হ্যামট্রাম্যাক, ১২ জুন : এক উত্তপ্ত বৈঠকে সিটি কাউন্সিল চলতি সপ্তাহে সিটি ম্যানেজার আদেল আল-আদলানিকে বরখাস্ত করেছে। এর ফলে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে হ্যামট্রাম্যাকের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে চতুর্থবারের মতো পরিবর্তন ঘটল।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাউন্সিল ৪-২ ভোটে আল-আদলানিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিটি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বরখাস্তের সিদ্ধান্তের আগে বৈঠকে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। শহরের নেতারা কার্যপ্রণালী-সংক্রান্ত নিয়মকানুন এবং আল-আদলানির প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে কাউন্সিলের কোনো সদস্যই তাঁকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি।
বরখাস্তের পক্ষে ভোট দেওয়া কাউন্সিলম্যান ইউসুফ সাঈদ দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে আল-আদলানি ২০টিরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের প্রকৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
হ্যামট্রাম্যাক পাবলিক লাইব্রেরি প্রকাশিত বৈঠকের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাঈদ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আল-আদলানি প্রমাণ করেছেন যে তিনি এই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নন। ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিবর্তে তিনি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন।” এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আল-আদলানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হাসান, যিনি আল-আদলানিকে বরখাস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, বৈঠকে কাগজপত্রের একটি মোটা ফাইল প্রদর্শন করে বলেন, কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে যে কেউ ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট (FOIA)-এর আওতায় তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে, বরখাস্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়া কাউন্সিলম্যান নাঈম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, শহরের কয়েকজন নেতার “অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের” সঙ্গে আপস না করায় আল-আদলানিকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো সহকর্মীর নাম উল্লেখ করেননি। চৌধুরী বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করেছেন। সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো তিনি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন।”
হ্যামট্রাম্যাক সিটির প্রশাসনে অস্থিরতা নতুন নয়। এর আগে, তৎকালীন পুলিশ প্রধান জামিল আলতাহেরিকে ঘিরে উদ্বেগজনক তথ্যসম্বলিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পরে তিনি পদত্যাগ করেন।
ওই ঘটনার পর ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন সিটি ম্যানেজার ম্যাক্স গারবারিনোকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর প্রায় এক মাসব্যাপী অনুসন্ধান ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদেল আল-আদলানিকে সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
গারবারিনোকে বরখাস্ত করার পর শহরের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আমির আহসান ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, গত অক্টোবর মাসে সহকারী সিটি প্রসিকিউটর অ্যালেক্স ল্যাগ্রুকে অন্তর্বর্তীকালীন সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আল-আদলানির অপসারণের পর আহসান আবারও ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন।
আল-আদলানিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় কাউন্সিল সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, গারবারিনোর বিদায়ের পর সৃষ্ট প্রশাসনিক অস্থিরতা কাটিয়ে তিনি শহরকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।
জনপ্রশাসনে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী আল-আদলানি অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে হ্যামট্রাম্যাকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তবে তাঁর বিদায়ের পর নতুন সিটি ম্যানেজার নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেয়র অ্যাডাম আলহারবি। মঙ্গলবারের বৈঠকে তিনি বলেন, “হ্যামট্রাম্যাকে সিটি ম্যানেজার হওয়ার জন্য কেউ আবেদন করতে চায় না।”
মেয়রের এই মন্তব্য শহরটির শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বারবার পরিবর্তন এবং যোগ্য নেতৃত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাউন্সিল ৪-২ ভোটে আল-আদলানিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিটি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বরখাস্তের সিদ্ধান্তের আগে বৈঠকে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। শহরের নেতারা কার্যপ্রণালী-সংক্রান্ত নিয়মকানুন এবং আল-আদলানির প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে কাউন্সিলের কোনো সদস্যই তাঁকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি।
বরখাস্তের পক্ষে ভোট দেওয়া কাউন্সিলম্যান ইউসুফ সাঈদ দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে আল-আদলানি ২০টিরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের প্রকৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
হ্যামট্রাম্যাক পাবলিক লাইব্রেরি প্রকাশিত বৈঠকের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাঈদ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আল-আদলানি প্রমাণ করেছেন যে তিনি এই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নন। ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিবর্তে তিনি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন।” এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আল-আদলানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হাসান, যিনি আল-আদলানিকে বরখাস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, বৈঠকে কাগজপত্রের একটি মোটা ফাইল প্রদর্শন করে বলেন, কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে যে কেউ ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট (FOIA)-এর আওতায় তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে, বরখাস্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়া কাউন্সিলম্যান নাঈম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, শহরের কয়েকজন নেতার “অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের” সঙ্গে আপস না করায় আল-আদলানিকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো সহকর্মীর নাম উল্লেখ করেননি। চৌধুরী বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করেছেন। সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো তিনি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন।”
হ্যামট্রাম্যাক সিটির প্রশাসনে অস্থিরতা নতুন নয়। এর আগে, তৎকালীন পুলিশ প্রধান জামিল আলতাহেরিকে ঘিরে উদ্বেগজনক তথ্যসম্বলিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং পরে তিনি পদত্যাগ করেন।
ওই ঘটনার পর ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন সিটি ম্যানেজার ম্যাক্স গারবারিনোকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর প্রায় এক মাসব্যাপী অনুসন্ধান ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদেল আল-আদলানিকে সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
গারবারিনোকে বরখাস্ত করার পর শহরের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আমির আহসান ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, গত অক্টোবর মাসে সহকারী সিটি প্রসিকিউটর অ্যালেক্স ল্যাগ্রুকে অন্তর্বর্তীকালীন সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আল-আদলানির অপসারণের পর আহসান আবারও ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন।
আল-আদলানিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিটি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় কাউন্সিল সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, গারবারিনোর বিদায়ের পর সৃষ্ট প্রশাসনিক অস্থিরতা কাটিয়ে তিনি শহরকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।
জনপ্রশাসনে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী আল-আদলানি অর্থনৈতিক উন্নয়ন খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে হ্যামট্রাম্যাকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তবে তাঁর বিদায়ের পর নতুন সিটি ম্যানেজার নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেয়র অ্যাডাম আলহারবি। মঙ্গলবারের বৈঠকে তিনি বলেন, “হ্যামট্রাম্যাকে সিটি ম্যানেজার হওয়ার জন্য কেউ আবেদন করতে চায় না।”
মেয়রের এই মন্তব্য শহরটির শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বারবার পরিবর্তন এবং যোগ্য নেতৃত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com