকদের মধ্যে আশার কথাও শোনা গেছে। মাধবপুর-চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ-৪) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল চা শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, ইতোমধ্যে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগে সেই আশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন চা বাগানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে একাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন, শ্রমিকদের কর্মবিরতির সময়ে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাটের চা বাগানগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধার সংকট দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিত্যসঙ্গী। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি চা বাগানে বকেয়া মজুরি ও রেশন বিতরণ নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। হবিগঞ্জের বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলন ও কর্মবিরতিও পালন করেছেন।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষার জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামত ও বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কম মজুরি, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে তারা জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বাজেট ঘোষণার পর আলোচনা শুধু শহরকেন্দ্রিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও এর প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও প্রত্যাশা বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। চা বাগানের শ্রমিকদের ভাষায়, “বাজেটের খুঁটিনাটি বুঝি না, তবে এমন বাজেট চাই, যাতে আমাদের জীবনটা একটু ভালো হয়।”

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com